এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > পুরোনো দ্বন্দ্ব ভুলে কেন সমঝোতা করে মুখ্যমন্ত্রী হতে ‘বাধ্য’ হলেন ফাঁস করলেন কুমারস্বামী

পুরোনো দ্বন্দ্ব ভুলে কেন সমঝোতা করে মুখ্যমন্ত্রী হতে ‘বাধ্য’ হলেন ফাঁস করলেন কুমারস্বামী

কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার কার্য চলাকালীন প্রত্যেক রাজনৈতিক দল নিজেদের নিজেদের শ্রেষ্ঠতম হিসেবে হিসেবে দাবি করে। দলীয় প্রচারকার্যের সময়ে কোনো দলই নিজদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সুবাদে অন্য দলকে সমালোচনা করতে কোনো কসুর করেনি। সেইরকমই নির্বাচনী প্রচার কার্যের সময়ে কংগ্রেসের তরফে বলা হচ্ছিলো জেডিএস হলো বিজেপির একটি শাখা দল। আর নির্বাচনের পরবর্তীতে পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো মুখ্যমন্ত্রী পদের বিনিময়ে কংগ্রেসকে ৩৭ জন বিধায়কের সমর্থনে দিয়ে সরকার গঠনে সহায়তা করলো জেডিএস। কংগ্রেস এবং জেডিএস’র জোট শক্তির কারণে জেডিএস নেতা তথা কর্ণাটকের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী এবং কংগ্রেস নেতা ডি কে শিবকুমারের চির বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শ হওয়া সত্ত্বেও তাদের একসাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এত কিছুর পরেও এই সরকারের মেয়াদ আগামী বিধানসভা নির্বাচন অবধি স্থায়ী হবে তো ! সেই নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এইসব নিয়ে সরব হলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী। তাঁর মতে এত কম সংখ্যক বিধায়ক নিয়ে কংগ্রেসকে সমর্থন দেওয়ার জন্যে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিলো না তাঁর। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদের দিকে ত্বরান্বিত করেছে। অল্প দিন আগেও কংগ্রেস দল জেডিএস নেতা এইচ ডি কুমারস্বামী বিরুদ্ধে সমালোচনা কররা কোনো সুযোগ হাতছাড়া করেনি। এখন সেই কংগ্রেসের সাথে জোট সঙ্গী হয়ে পুরনো সেই বিবাদের জের টেনে রাখতে নারাজ তিনি। উল্লেখ্য এর আগে ২০০৬ সালে বিধানসভ নির্বাচন পরবর্তীতে চলতি বছরের ন্যায় বিজেপিকে সমর্থন দিয়ে জোট সঙ্গী হয়েছিলো জেডিএস। এবং প্রথমবারের জন্যে মুখ্যমন্ত্রী পদে দেখা গিয়েছিলো এইচ ডি কুমারস্বামীকে। কিন্তু সেইবার ঐ জোট সরকারের মেয়াদ ছিলো মাত্র এক বছর। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এইবার ও রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে জোট সরকার বেশি দিন টিকবে না। তবে বিগত সময়ের থেকে এখন অনেক আশাবাদী কুমারস্বামী জানালেন এইবার সেইরকম হওয়ার কোনো সম্ভবনা তাঁর তরফ থেকে অন্তত নেই। কারণ অতীতে তিনি যা ভুল করছেন এইবার সেইসব ভুলের পুনরাবৃত্তি করার কোনো সম্ভবনা আর নেই। তাই এইবার স্বল্প সময়ের জন্যে আর নয়, পুরো মুখ্যমন্ত্রী পদের মেয়াদকাল ৫ বছরই তিনি ঐ পদে আসীন থেকে রাজ্য শাসন করার মতন মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে তৈরী রয়েছেন।  তিনি জানেন জোট সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে । সেই কারণে তাই নির্বাচনের আগে কর্ণাটকের মানুষকে জেডি (এস) যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার সব যে পালন করা এই সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না, তা প্রথমেই স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। যেমন নির্বাচনী প্রচার পর্বে তিনি কৃষকদের প্রতিশ্রিতি দিয়েছিলেন ক্ষমতায় এলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঋণ মকুব করবেন। কিন্তু এখন তিনি জানাচ্ছেন এই পদক্ষেপ নেওয়ার আগে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই জোট সঙ্গী কংগ্রেসের সাথে আলোচনা করে নিতে হবে। তবে কুমারস্বামী বারেবারে রাজ্যবাসীকে স্মরণ করিয়েছেন যে এই সরকার জোট সরকার। তাই এই সরকারের প্রধান কর্তব্য জোট ধর্মকে বজায় রাখা। এই জোট ধর্ম বজায় রাখার সুবাদেই তিনি রাজ্যবাসীকে দেওয়া কংগ্রেসের প্রতিশ্রুতি পূরণেও সমান সচেষ্ট হবেন। তার জন্য একটি কমন মিনিমাম প্রোগ্রাম গ্রহন করা হবে। এছাড়া দুদলের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে একটি কমিটি গঠনের কথাও জানিয়েছেন কুমাপস্বামী। সেই কমিটিতে কারা কারা থাকবেন তার কিছুই এখনও চুড়ান্ত না হলেও কুমারস্বামী সিদ্দারামাইয়াকে চান সেখানে। কারণ কুমারস্বামী বললেন, ”ওঁর পাঁচ বছর সরকার চালানোর অভিজ্ঞতা আছে। তাকে কাজে লাগাতে চাই।” এমনকী তিনি মনে করেন শিবকুমারের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বও সরকারে বা দুদলের সম্পর্কের রসায়নে কোনও ছাপ ফেলবে না। কারন বর্তমানে তাঁরা দুজনেই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। একইসাথে বিজেপির রাজ্য বিস্তারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে সরকার গড়ার যে সম্ভাবনা তাঁরা তৈরি করেছেন, তার কৃতিত্ব কারোর একার নয়, দু দলের প্রতিটি নেতারই এতে সমান ভূমিকা আছে বলেই তিনি মনে করেন। প্রসঙ্গত এর আগে তাঁর সংক্ষিপ্ত শাসনকালে রাজ্যের আয় সবচেয়ে বেড়েছিল। জনতার মুখ্যমন্ত্রী তকমাও পেয়েছিলেন। এবারে জোটের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে কর্ণাটককে তিনি সেই অধরা সাফল্যের মুখ দেখাতে পারেন কিনা সেটাই এখন দেখার।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!