এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > ফিরে আসার অঙ্গীকার নিয়ে ছক্কার পর ছক্কা হাঁকিয়ে লোকসভার বিদায়ী ভাষণ জমিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ফিরে আসার অঙ্গীকার নিয়ে ছক্কার পর ছক্কা হাঁকিয়ে লোকসভার বিদায়ী ভাষণ জমিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

টান টান উত্তেজনা নিয়ে ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকারের শেষ বাজেট অধিবেশন শেষ হল। ১৬তম লোকসভার অন্তিম অধিবেশন ছিল এটি। এরপরই আসবে ১৭তম লোকসভা ভোট। দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সেই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা আসার আর বেশিদিন বাকি নেই। আর মাত্র ৩-৪ মাসের অপেক্ষা।

তার আগে অধিবেশন শেষবার ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভাষণের বেশি অংশ জুড়েই কেবল ধন্যবাদ জ্ঞাপনই ছিল। তাঁর মধ্যে নিজের চিরাচরিত স্টাইলে রসিকতার ছলে বিরোধীদের বিঁধতে ছাড়লেন না মোদী। সুযোগ বুঝে আবারও কটাক্ষ করেলেন বিরোধীদের মহাজোটকে।

নিজের জোটবিরোধী বক্তব্যে একটি দলকে ক্ষমতায় আনার স্বপক্ষে সওয়াল করেন মোদী। অর্থাৎ তিনি জোটের ভবিষ্যতকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করান। এর আগেও সংসদে ভাষণ রাখতে গিয়ে বিরোধীদের মহাজোটকে কটাক্ষ করে ‘গোঁজামিলের জোট’ বলে তোপ দাগেন মোদী।

২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে বেশি আসন পেয়েই এনডিএ সরকার কেন্দ্রের ক্ষমতায় আসে। সংসদে পূর্ণ বহুমত পেয়েছিল সেবার। সেই প্রসঙ্গে এদিন বলতে গিয়েই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন মোদী। বলেন,স্বাধীনতার পর কংগ্রেসের গন্ডির বাইরে প্রথমবার সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিয়ে এনডিএ সরকার ক্ষমতায় আসে। কংগ্রেস গোত্রের বাইরে গিয়ে জোট সরকার গঠন হয়েছিল অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলে। তবে ২০১৪ সালে বিজেপি সরকার পূর্ণ বহুমত নিয়েই ক্ষমতায় আসে। একথা বলে তিনি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে দেশের ক্ষমতায় আনার পক্ষে সওয়াল করেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

এরপর গত পাঁচ বছরে বিজেপি সরকার দেশের হিতার্থে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা বিস্তারে তুলে ধরেন। বলেন,সংসদ আগামী শতাব্দীর সেবা করেছে। সংসদে পেশ হওয়া ২২৩ টি বিলের মধ্যে ২০৩ টি বিল পাশ হয়েছে। বিজেপি সরকার দুর্নীতি এবং কালো টাকা বিরোধী আইন এনে নিজেদের স্বচ্ছতার প্রমাণ দিয়েছে। বেনামি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা ও আর্থিক অপরাধ করে পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্তদের ধরে এনে আইনের সামনে পেশ করতে কঠোর আইন বানিয়েছে।

এনডিএ সরকারের লোকসভায় প্রথমবার ৪৪ জন মহিলা সাংসদ এনেছে। জিএসটি বিলের পাশাপাশি এই সরকার আধার বিল পাশ করিয়েছে। শত্রু বিনাশ বিলও পাশ হয়েছে এই সরকারের উদ্যোগেই। সংসদেদের মাইনে বাড়ানো নিয়ে যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল সেটারও স্থায়ী সমাধান করেছে এই সরকার। ইংরেজ আমল থেকে চলতে থাকা অপ্রয়োজনীয় ১৪০০ টিরও বেশি আইন বাতিল করেছে এনডিএ সরকার।

বিজেপি সরকার বিরোধী মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গেই সংসদে সবথেকে বেশি বাদানুবাদ হয়েছে মোদীর। তবে সবশেষে তাকেও ধন্যবাদ জানিয়ে নিজের সৌজন্যবোধের পরিচয় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। লালকৃষ্ণ আডবাণী এবং খাড়গে দীর্ঘদিন ধরে সাংসদ হওয়ায়ও পরই সংসদে বসে থেকে সভার কথা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শুনেছেন,এর জন্যে তাঁদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদীর ভাষণের পর লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজনও এনডিএ সরকারের শেষ অধিবেশন বক্তব্য রাখেন। সংসদে হাজির সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে একসঙ্গে চলার বার্তা দেন। এই লোকসভায় কোনো জায়গা ফাঁকা থেকে গেলে আগামী লোকসভায় যাতে সাংসদরা কাজ করতে পারেন সেই নিশ্চিত করতেই সকলকে আহ্বান জানিয়ে অধিবেশনের ইতি টানেন তিনি।

Top
error: Content is protected !!