এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > জঙ্গলমহলের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে বড়সড় নির্দেশিকা খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

জঙ্গলমহলের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে বড়সড় নির্দেশিকা খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

Priyo Bandhu Media


2019 এর লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের বুক থেকে হারিয়ে যেতে যেতে কোনরকমে রয়ে গেছে। কোনরকমে তাঁদের গড় বাঁচিয়েছে জিতে। এরাজ্যের 42 টি আসনের মধ্যে তৃণমূলের হাতে এসেছে মোট 22 টি আসন। 2019 এর লোকসভা ভোটের মধ্যে দিয়েই জঙ্গলমহল থেকে একেবারে ধুয়ে সাফ হয়ে গেছে তৃণমূল। প্রথম থেকেই শাসক দলের দাবি ছিল, জঙ্গলমহল হাসছে। কিন্তু জঙ্গলমহলই সেই কথার ঘুরিয়ে উত্তর দিয়েছে শাসক দলকে ভোটের মাধ্যমে। ফলস্বরূপ, জঙ্গলমহল থেকে তৃণমূলের কর্তৃত্ব কখন যে সরে গেছে, তা তাঁরা নিজেরাও বুঝতে পারেনি।

এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জঙ্গলমহলকে নিয়ে নানান কথা বলেছিলেন। তার মধ্যে তিনি সব সময় বার্তা দিয়েছিলেন, জঙ্গলমহল হাসছে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই জঙ্গলমহলের সে হাসি মিলিয়ে যায়। তবে শাসকদল সে কথা বুঝতে পারেনি। যখন বুঝল, তখন অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। 2019 এর লোকসভা ভোটে জঙ্গলমহলের সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব হাতছাড়া হয়ে গেছে তৃণমূলের। এবার তাই 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে জঙ্গলমহলকে পুনরায় নিজেদের দখলে আনতে নতুন করে পরিকল্পনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভা ভোটের পর বলেছিলেন, সাধারণ মানুষের জন্য জনদরদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে অনেক। কিন্তু তা সত্বেও জঙ্গলমহলের মানুষ কেন মুখ ফিরিয়ে নিলেন তা বোঝা যাচ্ছে না। সেই কারণ অনুসন্ধান করতে শুধুমাত্র দলের নেতা মন্ত্রীদের ওপর তিনি ভরসা না করে প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও জঙ্গলমহলের পরিস্থিতি বুঝতে কাজে লাগাচ্ছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই পরিকল্পনায় যোগ হয়েছেন রাজ্যের জেলাশাসকরাও। এবার জেলা শাসকরা জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে উন্নয়নের কাজে কি কি ঘাটতি রয়েছে, এলাকার জন্য কি কি করা যায় ইত্যাদি পরিকল্পনা রূপায়ণে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে শুরু করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, কোনরকমেই যেন উন্নয়নের কাজে গাফিলতি না হয়। প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, উন্নয়নের জন্য এলাকার মানুষের সাথে কথা বলতে হবে। আর সেই উদ্যোগেই এবার জেলা শাসকদের জনতার দুয়ারে পাঠানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

আর এই পরিকল্পনাকে সফল করতে জঙ্গলমহলের সমস্ত জেলার শাসকরা ময়দানে নেমে পড়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে জেলাশাসকরা উন্নয়নের কাজ খতিয়ে দেখছেন। কি কারনে জঙ্গলমহলের মানুষের হাতে উন্নয়ন পৌঁছাচ্ছে না, সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রয়েছে তাঁদের। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রীর নজরে এসেছে তাঁর দলের নেতাদের দুর্নীতি ও দলবাজির বিষয়টি। তাই তিনি এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভা ভোটের পর বুঝতে পেরেছেন, দলের নেতাদের দুর্নীতি ও দলবাজির কারণে মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। নেতাদের প্রতি মানুষের ক্ষোভ ভোট বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, জঙ্গলমহলের মানুষের সরকারের প্রতি কোনো ক্ষোভ থাকতে পারেনা। কারণ, তাঁর সরকার সাধারণ মানুষের সরকার হয়ে মানুষের উন্নয়নের কাজ করে চলেছে প্রতিনিয়ত। আর সেই উপলব্ধির জায়গা থেকেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের পাশাপাশি রাজ্যের জেলা শাসকদেরও উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করছেন জঙ্গলমহলে।

তৃণমূল কংগ্রেসের জনসংযোগ কর্মসূচি ‘দিদিকে বল’ কে সঙ্গী করে তৃণমূলের বিধায়ক মন্ত্রী-সাংসদরা যখন এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, এলাকায় রাত কাটাচ্ছেন, সেসময় জেলাশাসকও তাঁর মতো করে প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে এলাকায় ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে উন্নয়নের মাপকাটি বুঝতে চাইছেন। বুঝতে চাইছেন জঙ্গলমহলের মানুষের মনের কথা।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিরোধীদল শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে বলেছেন, নেতাদের দুর্নীতি এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে যে সেখান থেকে বের হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আর জঙ্গলমহলের মানুষ সে কথা বুঝে গেছে। তাই উন্নয়নের নামে আর বোকা বানানো সম্ভব নয় তাদের।

তবে এ সম্পর্কে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হলো, মানুষ উন্নয়ন দেখে ভোট দেয়। তাই সঠিক উন্নয়ন হলে মানুষই তার মূল্যায়ন করবে। উন্নয়নের নামে যদি মানুষকে বোকা বানানো হয়, তাহলে সেই রাজনৈতিক দলের ঘুরে দাঁড়ানো মুশকিল হতে পারে। তবে জঙ্গলমহল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস যথেষ্ট চিন্তিত, এবং সে কারণেই তৃণমূল সুপ্রিমো জঙ্গলমহলের ওপর বিশেষ নজর দিয়েছেন 2021 এর বিধানসভা ভোটের লক্ষ্যে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!