এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > রাজ্যের দেখানো পথেই এবার ব্যায়সঙ্কোচের ভাবনা কোলকাতা পুরসভার

রাজ্যের দেখানো পথেই এবার ব্যায়সঙ্কোচের ভাবনা কোলকাতা পুরসভার

লাগাতার কয়েকবছর ধরে আর্থিক সংকটে ভুগছে কোলকাতা পুরসভা। অপব্যায়ের পরিমাণ রাজধানীর গতিতে দিনের পর দিন বাড়ছে। এর জেরে রীতিমতো নাকানি চোবানি খেতে হচ্ছে কোলকাতা পুরসভা কর্তারা। পুরকর্মীদের বারবার সাবধান করা সত্ত্বেও এই সমস্যা থেকে মেলেনি নিস্তার। পুরসভার কোষাগার সবথেকে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে ওভার টাইম এবং মাত্রাতিরিক্ত গাড়ি ব্যবহারের জেরে। গত কয়েকবছর ধরেই ওভারটাইম টিফিনভাতা সহ একাধিক ভাতার খরচা নজিরবিহীনভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে টিফিন ভাতা হিসাবেই পুর রাজস্ব থেকে বছরে বেরিয়ে যাচ্ছে ৫০ লক্ষ টাকা।

প্রয়োজন ছাড়াই পুরকর্মীরা অতিরিক্ত সময় পুরসভার অফিসে বসে থাকছেন। খাওয়াদাওয়া করছেন পুরসভার টাকায়। প্রতিমাসেই এটা চলছে। এর জেরে অতিরিক্ত টাকা ফান্ড থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি, পুর কোষাগারে ধস নেমেছে প্রয়োজন ছাড়া গাড়ির অতিরিক্ত ব্যবহারের জন্যে। বর্তমানে কোলকাতা পুরসভার অধীনস্ত নিজস্ব এবং ঠিকাদারদের থেকে মিলিয়ে মোট ৬০০ টি গাড়ি চলে। যার তেলের খরচা সমেত চালকের বেতন নিয়ে খরচ দাঁড়ায় বছর প্রতি মোট ২০ কোটি টাকা। এই ব্যয় তিন চার বছরে সীমাহীনভাবে বেড়ে গেছে। এমনটাই জানা গেল পুরসচিবালয়ের এক কর্তার সূত্র থেকে।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

 এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এই সমস্যার মোকাবিলা করতে এবার নড়েচড়ে বসেছে কোলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা। অপব্যায়ের রাশ টানতে নিলেন করলেন কড়া পদক্ষেপ। এ মাসেরই ১২ তারিখ নাগাধ পুর কমিশনার খলিল আহমেদ একটি সার্কুলার(নং-১২,২০১৮-১৯) জারি করে সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা কঠোর ভাবে মানার কথা ঘোষণা করলেন। তিনি ওই নির্দেশিকার সাথেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের জারি করা ১৫ দফা নির্দেশিকাও জুড়ে দিলেন। সার্কুলারে তিনি এটাও জানিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে পুরসভার কোষাগারের অবস্থা শোচনীয়। তাই বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত খরচ তথা অপব্যায় কমাতে হবে।

রাজ্য প্রশাসনও এ ব্যাপারে রাজ্যস্তরের কমিটি তৈরি করে খরচ কমিয়েছে। এই নীতি মেনেই পুরসভার একাধিক খাতে হওয়া অপ্রয়োজনীয় খরচগুলো কমাতে হবে। ইতিমধ্যে সমস্ত নির্দেশিকাই পুরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে চলে গেছে,সমস্ত কথা তাতেই বলা আছে বলে তিনি জানান। পুরসভার আভ্যন্তরীন উৎসগুলো থেকে রাজস্ব আদায়রের পরিমান বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় খরচা কমালেই কোষাগারের অবস্থা স্বাভাবিকতায় ফিরবে বলেই জানিয়েছেন পুর কমিশনার। এ দুটি বিষয়েই গুরুত্ব দিলে চলতি আর্থিক বছরে পুরসভার আর্থিক সংকট দমন হবে বলেই আশা রেখেছেন তিনি।

উল্লেখ্য,কয়েকবছর আগেও এরকম সার্কুলার জারি করে অপব্যায় কমানোর চেষ্টা করেছিলো কোলকাতা পুরসভা। তারপর অপ্রয়োজনে গাড়ির অতিরিক্ত ব্যবহার কিছুটা হলেও কমিয়েছিলেন পুর আধিকারিকরা। কিন্তু কালে কালে আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেলো সব। এমনকি তেলের ব্যবহারেরও ক্ষেত্রে নিজেদের মর্জি খাটাতে লাগলো তাঁরা। এর জেরে রীতিমতো চাপের মুখে পড়েছিলেন পুর কমিশনরা। কীকরে অপব্যায় কমানো যায় সেটা রাতের ঘুম কাড়ছিলো তাঁদের।

তবে গত কয়েকমাসে রাজস্ব সংক্রান্ত যে গোপন বৈঠক হল, তাতে অর্থবিভাগের তরফ থেকে একটি রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিলো। তাতে উল্লেখ ছিল,অ্যাসেসমেন্ট,সম্পত্তিকর,লাইসেন্স,বিজ্ঞাপন,বিল্ডিং এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ থেকে রাজস্ব আদায় হয়না বললেই চলে। সেক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি ঢাকতে অপব্যায় রুখে কোষাগারের অবস্থার উন্নতি ঘটানোকেই পাখির চোখ করলেন পুর প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। এ ব্যাপারে পুরকর্মীদের থেকে কীরকম সাড়া মেলে তা রীতিমতো উদ্বেগে রয়েছেন তাঁরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!