এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > জেডিএসের ক্ষোভ কাজে লাগিয়ে কর্নাটকে মাত দিতে চেয়েছিলেন অমিত

জেডিএসের ক্ষোভ কাজে লাগিয়ে কর্নাটকে মাত দিতে চেয়েছিলেন অমিত

সংকল্প ছিল কর্নাটকে ফের উড়বে গেরুয়া ঝান্ডা। অমিত শাহের সে পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়ে কর্নাটকের রাশ টেনে নিল রাহুল সনিয়ারা। জানা যাচ্ছে, কর্নাটকের বিধানসভা নির্বাচনের প্রায় ৬ আগে থেকেই জেডিএস নেতা তথা প্রাক্তণ প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া ও তাঁর বড় ছেলে রেবন্নার সঙ্গে নিয়মিত যোগযাগ রাখছিলেন অমিহ শাহের ঘনিষ্ট কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। এমনকি গত মার্চে রেলমন্ত্রী দেবেগৌড়ার বাড়িতে গিয়েও তাঁর সঙ্গে বৈঠক করে এসেছেন। জানা যাচ্ছে, দেবেগৌড়া একরকম কংগ্রস বিদ্বেষীই ছিলেন কারণ কংগ্রেসই তাকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরিয়েছিল। এছাড়া সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী করার ব্যাপারেও একই কারণে অনিহা ছিল তাঁর। এই কারণকে সামনে রেখেই কর্নাটককে কুক্ষিগত করতে নাকি অমিত শাহরা বিধানসভা ভোটের আগেই টার্গেট করেছিলো কর্নাটকের জেডিএস নেতাদের।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

ওদিকে,রেলমন্ত্রীকে দেবগৌড়ার বাড়িতে হঠাৎ বৈঠকের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান যে দেবেগৌড়ার নির্বাচনী কেন্দ্রে কয়েকটি রেলের প্রকল্প সম্পর্কে আলোচনা করতেই নাকি তিনি গেছিলেন। পরে অবশ্য জানা গেছে, দেবেগৌড়ার পরিবারের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে নাকি আলোচনা করেছিলেন অমিত শাগ এবং পীযূষ গোয়েল। দেবেগৌড়ার বড় ছেলে রেবেন্নাকে উপমুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যছেলে কুমারস্বামীকে নাকি পূর্ণমন্ত্রী করার প্রস্তাব এসেছিলো বিজেপির তরফ থেকে। ভোটের ফলাফল জানার পরই নাকি প্রকাশ করা হবে জোটের ঘোষণা। এরকমই একটা সমঝোতা করার পরিকল্পনা চলছিল নাকি বিজেপির অন্দরে। তাই মোদীজি সহ বিজেপির বরিষ্ঠ নেতারা ভোটের আগে বারবার এড়িয়ে যাচ্ছিলেন জেডিএস নেতাদের সমালোচনা। উল্টে মোদীকে দেখা যায় দেবেগৌড়ার গুনবন্দনা করতে। এমনটাও জানা গেছে যে, ভোটের আগে নাকি পীযুষ গোয়েলের উদ্যোগে অমিত শাহ এবং কুমারস্বামী গুপ্ত বৈঠকও করেছেন মুম্বাইতে। এই বৈঠকে করা হয়েছিলো একটা ফর্মুলাও। কর্নাটকেরে বিধানসভার ভোট বিজেপি যদি আসনসংখ্যা কম পায় তাহলে জেডিএসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্নাটকের সরকার গড়ার আর্জি জানাবে।

কিন্তু হাটপার্টির দাবার চালে ভেস্তে গেলো বিজেপির পরিকল্পনা। ভোটের ফলাফলে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা ভেবে ভোট গননার ঠিক দুদিন আগে কুমারস্বামীকে সরাসরি ফোন করেছিলন রাহুল গান্ধী। রাখলেন কংগ্রসে জেডিএসের মহাজোটের প্রস্তাব। এরপর ভোটের ফল প্রকাশ্যে আসতেই দেখা গেলো কংগ্রস বিজেপির থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অনেকটাই পিছিয়ে আছে। তখনই রাহুল গান্ধী ডি কে শিবকুমার সহ বেশ কিছু কংগ্রস নেতাদের সঙ্গে ফেনে কথা বলে করে ফেললেন এ,বি,সি প্ল্যান। জোট গঠনের কথা জানাতে বলা হল দেবেগৌড়াকে। দলের একমাত্র ভরসাযোগ্য অভিজ্ঞ সাংসদ কে সি বেণুগোপালকে দেওয়া হল দেবেগৌড়াকে বোঝানোর দায়িত্ব। একই সঙ্গে দলের দুই বরিষ্ঠ নেতা গুলাম নবি আজাদ এবং অশোক গেহলকে কংগ্রস-জেডিএস জোট সফল করার নির্দেশও দেওয়া হল কংগ্রেস সভাপতির তরফ থেকে। তাঁদের বলা হল, জেডিএস এর কুমার স্বামী এবং দানিশ আলিকে জোট সরকার গঠনের সুফল বোঝাতে। তাঁদের বলা হল বোঝাতে যে কোনো জোরাজুরি হয়,বিজেপিকে হঠাতেই কংগ্রসের শর্ত মানতে হবে জেডিএসকে। দেবেগৌড়াকে সনিয়া গান্ধীর তরফ থেকেও একবার ফোন গিয়েছিলো জোট সরকার গড়ার প্রস্তাব দিতে। তবে জেডিএসের তরফের কুমারস্বামীও কোনো বাছবিচার না করে হাতপার্টির তরফ থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব পেয়ে ধরে ফেললেন কংগ্রেসের হাত। তবে শুধু কর্নাটকের লাগাম ধরতে নয়,আসছে ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে সরাতেই এই কংগ্রস-জেডিএস জোটগঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিলো,এমনটাই জানা যাচ্ছে কংগ্রেসের অন্দরের খবর থেকে।

Top
error: Content is protected !!