এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেদিনীপুর > খড়গপুরের পর কালিয়াগঞ্জেও “প্রাক্তন” বিজেপি প্রার্থীর ক্ষোভে টালমাটাল গেরুয়া শিবির!

খড়গপুরের পর কালিয়াগঞ্জেও “প্রাক্তন” বিজেপি প্রার্থীর ক্ষোভে টালমাটাল গেরুয়া শিবির!

 

কথায় আছে, “দশে মিলি করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ।” সে সংস্থা হোক, ক্লাব হোক বা রাজনৈতিক দল, প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই একতা যদি না থাকে, তাহলে বিপর্যয় নেমে আসে। কথা ছিল, রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের একতার ভিত্তিতে বিজেপি লড়াই করবে। কিন্তু প্রবল মতানৈক্যই যেন সামনে আসতে শুরু করেছে। প্রথমেই খড়গপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী নিয়ে দলের অন্দরে প্রবল অসন্তোষ সামনে এসেছিল। যা নিয়ে বিপাকে পড়েছিল গেরুয়া শিবির।

তবে এই কেন্দ্র দিলীপ ঘোষের কেন্দ্র বলে পরিচিত হওয়ায় সেখানে বিজেপির কোন্দল খুব সহজে মিটে যাবে বলে মনে করেছিল একাংশ। কিন্তু খড়্গপুরের সমস্যা মিটতে না মিটতেই এবার কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে বিজেপির কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এল।

বস্তুত, এই কেন্দ্রে এবার প্রার্থী করা হয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের বিজেপির সদস্য কমল চন্দ্র সরকারকে। সচ্ছল চাষী পরিবারের সাদামাটা মানুষ বলে পরিচিত কমলবাবু ইতিমধ্যেই তার নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। তবে বিজেপি এই কালিয়াগঞ্জে পদ্ম ফোটাবে বলে মনস্থির করলেও 2016 সালে এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রুপক রায়ের মন্তব্যে এবার প্রবল অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির।

জানা যায়, রূপক রায় এবং কমল সরকার সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। কিন্তু বিশ্লেষকেরা দাবি করেন, রাজনীতিতে এইসব মামা- ভাগ্নের সম্পর্ক খাটে না। যতই নিকটাত্মীয় হোক না কেন, কে কাকে টেক্কা দিতে পারবে, সেই নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েন সকলে। তাই সেদিক থেকে 2016 সালে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় প্রার্থী হওয়া রূপক রায় এবার কমল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হতে শুরু করেছেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এদিন এই প্রসঙ্গে রূপকবাবু বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে দলটা করে এসেছি। দলের খারাপ সময়ে হাল ছাড়িনি। গত পঞ্চায়েত, লোকসভা নির্বাচনে বিধানসভা এলাকায় দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে গিয়েছি। এক প্রভাবশালী ঠিকাদার এখন দলের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তার ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য একটা অযোগ্য লোককে প্রার্থী করা হয়েছে। ওই ঠিকাদার নেতাই ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য কমল চন্দ্র সরকারের প্রার্থী করতে সবরকম চেষ্টা চালিয়েছেন।” আর কালিয়াগঞ্জে বিজেপির দুর্দিনের লোক হিসেবে পরিচিত রূপক রায়ের এই মন্তব্য এখন প্রবল অস্বস্তিতে ফেলবে গেরুয়া শিবিরকে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের।

জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত 2019 এর লোকসভা নির্বাচনে দেবশ্রী চৌধুরীকে জেতাতে এই কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরিশ্রম করেছিলেন কমল সরকার এবং রূপক রায়। কিন্তু এবার রূপকবাবু প্রার্থী না হওয়ার জন্যই তিনি দলের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ উগরে দিলেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু দলের এই কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় বিজেপির পক্ষে কি কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র দখল করা সুবিধের হবে!

এদিন এই প্রসঙ্গে এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী কমল সরকার বলেন, “রূপক আমার দূরসম্পর্কের ভাগ্নে। ওকে ছেলের মত স্নেহ করি। ওর কথায় আমি গুরুত্ব দিচ্ছি না।” অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ লাহিড়ী বলেন, “গত বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থী হয়ে উনি মাত্র 28 হাজারের মতো ভোট পেয়েছিলেন। তার কথায় আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। দলে এরকম দু-একজন থাকে। তাতে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না।”

তবে বিজেপি প্রার্থী থেকে বিজেপি নেতৃত্ব, যে কথাই বলুন না কেন, যেভাবে প্রার্থী নিয়ে বিজেপির অন্দরে অসন্তোষ মাথাচাড়া দিচ্ছে, তাতে ভোটবাক্সে চোরাস্রোত বইবে কিনা, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!