এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বড় ধাক্কা রাজ্য সরকারের! সংখ্যালঘু দপ্তরের এই কাজে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা কলকাতা হাইকোর্টের

বড় ধাক্কা রাজ্য সরকারের! সংখ্যালঘু দপ্তরের এই কাজে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা কলকাতা হাইকোর্টের

যতদিন না মামলার রায় বেরোচ্ছে,ততোদিন পর্যন্ত রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষাদপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই। এমনটাই অন্তর্বর্তী নির্দেশে সাফ জানিয়ে দিলেন কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি প্রতীকপ্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়। যুক্তি,এটা কোনো মুসলমান প্রধান রাজ্য নয়। কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর ক্ষেত্রে নির্দেশিত সাংবিধানিক স্বাধীনতা রয়েছে,কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তর সেটা পালন করতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, হস্টেল বা ছাত্রাবাস নির্মানের জন্যে বারবার অনুমোদন চাইতে গিয়ে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে হাইকোর্টের দ্বারস্ত হয় জিমাগেরিয়া ওয়েলফেয়ার হাইমাদ্রাসা (এইচ এস)-এর অ্যাডহক ম্যানেজিং কমিটি। মামলা রজু করে রাজ্যের শীর্ষ আইন আদালতে। এই মাদ্রাসাটির মামলার সূত্র ধরেই হাইকোর্ট মাদ্রাসা কমিশনকে সম্প্রতি অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। সেই মামলা আজও সুপ্রিম কোর্টে বিচারধীন অবস্থায় রয়েছে।

মামলাকারীর তরফের আইনজীবী অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আবু সোহেল আদালতে যুক্তি দিয়ে জানান,অনুমোদন না দেওয়ার জন্য বারবার দপ্তর থেকে বিভিন্ন আপত্তি তোলা হয়েছে। যে কারণে অন্তত পাঁচ বার একই বিষয়ে মামলা করতে হয়েছে। কখনো বলা হয়েছে কাছেই রেল লাইন,কখনো দাবী করা হয়েছে রেলগেট নেই। অথচ বহুদিন থেকেই সেখানে রেলগেল রয়েছে।

একসময় যুক্তিতে বলা হয়েছিল বাসরুট থেকে প্রস্তাবিত হস্টেলের দূরত্ব বেশি। তারপর সরকারি আধিকারিক এসে বাসরুট থেকে প্রতিষ্ঠানটির দূরত্ব ম্যাপ করে দেখিয়ে গিয়েছে দূরত্ব ৯০০ মিটারের বেশি নয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই প্রস্তাবিত ছাত্রাবাস সম্পর্কে আপত্তি তুলেছেন,এমনটাও দাবী করা হয় সরকারি তরফে।

আদালত সেই আপত্তির প্রতিলিপি দেখলে চাইলেও তা পেশ না করায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালতে বলা হয়েছে,ওই প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি নিজে কোনো তদন্তই করেননি। গ্রামীন বাংলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো ধারনা না রেখেই নবান্নের হিমঘরে বসেই অভিমত দিয়েছেন ওই আইএএস অফিসার। যা অতিশয় অনভিপ্রেত এবং রাজ্যের পক্ষে হিতকর নয়,এমনটাই দাবী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,ওই সংশ্লিষ্ট জমি প্রস্তাবিত ছাত্রাবাসের জন্যে উপযুক্ত নয়,এমনটাই ডিরেক্টরেট অব মাদ্রাসা এডুকেশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিমত দিয়েছিলেন ওই প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। এই অভিমতের সমালোচনা করেই হাইকোর্টের বিচারপতি তাঁর রায়ে জানান গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান চালানোর ক্ষেত্রে কিছু সাংবিধানিক নিয়ম মেনে চলাটা জরুরি। কিন্তু তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম বা আইনমাফিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সেটা নয়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

মাদ্রাসাটি যখন তাদের জমিতেই ছাত্রাবাস বানানোর এবং পরিচালনা করার অনুমোদন চেয়েছে তাতে কোনো আপত্তি থাকা উচিৎ নয় প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির৷ এখনো প্রতিষ্ঠানটির কোনো প্রশাসনিক গলদ সামনে আসেনি। তাই এই ধরনের আচরণ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র তথা রাজ্যের উদার ঐতিহ্যকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই মতামত প্রকাশ করেই আদালত ওই প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির তরফের প্রাসঙ্গিক নির্দেশ স্থগিত করে দিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে দুই পক্ষই হলফনামা দিয়ে বক্তব্য পেশ করার সাত সপ্তাহ পর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে,এমনটাই রায় দিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!