এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > কলকাতা হাইকোর্টে ডিএ মামলা – জমা পড়ল রাজ্য সরকারের আবেদন, জানুন বিস্তারিত

কলকাতা হাইকোর্টে ডিএ মামলা – জমা পড়ল রাজ্য সরকারের আবেদন, জানুন বিস্তারিত

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর কলকাতা হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়ে দেয় ডিএ – রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে পরে। কোনোমতেই তা ‘দয়ার দান’ নয়। কিন্তু, সেই ডিএর হার কি হবে বা তা বছরে কবার করে দেওয়া হবে সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্ট স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুন্যাল বা স্যাটকে নির্দেশ দেয়।

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশানুসারে সেই মামলার শুনানি ও নথি জমা দেওয়ার কাজ প্রায় শেষ স্যাটে। কিন্তু, রাজ্য সরকার নিজেদের দাবির স্বপক্ষে যে নথি জমা দেবে বলে জানিয়েছিল – সেইসব নথি ‘মিসপ্লেসড’ হয়ে গেছে বলে সরকারি আইনজীবীরা স্যাটে জানান ও তার জন্য অতিরিক্ত সময় চান। কিন্তু, প্রথমে স্যাটের বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আদালতের নির্দেশ মত এই মামলার রায়দান ১১ ই ডিসেম্বরের মধ্যে করতে হবে, তাই অতিরিক্ত সময় দেওয়া সম্ভব নয়।

তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি আইনজীবীরা জানান, যদি কলকাতা হাইকোর্ট পুনরায় এই নথি জোগাড়ের জন্য রাজ্য সরকারকে অতিরিক্ত সময় দেয়, তাহলে কি হবে? স্যাটের বিচারপতিরা জানান, তাঁরা আদালতের নির্দেশ মতোই কাজ করছেন ও করবেন। তাই, আদালত নির্দেশ দিলে তাঁরা এই মামলার সময় বর্ধিত করতেই পারেন। আর তাই গত ৬ ই ডিসেম্বরের মধ্যে, এই সংক্রান্ত নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্ট থেকে রাজ্য সরকারকে নিয়ে আসতে নির্দেশ দেন তাঁরা।

গত ৬ ই ডিসেম্বরের শুনানিতে স্যাটে রাজ্য সরকারি আইনজীবীরা – এই সংক্রান্ত কোন নির্দেশ আদালতে জমা দিতে পারেননি। কিন্তু, তাঁরা নথি দেখিয়ে জানান, এই সংক্রান্ত আবেদন কলকাতা হাইকোর্ট গ্রহণ করেছেন ও শীঘ্রই এই মামলার শুনানি শুরু হবে। তাই রাজ্য সরকারকে যেন সেই অতিরিক্ত সময় স্যাট মঞ্জুর করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্যাট রাজ্য সরকারকে আগামী ১৯ শে ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতের নির্দেশ জমা দিতে নির্দেশ দেয়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

সেইমত, কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি ছিল গত ১০ ই ডিসেম্বর। কিন্তু, শুনানির শুরুতেই মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী সর্দার আমজাদ আলি, প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত ও বিচারপতি শেখর ববি শরাফকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চকে জানান, রাজ্য সরকারের তরফে যে রিভিউ পিটিশন করা হয়েছে – তা টেকনিক্যালি ভুল এবং তিনি সেই সমস্ত ভুল আইনের পরিভাষা তুলে ধরে বিচারপতিদের জানিয়ে দেন। এই নিয়ে সরকারি আইনজীবীদের সঙ্গে কিছুটা তর্কাতর্কি হয় আমজাদ সাহেবের।

কিন্তু, শেষপর্যন্ত দুই বিচারপতি রাজ্য সরকারি আইনজীবীদের নির্দেশ দেন, যেহেতু আবেদনে ত্রুটি ধরা পড়েছে, তাই আগামী ১৪ ই ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁরা আদালতে নতুন করে আবেদন জমা দিন এবং তার ভিত্তিতে এই মামলার শুনানি আগামী ১৮ ই ডিসেম্বর হবে। কিন্তু, বিচারপতিদের এই নির্দেশ জানার পর, রাজ্য সরকারি আইনজীবীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন – তাঁদের আরো সময় লাগবে। কিন্তু সেই দাবিকে কোনোরকম মান্যতা দেন নি দুই বিচারপতিই। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন – উপরে উল্লিখিত তারিখেই উপরোক্ত কার্যগুলি হবে।

সেইমত, গতকাল এই মামলার আবেদন রাজ্য সরকারের তরফে জমা পড়ার কথা ছিল। আমরা এই প্রসঙ্গে অন্যতম মামলাকারী রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের অন্যতম শীর্ষনেতা সুবীর সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রিভিউ পিটিশন ‘কারেকশন’ করে গতকাল হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয়েছে I আগামী ১৮ ই ডিসেম্বরে শুনানির জন্য আমাদের আইনজীবী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন, মহামান্য কলকাতা হাইকোর্ট আগামী ১৮ ই ডিসেম্বর শুনানির দিন করলে উক্ত দিন শুনানি হবে I

প্রসঙ্গত, আগামী ১৮ ই ডিসেম্বর রাজ্য সরকার যদি কলকাতা হাইকোর্টে এই রিভিউ পিটিশনের রায় নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে না পারেন বা কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের পক্ষে আরও সময় বাড়ানোর নির্দেশ না দেয়, তাহলে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুন্যাল বা স্যাট – ডিএ মামলার রায় আগামী ১৯ শে ডিসেম্বর ঘোষণা করে দিতে পারে। মামলাকারীদের পক্ষে ইতিমধ্যেই, ‘বেসরকারিভাবে’ দাবি করা হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টে ‘ভুল’ পিটিশন জমা দেওয়া আদতে নাকি রাজ্য সরকারের সময় বাড়াতে চাওয়ার কৌশল – যা, আদালতে মান্যতা পায় নি। তাই, ডিএ মামলা নিয়ে ক্রমশ আশার আলো দেখছেন লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!