এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > নারীদের নিয়ে বাঙালি সমাজের অবমাননাকর পোস্টার! গর্জে উঠলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়

নারীদের নিয়ে বাঙালি সমাজের অবমাননাকর পোস্টার! গর্জে উঠলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়

এ যুগে এখনো মেয়েরা ভোগ্যপণ্য হিসেবে বিচার্য হয়। সমাজে মেয়েরা যতই উন্নতি করুক না কেন, অবস্থানটা সেই একই জায়গাতেই রয়ে গেছে। পুরনো দিন আর নতুন দিনের মধ্যে বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই। সম্প্রতি হায়দ্রাবাদের পশু চিকিৎসক প্রিয়াঙ্কা রেড্ডিকে গণধর্ষণ ও তাঁকে পুড়িয়ে হত্যা করার ঘটনায় সে ছবি আরেকবার সামনে এলো। তীব্র ধিক্কারে ফেটে পড়েছে গোটা দেশ। কিন্তু এত প্রতিবাদের মাঝেও এদিন কলকাতার রাস্তায় এক বির্তকিত হোডিং চোখে পড়ল, যা যথেষ্ট নিন্দনীয় এবং কুরুচিকর। সবথেকে নিন্দনীয় যে বিষয়টি তা হল এই হোর্ডিংটি কলকাতার তথাকথিত বাঙালি মহিলা সমাজ থেকে টাঙানো হয়েছে। তা নিয়েই এবার প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে অন্য একজন বাঙালি নারী।

ইতিমধ্যে নির্ভয়া কাণ্ডের ভয়াবহতা আরেকবার চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। হায়দ্রাবাদ কাণ্ডের পর যা নিয়ে গোটা দেশে মুহুর্মুহু প্রতিবাদ হয়ে চলেছে। সম্প্রতি পশুচিকিৎসক প্রিয়াঙ্কা রেড্ডিকে গণধর্ষণ করে পুড়িয়ে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় যে নির্মমতা প্রকাশ পেয়েছে, তাতে শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে সবাই। তবে প্রশ্ন এখানে এত ঢক্কানিনাদ সহযোগে বিজ্ঞাপনের পরেও মহিলারা আজও কেন নিরাপত্তা পাননা? কেন আজও রাতের অন্ধকারে মহিলাদের বিচরণ করতে গেলে একবার নয় একশো বার ভাবতে হয়! হায়দ্রাবাদের ঘটনা নিয়ে যে সময় সারাদেশ উত্তাল, সে সময় কলকাতা দেখলো অন্য ছবি। কলকাতার রাস্তায় বাঙালি মহিলা সমাজের পক্ষ থেকে একটি বিতর্কিত হোডিং দেখা গেল এদিন। যা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার হলেন অভিনেত্রী তথা হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।

এই হোর্ডিংটিতে লেখা আছে নারী দেহ প্রদর্শনকারী উত্তেজক পোশাক এর উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ করতে হবে। যা নিয়ে এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিবাদ চলছে। ইতিমধ্যে নেটিজেনরা এই বিতর্কিত হোর্ডিংয়ের প্রতিবাদে সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন। একইভাবে লকেট চ্যাটার্জিও এই প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। লকেট এই হোডিং এর ছবিটি শেয়ার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘সন্ধ্যের আগে আমায় বাড়িতে ঢুকতে হবে, জামাকাপড় আমায় দেখে পড়তে হবে, যদি কিছু ঘটনা ঘটে তাহলে তার দায় আমার, কেন? আমি মেয়ে বলে! এই ধরনের মানসিকতাকে ধিক্কার জানাই, সমাজে ছেলেদের কোন দায়িত্ব থাকবে না? সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে, নাহলে এই সমাজ মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে পারবে না… হায়দ্রাবাদ এর মত ঘটনা আরো বাড়তে থাকবে।’ এই মন্তব্যটির সাথে সাথে লকেট চট্টোপাধ্যায় হায়দ্রাবাদে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ কাণ্ডের দোষীদের তীব্র শাস্তির দাবি করেছেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

আসুন, একটু হায়দ্রাবাদ কাণ্ডটির উপর চোখ বুলানো যাক। বুধবার সন্ধ্যায় প্রিয়াঙ্কা রেড্ডি নামে এক 26 বছরের পশু চিকিৎসক নিজের স্কুটিটি টোলপ্লাজায় রেখে ক্লিনিকে যান। ক্লিনিক থেকে বেরিয়ে তিনি দেখেন, তাঁর স্কুটিটি পাংচার হয়ে গেছে এবং চারজন তাঁকে অনাবশ‍্যকভাবে সাহায্য করার জন্য জোরজবরদস্তি শুরু করেছে। এই সময় তরুণী তাঁর বোনকে ফোন করে পুরো ঘটনাটির বিবরণ দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রিয়াঙ্কার ফোন সুইচ অফ বলে। বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায়, হায়দ্রাবাদের চাতানপল্লী সেতুর কাছে একটি পোড়া দেহ পড়ে আছে। তদন্তে জানা যায়, দেহটিকে ধর্ষণ ও খুনের পরেই গায়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং এটি নিখোঁজ প্রিয়াঙ্কা রেড্ডির দেহ। এই ঘটনায় পুলিশের হাতে 4 জন দোষীর নাম আসে। এই চারজন হল, মহম্মদ আরিফ, জোল্লু শিবা, জোল্লু নবীন, চিন্তকুন্তা চেন্নাকুশভল্লু। এদেরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি সামনে আসার সাথে সাথে গোটা দেশ ভয়াবহতায় কেঁপে উঠেছে। এই চারজনের মৃত্যুদণ্ডের দাবীতে এই মুহূর্তে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী সরব হয়েছে।

48 ঘন্টা কেটে গেলেও হায়দ্রাবাদের তরুণী ও পশু চিকিৎসককে গণধর্ষণ ও পুড়িয়ে মারার ঘটনার ভয়াবহতা কাটিয়ে উঠতে পারছেনা গোটা দেশ। গ্রাস করছে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা। আর তাই দেশের নানা প্রান্তে প্রতিবাদের ঝড় ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নানা দিকে পথে নেমেছে মানুষ। কিন্তু তার মধ্যেই বাংলার মানুষের প্রতিবাদকে অনেকটাই ছোট করে দিয়েছে বাঙালি নারী সমাজের অবমাননাকর পোস্টার। নেটিজেনদের মধ্যে অনেকেই বলছেন, যদি পোশাকই ধর্ষণের একমাত্র কারণ হয়, তাহলে বোরখা পরিহিত মহিলারা ধর্ষণকারীদের শিকার হতেন না কিংবা ছোট শিশুরাও ধর্ষণকারীদের হাত থেকে মুক্তি পেত। কিন্তু তা দেখা যায় না। আপাতত এই হোর্ডিং বিতর্ক নিয়ে মুখর সমগ্র বাঙালি সমাজ। যেখানে নারী পুরুষের কোন ভেদাভেদ নেই।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!