এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সর্বভারতীয় স্তরের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ বেতনক্রমের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মামলায় সামনে এল কলকাতা হাইকোর্টের রায়

সর্বভারতীয় স্তরের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ বেতনক্রমের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মামলায় সামনে এল কলকাতা হাইকোর্টের রায়

কলকাতা হাইকোর্টের ১২ নম্বর কোর্টে বিচারপতি ববি শরাফের এজলাসে পশ্চিমবঙ্গের সরকার পোষিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক-শিক্ষিকাদের টিজিটি বেতনক্রমের দাবিতে করা মামলার শুনানি শেষে রায় ঘোষণা হয়। রায়ে রাজ্যের বর্তমান ষষ্ঠ পে কমিশন, শিক্ষা দপ্তর এবং অর্থ দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা যৌথ ভাবে বিষয়টি যথাযথ খতিয়ে দেখে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

মামলাকারি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকদের পক্ষে শিক্ষক ধ্রুবপদ ঘোষাল এবং সৌরেন ভট্টাচার্য্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সরকার পোষিত/সাহায্য প্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলিতে নিযুক্ত স্নাতক শিক্ষক-শিক্ষিকাগন বিগত দুই দশকেরও অধিক সময় যাবৎ সর্বভারতীয় স্তরে প্রচলিত স্নাতক-শিক্ষক বেতনক্রম থেকে বঞ্চিত। পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চম বেতন কমিশনের সুপারিশক্রমে রাজ্য অর্থ দপ্তর প্রনীত রোপা রুলস ২০০৯-এ স্নাতক শিক্ষকদের বেতনক্রম ধার্য্য করা হয়-

৭,১০০ – ৩৭,৬০০ টাকা
গ্রেড পে – ৪,১০০ টাকা এবং
পে-ফিক্সেশন করে প্রারম্ভিক মূল বেতন হয় ১২,৭৫০ টাকা

অন্যদিকে, স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের বেতনক্রম ধার্য্য করা হয় –
৯,০০০ – ৪০,৫০০ টাকা
গ্রেড পে – ৪,৮০০ টাকা এবং
পে ফিক্সেশন করে প্রারম্ভিক মূল বেতন হয় ১৫,৯৬০ টাকা
ফলে, উভয়ের প্রারম্ভিক মূল বেতনের পার্থক্য দাড়ায় ৩,২১০ টাকা।

ঐ একই সময় কালে সর্বভারতীয় স্তরে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের অভিন্ন বেতন কাঠামো দেওয়া হয় –
৯,৩০০ – ৩৪,৮০০ টাকা এবং
স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের গ্রেড পে হয় – ৪,৮০০ টাকা
স্নাতক শিক্ষকদের গ্রেড পে হয় – ৪,৬০০ টাকা

উভয়ের প্রারম্ভিক মূল বেতনের পার্থক্য দাড়ায় ১৮,১৫০ – ১৭,১৪০ = মাত্র ১,০১০ টাকা, যা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ৩,২১০ টাকা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

বলা বাহুল্য ভয়ংকর আর্থিক বঞ্চনার শিকার এই গ্র্যাজুয়েট ক্যাটেগরী শিক্ষকগন। এক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় যে, পশ্চিমবঙ্গের অর্থ দপ্তর স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সর্বভারতীয় স্তরের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে বেতন কাঠামো ও গ্রেড পে ধার্য করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পশ্চিমবঙ্গে স্নাতক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলকভাবে নিম্নতর বেতনক্রম ও গ্রেড পে দেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সর্বভারতীয় স্তরের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে পশ্চিমবঙ্গে রোপা রুলস ২০০৯-এ স্নাতক শিক্ষকদের প্রারম্ভিক মূল বেতন হওয়া উচিত ছিল ৫,৫০০ × ১.৮৬ = ১০,২৩০ + ৪৬০০ = ১৪,৮৩০ টাকা।

শিক্ষক প্রতাপ মন্ডল, সতীশ চন্দ্র মাহাতো, পবিত্র কুমার গাঙ্গুলী,স্বপন মন্ডল, অভিজিৎ দাস, কিশোর বাবু প্রমুখ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে কর্মরত স্নাতক শিক্ষকদের সমগ্র কর্মজীবনে তিন বার (৮, ১৬ এবং ২৫ বছরে) ক্যারিয়ার অ্যাডভান্সমেন্টের সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে উচ্চতর বেতন ক্রমে উন্নীত করা হয়। আর সরকার পোষিত/সাহায্য প্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলিতে কর্মরত স্নাতক শিক্ষকদের ঐ সুবিধা সমগ্র কর্মজীবনে মাত্র একবার (১৮ বছরে) দেওয়া হয়। যার ফলে সরকার পোষিত/সাহায্য প্রাপ্ত বিদ্যালয়ের স্নাতক শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

তাঁদের আরো বক্তব্য, শুধু তাই নয় ২০০১-২০১৩ সাল পর্যন্ত রাজ্য সরকার এনসিটিই আইন অমান্য করে অনার্স গ্র্যাজুয়েটদের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে নিয়োগ করে ও উচ্চ পে স্কেল প্রদান করে। যদিও, তাঁদের মাধ্যমিক স্তরেই নিযুক্ত হয়ার কথা। তাই শিক্ষকরা আদালতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। আদালতের উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। আজকের রায়ের ভিত্তিতে পে কমিশন, রাজ্য অর্থ ও শিক্ষা দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আমাদের বঞ্চনার মুক্তি হবে বলে আশা করছি। আর এই বঞ্চনার অবসানে দপ্তরগুলো সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে প্রয়োজনে উচ্চতর আদালতে যাওয়া হবে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!