এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > ‘অপারেশন কর্ণাটক’ এবার বাংলাতেও? তৃণমূল-বিজেপি দ্বৈরথে ক্রমশ বাড়ছে জল্পনা!

‘অপারেশন কর্ণাটক’ এবার বাংলাতেও? তৃণমূল-বিজেপি দ্বৈরথে ক্রমশ বাড়ছে জল্পনা!

Priyo Bandhu Media

সম্প্রতি কর্নাটকের অনেক বিধায়ককে মুম্বইয়ে নিয়ে গিয়ে একটি হোটেলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি – এর জেরে কর্নাটকে বদলে যায় রাজ্য সরকারই! পতন হয় কংগ্রেস সমর্থিত কুমারস্বামী সরকারের, ক্ষমতায় আসেন বিজেপির ইয়েদুরাপ্পা। আর এবার সেই কর্নাটকের ছায়াই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে পশ্চিমবাংলায় – বলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে!

জানা গেছে, আজ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর পৌরসভায় অনাস্থা ভোট হওয়ার কথা। তার আগে গঙ্গারামপুর পৌরসভার 10 কাউন্সিলরদের বালুরঘাটের একটি হোটেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে এবার অভিযোগ তুলে সরব হল বিজেপি। প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটে এই বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ হেরে যাওয়ার পরই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি পদ থেকে বিপ্লব মিত্রকে সরিয়ে সেখানে অর্পিতা ঘোষকে বসান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর জেলা সভাপতির পদ থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব বিপ্লববাবুকে সরানোর পরই গত 24 শে জুন দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। এদিকে বিপ্লব মিত্র বিজেপিতে যোগ দিলেও তাঁর ভাই তথা গঙ্গারামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র তৃণমূলে থেকে যান। যদিও এর পরেই প্রশান্তবাবুর উপর কোনো ভরসা নেই বলে, তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানান দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী অর্পিতা ঘোষ।

পাশাপাশি প্রশান্ত মিত্রের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে দেখা যায় গঙ্গারামপুর পৌরসভার 10 জন কাউন্সিলরকে। এদিকে অর্পিতা ঘোষ এহেন কৌশল অবলম্বন করলে পাল্টা এই ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায় গঙ্গারামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্রকে। যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে উদ্যোগী হওয়া গঙ্গারামপুর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অমলেন্দু সরকারকে সরিয়ে সেখানে নতুন ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তুলসী চৌধুরীকে নিয়োগ করেন প্রশান্তবাবু।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

যার ফলে আরও জটিলতা তৈরি হয়। আর এরপরই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে, গত 23 জুলাই গঙ্গারামপুর পুরসভার উপর হাইকোর্টের পক্ষ থেকে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি হাইকোর্টের পক্ষ থেকে গঙ্গারামপুর পৌরসভার 18 জন কাউন্সিলরকে যাতে নিরাপত্তা দেওয়া হয়, তার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে গঙ্গারামপুর পৌরসভায় তৃণমূলের সাথে থাকা 10 জন কাউন্সিলার গত 26 তারিখ কলকাতা থেকে জেলায় ফিরে আসেন। পরবর্তীকালে তাঁরা জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি জানান। আর তারপর থেকেই তাঁরা বালুরঘাটের এক বেসরকারি হোটেলে বন্দি রয়েছেন, বলে অভিযোগ জানাতে শুরু করল গেরুয়া শিবির। যেখানে প্রায় 24 ঘন্টার জন্য পুলিশ মোতায়েনেরও ব্যবস্থা রয়েছে।

কিন্তু এইভাবে কি কোনো কাউন্সিলরকে হোটেল বন্দি করে রাখা ঠিক? এদিন এই প্রসঙ্গে গঙ্গারামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র বলেন, “প্রশাসন কাউন্সিলরদের নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে নজরবন্দি করে রেখেছে। বাকি আটজনকে কোনো নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি।” অন্যদিকে এই ব্যাপারে পাল্টা মুখ খুলে গঙ্গারামপুর পৌরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা অমলেন্দু সরকার বলেন, “আমাদের কাউন্সিলরকে আমরা কোথায় রাখব, সেটা আমাদের ব্যাপার।”

অর্থাৎ সব অর্থেই দেখা যাচ্ছে কর্ণাটকে যে কায়দায় ‘অপারেশন লোটাস’ হয়েছিল, এবার সেই একই পদ্ধতিতে পুরসভার দখল নিতে মরিয়া তৃণমূল। কিন্তু, কাউন্সিলরদের হোটেল বন্দি থাকার অভিযোগ নিয়ে তরজার মাঝেই আজ গঙ্গারামপুর পৌরসভার ভোটাভুটিতে কারা শেষ পর্যন্ত সেই পৌরসভা দখলে রাখে, সেই দিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!