এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > আজ থেকে দিল্লিতে বিজেপির মহাবৈঠক, যাওয়ার আগে বড় বার্তা জয় বান্দ্যোপাধ্যায়ের

আজ থেকে দিল্লিতে বিজেপির মহাবৈঠক, যাওয়ার আগে বড় বার্তা জয় বান্দ্যোপাধ্যায়ের

আজ থেকে দিল্লিতে দুদিন-ব্যাপী বিজেপির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠক শুরু হচ্ছে। আগামী লোকসভা নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন বলে মনে করা হচ্ছে। আর সেই লোকসভা নির্বাচনে বাংলা এবার গেরুয়া শিবিরের কাছে বিশেষ গুরুত্ত্ব পাচ্ছে সে কথা বলাই বাহুল্য। এই বৈঠকে যোগ দিতে অন্যান্য শীর্ষনেতাদের সঙ্গে গতকাল বিকেলে দিল্লি উড়ে গেলেন প্রথমবারের জন্য বিজেপির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিতে স্থান পাওয়া জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর যাত্রার ঠিক আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি এক্সক্লুসিভলি প্রিয় বন্ধু বাংলার মুখোমুখি হলেন। জানালেন অনেক কথায় – একেবারে খোলাখুলি।

প্রথমেই আমাদের তরফে প্রশ্ন ছিল, ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠকে প্রথমবার যাচ্ছেন – কেমন লাগছে? জবাবে জয় ব্যানার্জি জানান, আমি তো নরেন্দ্র মোদীজিকে রামকৃষ্ণ ভেবে দেশ সেবা করতে এসেছি। যেদিন থেকে আমি বিজেপিতে যোগদান করেছি সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত এবং যতদিন বাঁচব ওনার আদর্শে দেশসেবা করব। সেইজন্য আমি কখনো এসি ঘরে বা পার্টি অফিসে বসি না অথবা আমি কোনোরকম গল্প-আড্ডায় অহেতুক সময় নষ্ট করি না। আমি যেদিন থেকে বিজেপি করছি সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত বিজেপিকে প্রমোট করে যাচ্ছি এবং আমার স্বপ্নই বলুন বা লক্ষ্যই বলুন এই ভেঙে পড়া, মানুষের নাভিশ্বাস ওঠা বাংলাকে বাঁচাতে নরেন্দ্র মোদীজির নেতৃত্ত্বে বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে প্রতিষ্ঠা করা।

শেষ বিকেলের আলোয় দাঁড়িয়ে জয়বাবু আরো বলেন,আর তার জন্য আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি এবং আজ এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে কঠোর পরিশ্রম এবং সততা থাকলে বিজেপিতে যে কোন কর্মীই উপর দিকে উঠতে পারবে। আমি যখন বিজেপিতে যোগদান করি, তখন কিন্তু কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীজির নেতৃত্ত্বধীন বিজেপি সরকার ছিল না! কিন্তু, সেদিন সেসব সাত-পাঁচ না ভেবে আমি এসে বিজেপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে লড়েছি এবং বীরভূমের মত কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। কিন্তু, আমার পরে যাঁরা এসেছেন তাঁরা রাজ্যে বিভিন্নরকম পদ পেয়ে গেছেন – আমি সেদিক থেকে অনেক পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু, এরজন্য আমি কখনো ভেঙে পড়িনি – দুঃখ একটু হত বটে, কিন্তু আমি নিরলসভাবে পরিশ্রম করে গেছি।

একটু অতীত দিনের স্মৃতি রোমন্থন করে বাংলা চলচিত্র জগতের একসময়ের এক নম্বর নায়ক বলে চলেন, গ্রামে-গঞ্জে মাঠে-ঘাটে আমার অভিনীত পুরোনো ছবি মনে রেখেই অনেকে আসতেন, ফলে প্রচুর ভিড় হয়েছে আমার সভাগুলিতে। বহু মানুষ অন্যদল ছেড়ে আমার হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করেছেন। আমার সভায় যাঁরা আসতেন তাঁরা তো শুধু রাজনৈতিক পরিচয়েই আসতেন না, আমার ভক্তেরাও আসতেন – ফলে, অন্য রাজনৈতিক দলের ভোট বিজেপিতে এসেছে। কেননা তাঁরা হয়ত ভেবেছেন, জয় ব্যানার্জি যখন বলছেন তখন একবার বিজেপিতে ভোট দেব। এই ব্যাপারটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত্ব লক্ষ্য করেছেন এবং তারফলেই আমাকে এই কেন্দ্রীয় এক্সিকিউটিভ বৈঠকে আহ্বান জানানো হয়েছে। আমি, অবশ্যই শিহরিত-আনন্দিত। কেননা এটা অনেকটা স্বপ্নপূরণ হওয়ার মত।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

