এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > স্বাধীনোত্তর ভারতের কলকাতার প্রথম সংখ্যালঘু মহানাগরিক শপথ অনুষ্ঠান করতে চলেছেন পাক্কা বাঙালিয়ানা ও ইংরেজির মিশেলে

স্বাধীনোত্তর ভারতের কলকাতার প্রথম সংখ্যালঘু মহানাগরিক শপথ অনুষ্ঠান করতে চলেছেন পাক্কা বাঙালিয়ানা ও ইংরেজির মিশেলে

শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য ববি (ফিরহাদ হাকিম) -ই মেয়র পদের দায়িত্বে এলেন। ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেত্রীর। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ফিরহাদই কলকাতার সর্বপ্রথম মুসলিম মেয়র হলেন।

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ,নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস,যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের চেয়ারেই বসতে চলেছেন তিনি। নিজস্ব স্টাইল এবং অভ্যাস মতো ধাক্কাপাড়ের ধুতি এবং গরদের পাঞ্জাবি পরে শপথ নিতে পুরসভা যাবেন তিনি। স্ত্রী ইসমাত এবং দুই মেয়ে প্রিয়দর্শিনী এবং শাব্বাও থাকবেন সঙ্গে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা ফিরহাদ হাকিম মহানাগরিকের দায়িত্ব গ্রহনের সময় বাঙালি সংস্কৃতি মেনে চলেছেন৷ এবার শপথ গ্রহন করবেন ইংরাজিতে। শপথ গ্রহনের পর নয়া মেয়র পুরভবনে রাখা গান্ধীজি, নেতাজি, দেশবন্ধু, বিধানচন্দ্র রায়ের প্রতিকৃতিতেও শ্রদ্ধা জানাবেন।

মেয়রের পাশাপাশি ডেপুটি মেয়রও পরিবর্তন করা হয়েছে। অতীত ঘোষ এসেছেন ডেপুটি মেয়রের দায়িত্বে। তাঁরও শপথ গ্রহন অনুষ্ঠান সোমবার। স্ত্রী ঝুমাকে সঙ্গে নিয়েই পুরভবনে আসবেন তিনি। এমনটাই জানা গিয়েছে প্রশাসনের খবরের সূত্রে।মেয়রকে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব চেয়ারপার্সন মালা রায়ের৷

তবে পুরদপ্তর থেকে পুরসচিব এলে তিনিও শপথ পড়াতে পারেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রথমে ডেপুটি মেয়র এবং পরে অন্য মেয়র পারিষদদের শপথ পড়াতে পারবেন তৃণমূল পুরবোর্ডের তৃতীয় মহানাগরিক। তবে যেহেতু তিনি এখনো নির্বাচিত কাউন্সিলর নন,তাই ভোটাভুটির সময় মেয়র পারিষদের ঘরেই সপরিবারে বসতে হবে নয়া মেয়রকে। চারটি বুথে ভোট হবে বেলা ১টা থেকে থেকে ২ টো ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

এরপরই মেয়র পদে শপথ গ্রহন অনুষ্ঠান। দলের তরফে হুইপ দেওয়া নিয়ে চেয়ারপার্সন মালা রায় জানান, ‘গত ২২ নভেম্বর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তীর্ণতে যে নির্দেশ দিয়ে দিয়েছেন সেটাই যথেষ্ট। তৃণমূল কংগ্রেসের ১২২ কাউন্সিলরের জন্য বাড়তি কোনও হুইপ প্রয়োজন নেই।’শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মেয়র এবং মন্ত্রীত্ব পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর রাজ্যরাজনীতির সবথেকে চর্চিত বিষয় ছিল মেয়র পদে কে বসতে চলেছেন?

ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের জন্যে বহুদিন ধরেই প্রশাসনিক দায়িত্বের কাজ অবহেলা হচ্ছিল প্রাক্তন মেয়রের। এমন অভিযোগেই নেত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ভৎর্সনা করার পর অভিমানে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন শোভন। তারপরই মেয়র পদের দায়িত্বের জন্যে ফিরহাদ হাকিমের নাম আলোচনায় আসে।

ফিরহাদ বরাবরই নেত্রীর প্রিয় মুখ। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসার পাত্র হয়েছেন তিনি। তাই ফিরহাদকে মেয়র পদে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে কোনো দোমনা করেননি নেত্রী। এদিকে নতুন মেয়রের দায়িত্বে এসে প্রতিক্রিয়ায় ফিরহাদ হাকিম জানালেন,’মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আস্থা রেখে পুরসভার মেয়রের দায়িত্ব দিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টা মহানগরের জন্য নিষ্ঠা ও সত্যতার সঙ্গে মন দিয়ে কাজ করে মুখ্যমন্ত্রীর বিশ্বাসের মর্যাদা রাখব।’

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এছাড়া স্বাধীনতা পরবর্তী কোলকাতার প্রথম মুসলিম মেয়র হিসাবে তাঁর অনুভূতির জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি হিন্দু বা মুসলিম ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেননা৷ তাঁর প্রথম এবং একমাত্র পরিচয় তিনি ভারতীয়। মানুষের জন্যে কাজ করাই তাঁর একমাত্র ধর্ম। আর সেজন্যেই ২৪ ঘন্টায় মানুষের সেবায় হাজির থাকেন তিনি।

নগরজীবনের পরিষেবা উন্নয়নে নয়া পরিকল্পনা ও ভাবনা নতুন মেয়রের বক্তব্য,’কাউন্সিলর, বরো চেয়ারম্যান, মেয়র পারিষদ ছিলাম, প্রতিটি স্তরেই মানুষের কী কী চাহিদা ও প্রত্যাশা থাকে তা জানি। কী কা কাজ করা যায়, কী পরিষেবা দেওয়া যায় তাও জানি। পুরোটাই আন্তরিকভাবে করব।’

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!