এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > স্থানীয় তৃণমূল নেতার ‘দাদাগিরি’! ফোনে গালি, হুমকি, টাকা দাবি-আতঙ্কে পদত্যাগ চিকিৎসকের! অস্বস্তিতে শাসকদল

স্থানীয় তৃণমূল নেতার ‘দাদাগিরি’! ফোনে গালি, হুমকি, টাকা দাবি-আতঙ্কে পদত্যাগ চিকিৎসকের! অস্বস্তিতে শাসকদল

প্রশাসনকে যখন দলীয় গ্রাস থেকে মুক্ত করতে উদ্যোগী হচ্ছেন তৃনমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তখনই তারই দলের নেতার দাপটে অশনিসংকেত পড়তে শুরু করেছে চিকিৎসা ব্যবস্থায়। এবার ফের এক চিকিৎসককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল পান্ডুয়ার শাসকদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। আর যার জেরে সেই ভীত,সন্ত্রস্ত চিকিৎসক সৈয়দ মহম্মদ নঈম তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ঠিক কী হয়েছিল?

সূত্রের খবর, গত সপ্তাহে পান্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে একটি শিশু চিকিৎসক সৈয়দ মহম্মদ নঈমে তত্ত্বাবধানে ভর্তি হন। সেখানে শিশুটিকে দেখার পর চিকিৎসক তাকে ইঞ্জেকশন দেওয়ার কথা বলেন। আর এই ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণ বাদেই সেই শিশুটি মারা যায়।

এদিকে নিজেদের শিশু মারা যাওয়ায় সেই হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে প্রবল উত্তেজনায় ফেটে পড়ে সেই মৃতর পরিবার। আর এরপরই আশ্চর্যজনকভাবে সেই চিকিৎসক সৈয়দ মোহাম্মদ নঈমকে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন পান্ডুয়ার এক তৃণমূল নেতা।

এমনকি এই ব্যাপারে সেই চিকিৎসকের কাছে নিজের লোকেদেরও পাঠান তিনি। তবে সেই চিকিৎসক নিজের অবস্থানে অনড় থাকলে ফের গত রোববার রাতে সেই শাসক দলের দাপুটে নেতা সেই চিকিৎসককে ফোন করেন। আর এরপরই সৈয়দ মোহাম্মদ নঈম নামে ওই চিকিৎসক এবং তার পরিবার প্রবল আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আর এরপরই গত সোমবার হাসপাতালে নিজের পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে দেন চিকিৎসক সৈয়দ মহম্মদ নঈম।

এদিন এই প্রসঙ্গে সেই চিকিৎসকের মা শাহিদা বেগম বলেন, “বেশ কিছুদিন ধরেই আমার ছেলেকে ফোন করে এক তৃণমূল নেতা হুমকি দিচ্ছে। রবিবার রাতে ফের ফোন করে আমার ছেলেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পাশাপাশি পার্টি অফিসে গিয়ে ওনার সঙ্গে দেখা করার ফতোয়া দেয়। আমার ছেলে এবং আমরা প্রবল আতঙ্কে ভুগছি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা পরের দিন ওকে চাকরি ছেড়ে দিতে বলেছি।”

অন দিকে এই চিকিৎসকের পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিন এই প্রসঙ্গে পান্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে প্রধান তথা ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্রীকান্ত চক্রবর্তী বলেন, “এক চিকিৎসক তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। এর বেশি আমি কিছু বলতে পারব না।” অন্যদিকে এই ধরনের ঘটনা তিনি জানেনই না বলে জানান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী। তবে শাসকদলের নেতা হয়ে কি এইভাবে চিকিৎসকের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন তিনি?

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এদিন এই প্রসঙ্গে সেই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বলেন, “বিক্ষোভের সময় আমরা বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মৃত শিশুর পরিবারকে মিটিয়ে নিতে বলেছিলাম। সেই মত আমি চিকিৎসকের সাথে কথা বলি। তবে ফোন করে গালিগালাজ দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমার বদনাম করার জন্যই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা করা হচ্ছে।” তবে অভিযুক্ত শাসকদলের নেতা যাই বলুন না কেন তার ফোন, গালি ও হুমকির জেড়েই যে পান্ডুয়ার গ্রামীণ হাসপাতালের এক চিকিৎসক পদত্যাগ করলেন সেই ব্যাপারে নিশ্চিত অনেকেই।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!