এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কন্যাশ্রী দিবসের টাকায় শাসকদলের দলীয় অনুষ্ঠান? বিস্ফোরক অভিযোগে টালমাটাল পুরসভা

কন্যাশ্রী দিবসের টাকায় শাসকদলের দলীয় অনুষ্ঠান? বিস্ফোরক অভিযোগে টালমাটাল পুরসভা

কন্যাশ্রী দিবস পালনের জন্য বরাদ্দ টাকায় তৃণমূলের দলীয় অনুষ্ঠান করা হয়েছে। এমনটাই অভিযোগ তুলে কোলকাতা পুরসভায় হইচই বাধিয়ে ফেলেছে কাউন্সিলাররা। কন্যাশ্রী দিবস পালনের লক্ষ্যে কোলকাতা পুরসভার এবছর প্রত্যেক কাউন্সিলারের জন্য ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। সে টাকা বরোর মাধ্যমে কাউন্সিলারদের কাছে যাওয়ার কথা। কিন্তু ওই টাকা কাউন্সিলারদের পকেটে না গিয়ে খরচা হয়েছে তৃণমূলের দলীয় অনুষ্ঠানে। এমনটাই অভিযোগ তুলেছে দক্ষিণ কোলকাতার ১০,১১,১২ নম্বর বরোর বাম কাউন্সিলাররা। বিষয়টি নিয়ে খুব শীঘ্রই মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। এমনটাই জানা গিয়েছে পুরসভার বাম পরিষদীয় দলের নেতা চয়ন ভট্টাচার্যের তরফ থেকে।

এর পাশাপাশি তিনি আরো জানিয়েছেন, বামফ্রন্ট কাউন্সিলার হওয়ার ‘অপরাধে’ এরকম অবিচারের মুখে পড়তে হল তাঁদের। সরকারি টাকা খরচ করে তৃণমূল যেভাবে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ম্যারপ বেঁধে ধুমধামে অনুষ্ঠান করেছে, তা দেখে মনে হয়েছে, কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা যেন তাদের পকেট থেকেই আসে। ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিএম কাউন্সিলার মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী জানান,সরকারি টাকা কীভাবে দলের নেতাদের পকেটে যাচ্ছে, তার জবাব মেয়রকে দিতেই হবে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক মন্ত্রীর নির্দেশেই এধরনের লাগামছাড়া দাপট চালাচ্ছে ঘাসফুল শিবির। উল্লেখ্য,এই তিনটি বরোর ৯১,৯২,৯৮,১০২, ১০৩ এবং ১১১ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছেন বামেদের কাউন্সিলাররা।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তবে এ অভিযোগ এবারই প্রথম ওঠেনি। আগেই ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের টাকা নিয়ে স্বেচ্ছাচার চালিয়েছে স্থানীয় শাসকদল। এই তিনটি বরো বাদ দিয়েও কম বেশি বহু জায়গায় বাম কাউন্সিলারদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। যাদবপুর,গড়িয়া,সন্তোষপুর বা ঢাকুরিয়ার মতো এলাকায় এখনো বিরোধী হিসাবে বামেরা নিজেদের প্রতাপ টিকিয়ে রেখেছে। এই কারণে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন অবিচার চালাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদের উপর,দাবী বামেদের। বামেদের সূত্র থেকে আরো জানা গিয়েছে,গত বুধবার স্মারকলিপি জমা দিতে যাওয়ার কথা ছিল মেয়রের কাছে। কিন্তু প্রাক্তণ প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ীর প্রয়ানের কারণে সে কর্মসূচি পিছিয়ে যায়।

আজকের পুরসভার মাসিক অধিবেশনে এই ইস্যু নিয়ে সরব হতে পারেন বাম কাউন্সিলরা,এমনটাই জল্পনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র পরিষদ সদস্য দেবাশিস কুমার ফোনে জানান, কোনো কাউন্সিলারদের হাতে টাকা দেওয়া হয়নি। বরো চেয়ারম্যানের কাছে টাকা পাঠানো হয়েছিল। তিনিই যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়েছেন। কোনো জনপ্রতিনিধিকে সরকারি টাকা পাওয়ার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে- এমন কোনো খবর তিনি জানেননা বলেই সাফ জানিয়ে দিলেন এদিন। তবে এই ইস্যুর জট এখনই কাটার কোনো সম্ভাবনা নেই। সামনের দিনে পুরসভায় এ নিয়ে জোর তর্জা হতে পারে দুই তরফের,এমনটাই আশঙ্কা করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!