এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা >   হেভিওয়েট শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে সরব আরেক নেতা, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে!

  হেভিওয়েট শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে সরব আরেক নেতা, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে!

প্রায় 6 বছর আগে দল বিরোধী কাজের অভিযোগে সিপিএম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল এককালের দাপুটে সিপিএম নেতা তথা নন্দীগ্রাম কাণ্ডে অভিযুক্ত লক্ষ্মণ শেঠকে। আর সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেই দলবদল করেন তিনি। যেখানে প্রথমে তিনি পদ্ম শিবিরে পা রাখেন। এরপর ফের দলবদল করে কংগ্রেসে নাম লেখান লক্ষণবাবু। আর এককালে কংগ্রেসের কর্মীদের উপর অত্যাচার করা লক্ষ্মণ শেঠ কংগ্রেসে নাম লেখানোর পরেই তাকে তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করে হাত শিবির। যদিও বা নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেনি তিনি। তার পর সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু এবার সেই লক্ষ্মণ শেঠের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হলেন জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মানিক ভৌমিক।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার নিজের ফেসবুকে লক্ষ্মণ শেঠের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে জেলা সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন ময়নার প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক মানিকবাবু। যেখানে তিনি লেখেন, “গত এক বছরে দলের রাজ্য নেতৃত্বের একটা প্রভাবশালী অংশের চাপে জেলার ব্লক সহ জেলা কমিটিকে রাজ্য নেতৃত্ব অনুমোদন দেয়নি। অথচ তারপরেও রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ মত সমস্ত কর্মসূচি পালন এবং বিভিন্ন আন্দোলনের অংশীদার হয়েছি। আরও উল্লেখযোগ্য যে, নন্দীগ্রাম খ্যাত লক্ষ্মণ শেঠের কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে আপত্তি করিনি। ভেবেছিলাম, রত্নাকর যখন বাল্মিকী হতে চাইছে, তখন দেখা যাক। কিন্তু দুঃখের বিষয়, শেঠবাবুর বাল্মিকী হওয়া তো দুরের কথা, রাজ্য নেতৃত্বের এক প্রভাবশালী অংশের প্রশ্রয়ে জেলায় দলের সিনিয়র নেতাদের অপমান নগ্ন চেহারা প্রকাশ করে। সমূহ বিষয় রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কা কাকস্য পরিবেদনা।”

আর দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে জেলা কংগ্রেসের সভাপতি এহেন মন্তব্য এখন কংগ্রেসকে যে প্রবল অস্বস্থিতে ফেলেছে, তা বলতে আপত্তি নেই কারোরই। জানা গেছে, ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় এহেন মন্তব্যের জন্য মঙ্গলবার সেই মানিক ভৌমিককে প্রদেশ কংগ্রেসের রাজ্য দপ্তরে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। আর রাজ্য দপ্তর থেকে এহেন ডাক আসার পর তা নিয়ে ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খুলেছেন ময়নার এই প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

ফেসবুকে তিনি পোস্ট করে লখেন, “প্রদেশ দপ্তরে গিয়ে দেখি শেঠবাবুর প্রধান অনুচর প্রণব দাস, ক্ষীতিন সাহু, দীপক দাস সভাপতির ঘরে। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব আমাকে জানায়, ওই নেতাদের নিয়ে জেলা কংগ্রেসের কাজ করতে হবে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কংগ্রেস কমিটিকে আমি কলির দ্রৌপদীর আসনে বসাতে চাইনি। আমি বিনীতভাবে সেকথা রাজ্য সভাপতিকে জানাই। ব্যক্তিগতভাবে আমি সোমেন মিত্র মহাশয়ের কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু কংগ্রেসকে নিয়ে কোনো আপোষ আমার দ্বারা সম্ভব নয়। লক্ষণকে রাজ্য কমিটিতে নিন। আমাদের জেলাকে আমাদের বুঝতে দিন। নতুবা নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে লক্ষ্মণ শেঠ নিঃশর্ত ক্ষমা চান। তাহলে আমরা ভাবার জায়গা পাব।”

আর প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় মানিকবাবুর এই ধরনের ক্ষোভ থেকেই স্পষ্ট যে, তিনি বাম আমলের প্রাক্তন দাপুটে নেতা লক্ষ্মণ শেঠের গাজোয়ারি কংগ্রেসে সহ্য করতে নারাজ। আর তাই তো দলের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, এভাবে প্রকাশ্যে লক্ষণবাবুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গেল মানিক ভৌমিককে। যা কংগ্রেসের ভেতরকার কোন্দলকে আরও তীব্র করে তুলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এভাবে প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে মন্তব্য করা কি ঠিক!

এদিন এই প্রসঙ্গে মানিক ভৌমিক বলেন, “এক বছর ধরে সহ্য করেছি। দলের কর্মীরা আমাকে ভুল বুঝেছেন। তাই কর্মীদের ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে আমার কথা জানিয়েছি।” এদিকে মানিকবাবুর এই ধরনের মন্তব্য যে দলকে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে ফেলেছে, তা উঠে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক তথা কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মিত্রের কথায়।

এদিন তিনি বলেন, “জেলার কিছু নেতাকর্মী লক্ষণকে নিয়ে সমস্যার কথা বলেছেন। আমরা আশাবাদী, আলোচনায় সমস্যা মিটে যাবে। জেলা সভাপতি বা অন্য কারও প্রকাশ্যে এমন কিছু বলা উচিত নয়, যাতে সমস্যা আরও জটিল হয়।” এদিকে এই বিষয় নিয়ে কোনোরূপ মন্তব্য করতে রাজি হননি, যাকে নিয়ে এত কিছু সেই লক্ষ্মণ শেঠ। তবে লক্ষণবাবুকে নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ যে বাসা বেধেছে, তা জেলা সভাপতি মানিক ভৌমিকের কথা থেকেই একপ্রকার স্পষ্ট হয়ে গেল বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। এখন জেলা সভাপতিকে মত শুধরে নিতে কংগ্রেস নেতৃত্ব চাপ দেয়, নাকি লক্ষ্মণ শেঠের বিরুদ্ধে কোনোরুপ ব্যবস্থা নেয় হাত শিবির! সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!