এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > কি হবে ৩ আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল? কি বলছেন বিজেপির স্ট্র্যাটেজি মেকার মুকুল রায়?

কি হবে ৩ আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল? কি বলছেন বিজেপির স্ট্র্যাটেজি মেকার মুকুল রায়?

নির্বাচন কমিশনের কথা অনুযায়ী আজ 25 শে নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের তিনটি কেন্দ্রের বিধানসভা উপনির্বাচন হয়ে গেল। তিনটি কেন্দ্রের মধ্যে খড়গপুর, করিমপুর ও কালিয়াগঞ্জ উপনির্বাচনকে ঘিরে দিনভর রইল উত্তপ্ত পরিস্থিতি। উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট স্থির হবার সাথে সাথেই পশ্চিমবঙ্গের তিন জেলায় রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সাজো সাজো রব উঠেছিল। প্রত্যেকেই নির্বাচনী প্রচারে দক্ষতা দেখিয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম উপনির্বাচনে গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্যের সবকটি রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই উপনির্বাচনের ওপরেই আগামীদিনের বিধানসভা নির্বাচনের রূপরেখা নির্ভর করছে।

রাজ‍্যে তিন জেলা কালিয়াগঞ্জ, করিমপুর এবং খড়্গপুরের উপনির্বাচনকে ঘিরে দিনভর উত্তপ্ত পরিস্থিতি রইল। একের পর এক ঘটনাকে ঘিরে এদিন করিমপুরের বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের ওপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি নেতা মুকুল রায় এবং বিজেপি রাজ্য নির্বাহী কমিটির সদস্য শিশির বাজোরিয়া ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও প্রধান নির্বাচন অফিসারকে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা দাবিতে চিঠি দেন।

এদিন ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিক বৈঠক করে মুকুল রায় বলেন, ‘জয়প্রকাশ মজুমদার এর সঙ্গে এই যে ঘটনা ঘটলো, সেই এলাকার দায়িত্ব ছিল জেলা পুলিশ সুপার, জেলা শাসক এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের। এতকিছু হওয়া সত্বেও আমি দায়িত্ব সহকারে বলছি, তিনটি কেন্দ্রের উপনির্বাচনেই মানুষের জিত হবে, ভারতীয় জনতা পার্টির জিত হবে বিপুল ভোটে।’

এদিন মুকুল রায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বলেন, ‘এই অবস্থায় এটা প্রমাণিত যে পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র নেই। আর কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া নির্বাচন অসম্ভব। যিনি এখানে গণতন্ত্র নিধন করছেন তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উনি জেলার পুলিশ সুপারদের ধমকি-চমকি দিয়ে কোনওভাবে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।’ এদিনের ঘটনায় বিজেপি শিবিরের সাথে সাথে রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরমহলেও তীব্র সমালোচনা শোনা গেছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলার 3 কেন্দ্রের উপনির্বাচনের 801 টি কেন্দ্রে ভোট হয়েছে কড়া সুরক্ষার মধ্যে দিয়ে। ইতিমধ্যে বিজেপি শিবিরের দাবি অনুযায়ী, রাজ্যে পাঠানো হয়েছে 13 কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাঁরাই নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়াও রাজ্য পুলিশও ভোটের দায়িত্বে আছেন বলে জানা গেছে। রাজ্যের তিনটি বিধানসভা উপনির্বাচন হওয়ার কারণ হিসেবে জানা গেছে, করিমপুরে তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র কৃষ্ণনগরের সাংসদ হয়ে যান 2019 এর লোকসভা ভোটে জিতে। তার ফলেই করিমপুরের বিধায়কের জায়গাটি ফাঁকা হয়ে যায়। সুতরাং উপনির্বাচন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে, একই ভাবে খড়গপুর থেকে 2019 এর লোকসভা ভোটে জিতে সাংসদ হন বিজেপির দিলীপ ঘোষ। যথারীতি খড়্গপুরে উপ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা এসে যায়। আবার কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক প্রমথনাথ রায় সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করেন, তার ফলে তাঁর জায়গায় নতুন বিধায়ক আনতে উপ নির্বাচনের প্রয়োজন হয়। এই তিনটি কেন্দ্রে যথাক্রমে বিজেপি ও তৃণমূল প্রার্থীরা তো আছেনই। কিন্তু এবারের উপনির্বাচনে উল্লেখযোগ্যভাবে বাম ও কংগ্রেস জোট বদ্ধ ভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছে। সেইমতো কালিয়াগঞ্জ ও খড়গপুর সদরে কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দিতায় নেমেছে। প্রচার চালিয়েছে বাম ও কংগ্রেস শিবির যুগলে। অন্যদিকে, করিমপুরে কংগ্রেস তাঁদের আসনটি ছেড়ে দিয়েছে বাম শিবিরকে। সেখানেও কংগ্রেস এবং বাম যৌথভাবে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের উপনির্বাচন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত, লোকসভা নির্বাচনের ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। লোকসভা নির্বাচনে দেখা গেছে, রাজ্য বিজেপি এই তিন রাজ্যে ভালো ফল করেছিল। এবার দেখার, লোকসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় সারিতে উঠে আসা বিজেপি উপনির্বাচনেও কি তাঁদের জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারবে। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের কাছে এই উপনির্বাচন একটা প্রেস্টিজ ফাইট। লোকসভা নির্বাচনের কোণঠাসা অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য উপ নির্বাচনে জেতা তাদের কাছে ভীষণভাবে প্রয়োজন। আবার, লোকসভা ভোটে একেবারে পেছনের সারিতে পৌঁছে গেছে বাম ও কংগ্রেস শিবির।

এবারের উপনির্বাচনে তাঁদের লক্ষ্য, পুনরায় আবার পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে স্থান করে নেওয়া। সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে করিমপুর, কালিয়াগঞ্জ, খড়গপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলের দিন। আপাতত 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনের দিকেই কিন্তু সবার নজর। আর সেই নির্বাচনে জিততে উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলি যথেষ্ট আশাবাদী এবং আত্মবিশ্বাসী।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উপনির্বাচনকে ঘিরে যে নির্বাচনী যুদ্ধ হতে চলেছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলেরই অ্যাসিড টেস্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের দাবি, উপ নির্বাচনের জয়ী দল আগামী দিনের নির্বাচনের আগে কিছুটা অক্সিজেন পেতে চলেছে। আপাতত এই উপ নির্বাচন জেতার চেষ্টায় কে কতটা কার্যকর হতে পারে, সে দিকেই নজর রাখছে রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!