এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > দীপাবলির আগেই জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র – জানুন বিস্তারিত

দীপাবলির আগেই জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র – জানুন বিস্তারিত



সম্প্রতি 370 ধারা বিলোপ হওয়ার পর সদ‍্য কাশ্মীরে ব্লক উন্নয়ন পর্ষদের নির্বাচন হয়ে গেল। লোকসভা নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সিদ্ধান্ত নেন, কাশ্মীরকে এবং লাদাখকে আলাদা আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠিত করবেন। সেই পরিকল্পনা করে কাশ্মীর থেকে 370 ধারা ও 35 এ ধারা বাতিল হয়। সাথে সাথে কাশ্মীর নিয়ে সারা দেশজুড়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। বিরোধীরা কাশ্মীরে এই সিদ্ধান্তের ফলে সেখানে অশান্তির আগুন জ্বলে উঠবে বলে জানায়, কিন্তু কাশ্মীরে শান্তি বজায় থাকে।

আর এবার পূর্বপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী 31 অক্টোবর জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসনিক স্তরে বড় পরিবর্তন হতে চলেছে। এবার জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ আলাদা আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ নিয়ে এই মুহূর্তে প্রশাসনিক ব‍্যস্ততা চরমে। দীপাবলীর পরেই আগামী 31 এ অক্টোবর সারাদেশে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ আলাদা আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে।

আর সেই পরিকল্পনা রূপায়িত করতে জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম উপ-রাজ‍্যপাল নিযুক্ত হচ্ছেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার তথা কেন্দ্রীয় ব্যয় সচিব গিরিশচন্দ্র মুর্মু। অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান রাজ্যপাল সত্যপাল মালিককে গোয়াতে বদলি করা হচ্ছে। এবার থেকে গোয়ার রাজ্যপালের দায়িত্ব পাচ্ছেন সত্যপাল মালিক। এর পাশাপাশি লাদাখের প্রথম উপরাজ‍্যপাল হতে চলেছেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার রাধাকৃষ্ণ মাথুর।

প্রসঙ্গত, গত 5 ই আগস্ট কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খারিজ করে জম্মু-কাশ্মীরকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপর প্রায় তিন মাস কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত কাশ্মীর জুড়ে অবস্থার হেরফের হয়নি। সেখানে এখনও গৃহবন্দি আছেন রাজ্যের বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আর সেই পরিস্থিতিতেই গত শুক্রবার রাজ্যপাল সত্যপাল মালিককে গোয়ার রাজ‍্যপালের পদে বদলি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক কালে জম্মু-কাশ্মীরে হয়ে যাওয়া বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন তিনি। আর তার মধ্যেই যেটি বিশেষ ঘটনা, সেটি হলো কাশ্মীর থেকে 370 ধারা উঠে যাওয়া। সত্যপাল মালিক অবশ্য গোয়াতে তাঁর বদলি নিয়ে এখনো পর্যন্ত কিছু মন্তব্য করেননি। যদিও মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলে রাজ্যপালের পদটিকে তিনি অত্যন্ত দুর্বল বলে ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, “রাজ্যপাল পদটি অত্যন্ত দুর্বল। একজন অতি দুর্বল পদাধিকারী ব্যক্তি, নিজে থেকে যাঁর সাংবাদিক বৈঠক ডাকার কোনো ক্ষমতা নেই। ক্ষমতা নেই প্রকাশ্যে মুখ খোলার।’

গিরিশচন্দ্র মুর্মু যার পরিচয় এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের ব্যয় সচিব। 1985 সালে গুজরাটের আইএএস ক্যাডারের অফিসার তিনি। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন ছিলেন, সেসময় তিনি সেখানকার মুখ্য সচিব ছিলেন। অন্যদিকে রাধাকৃষ্ণ মাথুর হলেন 1977 সালে ত্রিপুরাতে আইএএস অফিসার ও প্রাক্তন প্রতিরক্ষা সচিব ছিলেন। 2018 নভেম্বরের মুখ্য তথ্য কমিশনারের পদ থেকে তিনি অবসর নেন।

51 বছর পর্যন্ত ভারতের উত্তর প্রান্তের রাজ্যে আমলাদের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হতো। কিন্তু প্রথম রাজনৈতিক ব‍্যক্তি হিসেবে সত্যপাল মালিক 2018 সালের আগস্টে বিহারের রাজ্যপালের পদ থেকে কাশ্মীরের রাজ্যপালের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অর্থাৎ জম্মু ও কাশ্মীরের এই পরিবর্তন বিজেপি সরকার অনেক আগেই তাঁদের লক্ষ্যে রেখেছিল। আর তারই অঙ্গ হিসাবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছিল।

ওয়াকিবহাল মহলের দাবি রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক কাশ্মীরে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনাগুলি রূপায়িত করেছেন। তাই দায়িত্ব পালনের পুরস্কারস্বরূপ তাঁকে গোয়াতে রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়া হলো। না হলে তাঁকে উপরাজ্যপাল হিসেবে কাশ্মীরে থাকতে হতো‌। ফলে তার অবনমন ঘটত বলে মনে করা হচ্ছে।

সমগ্র ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হলেও এখনও পর্যন্ত সেখানে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের মুক্তি দেওয়া হয়নি বলে খবর। অন্যদিকে, সদ্য হয়ে যাওয়া কাশ্মীরে ব্লক উন্নয়ন পর্ষদের নির্বাচনে বিজেপি আশানুরূপ ফল করতে পারেনি। এদিকে, কাশ্মীর নিয়ে ভারতের এই সিদ্ধান্ত যে পাকিস্তান মেনে নিতে পারে নি, তা বারেবারেই আন্তর্জাতিক মহলে প্রমানের চেষ্টায়। তাই আগামী দিনগুলি, প্রশাসনিক ভাবে কাশ্মীরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে নতুন উপ-রাজ্যপালের হাত ধরে কিভাবে উন্নয়ন হয় কাশ্মীরে, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!