এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > লোকসভায় বিজেপি ঝড়ে নীচুতলার সংগঠন ভেঙে চুরমার! পুরভোট থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে বড়োসড়ো সিদ্ধান্ততৃনমূলের

লোকসভায় বিজেপি ঝড়ে নীচুতলার সংগঠন ভেঙে চুরমার! পুরভোট থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে বড়োসড়ো সিদ্ধান্ততৃনমূলের

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া জেলার দুটি লোকসভা কেন্দ্রেই পদ্মফুল ফুটেছে। তাই আগামী পৌরসভা নির্বাচনে জেলার তিনটি পৌরসভা দখলে রাখা এখন সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে। আগামী বছরের শুরুতেই পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দুর্গাপূজার পরপরই সমস্ত রাজনৈতিক দল যে কোমর বেঁধে পৌরসভা নির্বাচনের জন্য মাঠে নেমে পড়বেন, সেই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

নিচুতলার সংগঠনে লোকসভা ভোটে দলের ভরাডুবি যে চূড়ান্ত ভাবে আঘাত এনেছে, তা বুঝতে বাকি নেই তৃণমূলের নেতাদের। তাই পৌরসভা নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে চায় ঘাসফুল শিবির। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের আগেই দলীয় অবস্থান নিয়ে পর্যালোচনা করবেন বাঁকুড়া জেলার পর্যবেক্ষক তথা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এই পর্যালোচনা আগামী 19 তারিখে হবে বলে তৃণমূল সূত্রে খবর।

এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বাঁকুড়া জেলার সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শুভাশিস বটব্যাল বলেন, “সেপ্টেম্বর মাসের 19 তারিখে জেলা তৃণমূল পর্যবেক্ষক তথা পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাঁকুড়া জেলায় আসবেন। পুরুলিয়া থেকে এসে জেলা কার্যালয়ে দলীয় বৈঠক সেরে পৌরসভার একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।” তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে জানা গেছে, 19 তারিখে বৈঠকে পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দুবাবু কমিটির সদস্যদেরকে নিয়ে সার্বিক অবস্থার বিষয়ে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি তিনি পৌরসভার কাউন্সিলর এবং ওয়ার্ডের নেতাদেরকে নিয়ে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন। আর ওই বৈঠক থেকেই স্থির হবে কোন প্রক্রিয়ায় দলের দুরাবস্থাকে দূরে সরিয়ে পুনরায় স্বমহিমায় বাঁকুড়া জেলার মাটিতে তৃণমূল কংগ্রেস তার সংগঠনকে শক্তিশালী ভাবে দাঁড় করাতে পারবে।

পাশাপাশি কোন নেতার নেতৃত্বে দল নিজের সংগঠনকে পৌরসভা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করবে তাও এদিনের বৈঠক থেকে স্থির করে দিতে পারেন বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক তথা পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দলের কিছু নেতা কর্মীদের নিয়ে কয়েকদিন আগেই শুভেন্দু বাবু কলকাতায় একটি বৈঠক করে বাঁকুড়া জেলার পৌরসভা নির্বাচনের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আর 19 তারিখের বৈঠকে কমিটির প্রধান বা কয়েকজনকে একটি মনিটরিং কমিটির দায়িত্ব দেবেন শুভেন্দুবাবু।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

কিন্তু অনেকের মতেই, লোকসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূল স্তরে তৃণমূলের সংগঠন যেভাবে ভেঙে পড়েছে বাঁকুড়া জেলার তিনটি পৌরসভা এলাকাতে, তাতে সেই সংগঠনকে আবার নিজের পায়ে দাঁড়কড়ানো এখন রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হতে পারে জেলা তৃণমূলের কাছে। যদিও সংগঠনের এই অবস্থাকে মানতে নারাজ বাঁকুড়া জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের একটি বড় অংশ। তাদের মতে, দলের অন্দরে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের জন্যই সংগঠনের অবস্থা খারাপ হয়েছে। যে সমস্ত নেতৃত্ব তৃণমূল কংগ্রেস দলকে শুধু নিজের স্বার্থসিদ্ধির অবলম্বন হিসেবে বেছে নিয়েছে, তাদের জন্যই সাধারণ মানুষ দলকে ভুল বুঝেছে। লোকসভা ভোটে দলের ভরাডুবি তারই নিদর্শন। কিন্তু বাঁকুড়ার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর থেকে কখনও ভরসা ত্যাগ করেননি বরং মানুষের আশীর্বাদ এখনও রয়েছে দলনেত্রীর উপরে। তাই এলাকাভিত্তিক ভাবে যদি নিষ্কর্ম পদাধিকারীদেরকে পরিবর্তন করে কাজের মানুষদেরকে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া যায়, তবে সংগঠন পুনরায় চাঙ্গা হয়ে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত পৌরসভা নির্বাচনে এই বাঁকুড়া পৌরসভার 24 টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ১২, বিজেপি ২ এবং কংগ্রেস একটি আসন পায়। সে সময় নির্দল প্রার্থী সমর্থন নিয়ে চেয়ারম্যান হন মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত। পাশাপাশি দিলীপ আগরওয়াল ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। শাসক দলের নেতৃত্বদের মতে, রাজ্য সরকার যেরকম উন্নয়নের কর্মসূচি বাঁকুড়া জেলার জন্য করেছেন, তা কিছু মানুষের কাছে সঠিকভাবে প্রচার করা হলে মানুষের বিজেপির প্রতি মোহ ভেঙ্গে যাবে।

তবে গোটা লোকসভা নির্বাচনে পেক্ষাপটে দেখা যায়, এই পৌরসভার 24 টি ওয়ার্ড। যার মধ্যে 19 নম্বর ওয়ার্ড বাদ দিলে বাকি সবকটি কাউন্সিলরই নিজের আসন হারিয়েছিল। শুধুমাত্র 19 নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস 581 ভোটে লিড পায়। আর সমগ্র শহর অঞ্চলে 22 হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিল ভারতীয় জনতা পার্টি।

এছাড়াও শাসক দলকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে পুরসভার চেয়ারম্যানের এলাকা থেকেই 1762 ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী। এখানেই শেষ নয়, বাঁকুড়ার বিধায়ক শম্পা দড়িপা থেকে শুরু করে প্রাক্তন জেলা সভাপতি অরূপ খাঁ, বিদায়ী জেলা পরিষদের সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী, পৌরসভার উপপৌরাধ্যক্ষ দিলীপ আগরওয়াল এবং বর্তমানে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক নেতা নিজেদের ওয়ার্ডগুলোতে পর্যন্ত নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসকে এগিয়ে রাখতে পারেননি। তাই পৌরসভাগুলিতে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর জন্য শুভেন্দুবাবু কি কি কাজ করেন! এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!