এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > অপহৃত তৃণমূল কর্মী ফিরে না এলে এবার প্রকাশ্যেই বিজেপি নেতা-কর্মীদের অপহরণের হুমকি তৃণমূল সভাধিপতির

অপহৃত তৃণমূল কর্মী ফিরে না এলে এবার প্রকাশ্যেই বিজেপি নেতা-কর্মীদের অপহরণের হুমকি তৃণমূল সভাধিপতির

বরাবাজারের অপহৃত তৃণমূল কর্মীকে অবিলম্বে ছেড়ে না দিলে বিজেপির যে কোনো কর্মীকে কিডন্যাপ করার ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পাশাপাশি প্রকাশ্য জনসভার মঞ্চ থেকে হুমকি দিয়ে বললেন,‘বলরামপুর পঞ্চায়েত সমিতি দখল করেছি। সেই রকমই বরাবাজার পঞ্চায়েত সমিতি দখল করতে না পারলে হাতে চুড়ি পরিয়ে দেবেন’।

গতকাল বরাবাজারের টকরিয়ায় তৃণমূল আয়োজিত জনসভা থেকে এমনটাই বলেই বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন সুজয়বাবু। এদিনের সভায় সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি বরাবাজার ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুদর্শন মাহাত সহ অন্যান্য তৃণমূলের হেভিওয়েটরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যেকেই চাঁচাছোলা ভাষায় তৃণমূল নেতা অপহরণের ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন।পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতির এভাবে বিজেপিকে প্রকাশ্য অপহরণের হুমকি দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিকমহলে।

প্রসঙ্গত,গত বুধবার বরাবাজার থানার ভাগাবাঁধ গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনাডুংরি গ্রামের বাসিন্দা তথা তৃণমূল কর্মী সন্তোষ মাহাত নিখোঁজ হন। অপহরণকারীদের তরফ থেকে আগামী সাত দিনের মধ্যে ৩০লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবির পাশাপাশি আগামীদিনে আরও তৃণমূল কর্মীদের এভাবেই অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তদন্তে নামলেও এখনো সন্তোষবাবুর কোনো খোঁজ পায়নি পুলিশ। গোটা ঘটনায় বেশ কয়েকদিন ধরেই শোরগোল তুঙ্গে রয়েছে এলাকায়।

অন্যদিকে,এই ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানাতে গতকাল টকরিয়ায় সভা করে তৃণমূল। সেই সভা থেকেই গর্জে উঠে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,”বিজেপি প্রচার করে বেড়াচ্ছে তৃণমূল নাকি বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যদের অপহরণ করে ভাগাবাঁধ গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতা দখল করেছে। অথচ, বিজেপি পুরুলিয়ার কোনও থানায় এবিষয়ে অভিযোগ করেনি। কারও বিরুদ্ধে কেন বিজেপি অভিযোগ করেনি তার উত্তর বিজেপিকেই দিতে হবে।”

 

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এরপর তিনি অপহরণকারীদের পোস্টারের প্রসঙ্গ তুলেও বিজেপিকে তুলোধনা করেন। বলেন, পোস্টারে লেখা হয়েছে তাদের দাবী অবিলম্বে মানা না হলে একের পর এক তৃণমূল নেতাকে কিডন্যাপ করা হবে। কিন্তু এভাবে তৃণমূলকে রোখা যাবে না বলে বিজেপির উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন,”আপনাদের চ্যালেঞ্জ করে বলছি, আপনারা তো সন্ধ্যার পর অপহরণ করেছেন। তাহলে কোন নেতাকে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় কোন জায়গা থেকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে হবে চ্যালেঞ্জ করুন।”

এখানেই শেষ নয়,তিনি বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, বিজেপি যদি সুস্থ রাজনীতির পথে না হাঁটে তাহলে গোটা বরাবাজার এলাকা থেকে বিজেপির চিহ্ন মুছে দেবে তৃণমূল। আর বরাবাজার পঞ্চায়েত সমিতির বিষয়ে আদালতেও মামলা জিতবে তৃণমূল। বিজেপির যদি ক্ষমত থাকে পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষমতা ধরে রেখে দেখাক।

সন্তোষ মন্ডল অপহরণের ঘটনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে সুজয় বাবু আরো জানান,এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তদন্তের জন্য পুলিস পাঁচজনের ‘সিট’(স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম) গঠন করেছে। সন্তোষবাবুকে উদ্ধার করতে পুলিসি তৎপরতা আরো বাড়ানো হবে। আর এতে যদি কোনোভাবে বিজেপির জড়িত থাকার খবর পাওয়া যায় তাহলে গনতান্ত্রিক উপায়ে কীভাবে বিজেপির শিকড় উপড়ে ফেলতে হয় বরাবাজার থেকে তা দিলীপ ঘোষেদের দেখিয়ে দেবে তৃণমূল। এমনটাই হুঁসিয়ারী দেন সুজয় বাবু।

পাশাপাশি তিনি বিজেপির উদ্দেশ্যে আরো জানান, তৃণমূল যদি কিডন্যাপ করা শুরু করে তাহলে বিজেপি পালিয়ে কুল পাবে না। আর এ ব্যাপারে কেস মামলা মোকদ্দমা হলেও আপত্তি নেই তৃণমূলের এমনটাও গর্জে উঠে জানিয়ে দেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি।

এব্যাপারে বরাবাজারের ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সুদর্শন মাহাতও বিজেপি এবং পুলিশকে হুমকির সুরে বলেন,আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সন্তোষবাবুকে উদ্ধার করা না গেলে তৃণমূলও পথে নামবে। একই কথা শোনা যায় ব্লকের কার্যকারী সভাপতি প্রতুল মাহাতোর গলায়। বলেন,অবিলম্বে তৃণমূল কর্মী উদ্ধার না হলে তৃণমূল রাস্তায় নেমে ব্যবস্থা নেবে।

বরাবাজারের ব্লক তৃণমূল যুব সভাপতি চন্দন সিং মল্লর বলেব,”ওঁরা সন্ধ্যায় অপহরণ শুরু করেছে প্রয়োজনে এবার ওদের জবাব দিতে দিনের আলোতে অপহরণ শুরু করব। প্রয়োজনে বিজেপি নেতাদের বাড়িও ঘেরাও করা হবে।” তবে বিজেপির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর বলেই জানালেন বিজেপির জেলা নেতা সুভাষ মাহাত।

সভাধিপতির হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন,অপহরণের ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো যোগ নেই৷ প্রতিহিংসার রাজনীতি বিজেপি করে না। তৃণমূল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপহরণের ঘটনায় বিজেপির নাম জড়িয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলেই পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।

Top
error: Content is protected !!