আত্মপ্রত্যয়ী জয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলে চলেন, বিজেপির মত জাতীয় একটি দলে একেবারে রাজ্য কমিটি থেকে ন্যাশনাল কমিটিতে স্থান পাওয়া, এটি অত্যন্ত সম্মানের। আমি অবশ্যই এর সদ্ব্যবহার করার সম্পূর্ণ প্রচেষ্টা চালাব – যাতে করে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ত্বের সঙ্গে সুসংহতভাবে কাজ করে বাংলায় পরিবর্তন আনা যায়। কেননা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত মহীরূহকে সড়াতে হলে দু-চারজন মিলে সম্ভব নয়, নতুন-পুরোনো-অভিমানে বসে যাওয়া নেতা-কর্মী সবাই মিলে একটা মেলবন্ধন করে কাজ করতে হবে। আগামী লোকসভা নির্বাচনে অমিত শাহজি যে লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছেন এই রাজ্য থেকে – সেই ২২ টা লোকসভা আসন যেন এই রাজ্য থেকে আমরা জিততে পারি তাহলে বিধানসভা নির্বাচনে আমরা তৃণমূল কংগ্রেসকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেব এটা নিশ্চিত।

এই বৈঠকে কি কি বিষয়ে আলোচনা হবে জানতে চাওয়া হলে জয়বাবু বলেন, সেটা এই মুহূর্তে আমি বলতে পারব না – তবে নিশ্চিতভাবেই অমিত শাহজি কিছু স্ট্র্যাটেজির কথা ভেবেই এই বৈঠক ডেকেছেন। আমার মতে, উনি শুধু একজন বড় মাপের নেতা নন, উনি একজন খুব বড় মাপের গণিতবিদ। আর, আজকের জীবনে সফল হতে গেলে অঙ্ক জানাটা খুব গুরুত্ত্বপূর্ন। কেননা এটি অঙ্কের যুগ – খেলা থেকে রাজনীতি সবেতেই অঙ্ক কোষে এগোনোটা খুব গুরুত্ত্বপূর্ন। আর সেই অঙ্কটা কিন্তু উনি মারাত্মক জানেন – তাই, আমার মনে হয়, উনি নিশ্চিতভাবে এরকম একটা অঙ্ক করেছেন যা আমরা এই বৈঠকে হয়ত জানতে পারব। আমাদের যা নির্দেশ দেবেন তা আমরা মাথা পেতে নেব – কেননা, নরেন্দ্র মোদীজি হচ্ছেন আমাদের রাম আর অমিত শাহজি হচ্ছেন আমাদের লক্ষ্মণ। আর আমি নিজেকে মনে করি হনূমান – সেই জন্য ওনারা যা নির্দেশ দেবেন আমি মাথা পেতে নেব।

এই বৈঠক নিয়ে বিশেষ কোনো কৌশল বা পরিকল্পনা – প্রশ্নের উত্তরে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, আমি বিজেপির আদর্শ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে শিলিগুড়ি থেকে সাগর, জঙ্গল থেকে পাহাড় ঘুরেছি। ফলে আমার মনে নির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা ও বক্তব্য আছে যা আপনাদের সামনে আমি এই মুহূর্তে বলছি না। তবে, অঙ্কটা আমিও ভালোই বুঝি কেননা আমি নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াশোনা করেছি, ভালো বংশে জন্ম – তাই আমার পরিকল্পনা আমি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত্বের সঙ্গে আলোচনা করব তারপর কি হয় ফিরে এসে আমি আপনাদের জানাবো।

রাজনীতিবিদ হিসাবে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের কি চাওয়ার আছে – এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বার্তা দেন, রাজনীতিবিদ জয় বন্দ্যোপাধ্যায় একটা জিনিসই শেখাবে – সুন্দর পশ্চিমবঙ্গ, সোনার বাংলায় সবাই মিলে ভাই ভাই হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যাতে বজায় রাখে। আমরা এখানে সুন্দর করে থাকি – আবার আমরা যেন রবীন্দ্রনাথ-নজরুল ইসলামের বাংলায় ফিরে আসতে পারি যাতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই স্বপ্ন বিক্রি করেছিলেন সবার কাছে – কিন্তু উনি কিছুই করতে পারেননি। বরং লাল-সাদা বোমায় আর নীল-সাদা ব্রিজ ভেঙে বহু লোকের মৃত্যু! এইসব বন্ধ হয়ে সবাই মিলে যাতে মন খুলে, দিল খুলে একসাথে বসবাস করতে পারি তাই চাইব।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!