এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সরকারি মদতে বাংলায় সন্ত্রাস যজ্ঞ চলছে! তৃনমূলকে জেপি নাড্ডার আক্রমণ উচ্চগ্রামে চড়ছে

সরকারি মদতে বাংলায় সন্ত্রাস যজ্ঞ চলছে! তৃনমূলকে জেপি নাড্ডার আক্রমণ উচ্চগ্রামে চড়ছে

যত দিন যাচ্ছে, যতই তৃণমূলের প্রতি তাদের আক্রমণ বাড়াচ্ছে বিজেপি। এতদিন রাজ্যের নেতাদের মধ্যেই শাসক দলকে আক্রমণ করা সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এবার বিজেপির সর্বভারতীয় কার্যকরী সভাপতি রাজ্যে এসে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় বিধতে শুরু করলেন। মহালয়ার দিনে সাধারণত পূর্বপুরুষদের তর্পণ করা হয়। আর রাজ্যে তাদের দলীয় কর্মীরা ব্যাপকভাবে তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত হয়ে নিহত হচ্ছেন, এই অভিযোগ নিয়ে এবার সেই নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারকে কলকাতায় এনে তাদের শহীদ তর্পণ করল গেরুয়া শিবির।

সূত্রের খবর, এদিন গঙ্গার ধারে তর্পনের জন্য রাজ্যের বিভিন্ন জেলার 67 জন শহীদ পরিবারের 70 জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রথম থেকেই কথা ছিল যে 80 জন শহীদ পরিবারকে নিয়ে এই তর্পণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু কেন তা কমে দাঁড়াল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে নিহত একাধিক সংখ্যালঘু বিজেপি কর্মীর পরিবারের সদস্যরা এদিন এই তর্পণ অনুষ্ঠানে আসেনি। তাই সেই সংখ্যাটা 70 এ দাঁড়িয়েছে বলে দাবি একাংশের। এদিন বাংলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করতে বাগবাজার ঘাটে উপস্থিত হয়েছিলেন জেপি নাড্ডা।

আর সেখানে উপস্থিত হয়ে এই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গলরাজ চলছে। সরকারি মদতে বাংলায় সন্ত্রাস যজ্ঞ চলছে। বিরোধীদের ওপর নাগাড়ে হামলা চালানো হচ্ছে।” পরে তর্পণ অনুষ্ঠান শেষে ফের আরও একবার বাংলার গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির অভাব রয়েছে বলে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলল বিজেপির কার্যকরী সভাপতি। তিনি বলেন, “বাংলার অতীত গৌরব আজ ভূলুণ্ঠিত। গত 40 বছরে বাংলায় গ্রহণ লেগেছে। মমতার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

জেপি নাড্ডা আরও জানান, “ওনাকে (তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে) মাথায় রাখতে হবে, যে গণতন্ত্র মানবে না, তাকে চলে যেতে হবে। একমাত্র বিজেপিই বাংলার হৃতগৌরব ফেরাতে সক্ষম।” এতদিন বঙ্গ বিজেপির তরফে মুকুল রায় বা দিলীপ ঘোষরা যে অভিযোগ জানিয়ে এসেছিলেন, এদিন যেন তারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল বিজেপির কার্যকরী সভাপতির গলায়। সম্প্রতি দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে আসেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর, সেই সাক্ষাৎকারকে তৃণমূল বা বিজেপির তরফে ‘প্রশাসনিক’ আখ্যা দেওয়া হলেও, তাকে ‘সেটিং’ বলে আক্রমণের ঝড় তুলেছে বামফ্রন্ট বা কংগ্রেস। কিন্তু, কোথাও যে ‘সেটিংয়ের’ কোনো ব্যাপার নেই – তা বিজেপির সর্বভারতীয় কার্যকরী সভাপতির তীব্র আক্রমণেই প্রমাণিত – বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। অন্যদিকে, বিজেপির তরফ থেকে এই তর্পণ করে যতই তৃণমূলকে আক্রমণ করা হোক না কেন, তাকে অতটা গুরুত্ব দিতে নারাজ ঘাসফুল শিবির।

এদিন এই প্রসঙ্গে রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রবীণ সদস্য সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, “তর্পণ মূলত পিতৃপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানোর হিন্দুদের ধর্মীয় আচার। কিন্তু স্রেফ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তর্পণকে এভাবে অন্তর্ভুক্ত করা ঠিক নয়।” সব মিলিয়ে নিহত দলীয় কর্মীদের আত্মার শান্তি কামনায় শহীদ স্মরণ করতে গিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল তুলে দিলেন সর্বভারতীয় বিজেপির কার্যকরী সভাপতি। বিশেষ করে আর কদিন বাদেই রাজ্যে পা রাখছেন অমিত শাহ – তার আগে গেরুয়া শিবিরের এই আক্রমনাত্মক মেজাজ রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!