এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মোদী থেকে শাহ, রাজনাথ থেকে যোগী – দিল্লি বিজেপি এখন শুধুই জয় ব্যানার্জি-ময়

মোদী থেকে শাহ, রাজনাথ থেকে যোগী – দিল্লি বিজেপি এখন শুধুই জয় ব্যানার্জি-ময়

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য রেখে সম্প্রতি দিল্লিতে হয়ে গেল বিজেপির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির গুরুত্ত্বপূর্ন বৈঠক। সেই বৈঠকে বাংলা থেকে ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির মেম্বার হিসাবে ডাক পেয়েছিলেন মুকুল রায় ও জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকের পরেও নিজস্ব কিছু বিশেষ বৈঠকের জন্য দিল্লিতে ছিলেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায় – সেইসব গুরুত্ত্বপূর্ন বৈঠক শেষ করে কলকাতায় পা রাখতেই বিমানবন্দরেই কলকাতার দক্ষিণ শহরতলীর বিজেপির কারকর্তাদের তরফে সংবর্ধনায় ভরিয়ে দেওয়া হয় জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

এই প্রথম ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন জয়বাবু – তাই আমাদের প্রতিনিধিদের স্বাভাবিক প্রশ্ন ছিল, কেমন ছিল দিল্লি সফর। জবাবে তিনি জানান, এই দিল্লি সফর তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবে বা দল হিসাবে বিজেপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁদের জানিয়েছেন – জোট বা ভোট নিয়ে তাঁদের কোনোরকম দুশ্চিন্তা করতে হবে না, সেসব নিয়ে ভাববেন তাঁরা। বিজেপির নেতা-কর্মীরা শুধু গ্রামে-গঞ্জে সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে দেখুন – প্রধানমন্ত্রী যে একের পর সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রকল্প রূপায়ন করছেন তার সুবিধা তাঁরা পাচ্ছেন কিনা।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

জয়বাবু আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের জানিয়েছেন এর আগে পরপর দুবার বিজেপির সরকার গঠিত হয় নি ,তাই ২০১৯ এর লড়াই তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন। কিন্তু, এই লড়াইয়ে যদি বিজেপি জয়ী হতে পারে তাহলে আগামী ৫০ বছরে বিজেপিকে হারানোর কেউ নেই। কেননা সম্মিলিত বিরোধীদের না আছে কোন নীতি না আছেন কোন নেতা। আর এসবের মাঝেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একেবারে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তাঁকে ‘গো-অ্যাহেড’ বা এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তবে শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই নন – জয়বাবুকে নিয়ে উচ্ছস্বিত ছিলেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহও।

জয়বাবুর কথা অনুযায়ী – মোদী-শাহের পর এই মুহূর্তে বিজেপিতে সবথেকে ‘গ্ল্যামারাস’ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সেই তিনি, দ্বিপ্রাহরিক ভোজনের সময় জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে এসে জিজ্ঞাসা করেন – জয়জি ক্যায়সে হ্যায়? রীতিমত চমকে ওঠা জয়বাবুকে আশ্বস্ত করে যোগী আদিত্যনাথ জানান, তাঁকে শুধু শিল্পী হিসাবেই নয়, বর্তমানে একজন বিজেপি-নেতা হিসাবে তিনি যেভাবে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন তা গোটা ভারতের বিজেপির কাছে রীতিমত চর্চিত বিষয়।

তবে শুধু যোগী আদিত্যনাথই নন – জয়বাবুকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব থেকে শুরু করে আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। আসামের মুখ্যমন্ত্রী তো তাঁকে আসামে নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন কামাখ্যা মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য। অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস ছত্তিশগড়ের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্ত্ব পেতে চলেছেন। আর সেখানকার বাঙালিদের কথা মাথায় রেখে তিনি জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেখানকার নিবার্চনী প্রচারের কাজে লাগাতে চান বলে অনুরোধ জানিয়েছেন।

এরপরে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একান্তে বিশেষ বৈঠক হয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের। যেহেতু, জয়বাবু কেন্দ্রের দাঙ্গা নিয়ে বিশেষ কমিটির অন্যতম গুরুত্ত্বপূর্ন সদস্য – তাই আগামী উৎসবের মরশুমে মহরম ও দুর্গাপূজা নিয়ে যাতে কোনোপ্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরী না হয় তার জন্য সেই বৈঠকে আলাদা করে আলোচনা হয়। এছাড়াও কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জয়বাবুর গুরুত্ত্বপূর্ন দুটি বৈঠকও হয়েছে। এছাড়াও তিনি একটি বিশেষ প্রকল্পের রূপরেখা অমিত শাহের কাছে জমা দেন – যে প্রকল্প নিয়ে অমিত শাহ খুবই উচ্ছ্বসিত, শুধু বাংলা নয় – সেই প্রকল্প তিনি সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে চালু করতে চান। তবে, এই প্রকল্পের ব্যাপারে এখনই মুখ খুলতে নারাজ জয় বন্দ্যোপাধ্যায়, পরে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বিস্তারিতভাবে তা জানাবেন।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!