এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > লোকসভা নির্বাচনে গ্রামীণ ভোটারদের মন পেতেই কি কৃষিঋণে বড়সড় ছাড়ের পথে রাজ্য?

লোকসভা নির্বাচনে গ্রামীণ ভোটারদের মন পেতেই কি কৃষিঋণে বড়সড় ছাড়ের পথে রাজ্য?

লোকসভা ভোটোর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে গ্রামীণ কৃষক এবং মহিলাদের জন্যে বড়সড় খুশির খবর দিল রাজ্যসরকার। আগামী মাস অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকেই কৃষিঋণে এক ধাক্কায় সুদের হারে দুই শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যসরকার। এর সঙ্গেই আগামী আর্থিক বছরে অর্থাৎ ২০১৯-২০ সালে কৃষিঋণের পরিমানও বাড়ানো হয়েছে অনেকটাই।

চলতি আর্থিক বছরের তুলনায় প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে সমবায় দপ্তর। খুশির হাসি ফুটেছে গ্রামীণ কৃষক ও মহিলাদের মুখে। শীতাকালীন বিধানসভার বাজেট অধিবেশন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবুজ সংকেত পেয়েই এই নির্দেশিকা জারি করল সমবায় দপ্তর।

সমবায় সূত্রের খবর,এতোদিন নিয়ম ছিল রাজ্যের কৃষকদের ৭% হারে কৃষিঋণ পাওয়ার। তাঁরা ঋণ শোধ করে দিলেই সরকার ৩% সুদের টাকা ফিরিয়ে দিত। এতে কৃষকদের মাত্র ৪% হারে সুদ দিতে হত। কিন্তু এবারের নিয়ম অনুসারে রাজ্যসরকার ৫% হারে কৃষকদের ঋণের টাকা ফিরিয়ে দেবে। এতো কম শতাংশ হারে সুদ অন্য কোনো রাজ্য দেয় না বলেই দাবীতে জানালেন সমবায় দপ্তরের অফিসাররা।

এছাড়া ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা কৃষিঋণ দিয়েছে সমবায় দপ্তর। এই ঋণের পরিমানই আগামী আর্থিক বছর থেকে অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ আগামী আর্থিক বছরে কৃষিঋণ বাবদ আট হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বেশি কৃষিঋণ দেওয়া হবে।

এর পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোও লাভবান হতে চলেছে আগামী আর্থিক বছর থেকে। চলতি আর্থিক বছরের তুলনায় আরো ২০০ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ করা হল ঋণ বাবদ। অর্থাৎ চলতি আর্থিক বছর ১০০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল।

এবার সেটাই আগামী আর্থিক বছর থেকে১২০০ কোটি টাকা হয়ে যাবে। প্রতিবছর নতুন নতুন স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলো পশ্চিমবঙ্গ স্বরোজগার নিগমের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করে। ফলত এই প্রকল্পে রাজ্যসরকার বরাদ্দ বাড়িয়ে দিয়ে তাদের কাজ আরো উৎসাহ দিল। আরো বেশি সংখ্যক মহিলাকে এখন এই প্রকল্পের আওতায় আনা সম্ভব হবে। যার জেরে আরো বেশি সংখ্যক মহিলারা মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে রোজগারের পথে পা বাড়ালেন,এমনটাই মনে করছেন দপ্তরের অফিসাররা।

তবে লোকসভা ভোটের প্রস্তুতি পর্বেই কেন কৃষিঋণে বড়সড় ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যসরকার? আর কেনই বা স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের জন্যে বরাদ্দ বাড়াল? এ প্রশ্ন থেকেই যায়। কার্যত গ্রামীণ এলাকার ভোটের উপরই রাজ্যের ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করে। সেই কারনেই গ্রামের মানুষগুলোকে খুশি করতে নয়া কৌশল এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। গ্রামীন ভোটব্যাঙ্কগুলোকে আয়ত্ত্বে রাখতেই ঠিক লোকসভা ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে ফ্রন্টফুটে খেললেন নেত্রী। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিকমহল।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তবে সমবায় দপ্তরের কর্তাদের দাবী,লোকসভা ভোট কোনো কারণ নয়। আগাগোড়াই নেত্রী গ্রামীণ মানুষের উন্নতির কথা ভেবে এসেছেন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হাত ধরে কীভাবে গ্রামীন মহিলার কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে সেদিকে বরাবরই নজর ছিল নেত্রীর। এবারও গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষগুলোর সুবিধা করে দিতেই মুখ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!