এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে অর্থমন্ত্রীকে দিলেন বড়সড় ‘শিক্ষা’, চূড়ান্ত অনাস্থা সরকারের উপর?

সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে অর্থমন্ত্রীকে দিলেন বড়সড় ‘শিক্ষা’, চূড়ান্ত অনাস্থা সরকারের উপর?

বিরোধীদের তরফে বারেবারেই অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রের মোদী সরকার নাকি গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলে পরিচিত সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিচ্ছে না। আর বিরোধীদের সেই দাবিকে বড়সড় মান্যতা দিয়ে এবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন সাংবাদিকরা। সূত্রের খবর, “সাংবাদিকতার স্বাধীনতা” রক্ষার জন্য অভূতপূর্ব ঐক্য প্রদর্শন করে অর্থ মন্ত্রকের দেওয়া দিনার বয়কট করলেন ১০০ জনেরও বেশি সাংবাদিক!

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামান বাজেট পরবর্তী আলোচনার জন্য ও এই বাজেট সেশন কভার করা সাংবাদিকদের সম্মানার্থে নৈশাহারের ব্যবস্থা করেন। সেখানেই, অন্তত ১০০ জন সাংবাদিক তা বয়কট করেন – আর তাই নিয়ে কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছেন সংশ্লিষ্ট আমলা থেকে শুরু করে দপ্তরের কর্মীরা। একটি বড়সড় বিজনেস নিউজ চ্যানেলের নামি সাংবাদিকের দাবি অনুযায়ী ওই নৈশাহারে হাতে গোনা ৪-৫ জন সাংবাদিক ও ১৬ জন এডিটর কেবলমাত্র অংশগ্রহণ করেছিলেন।

সূত্রের খবর, সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রকের তরফে নর্থ ব্লকে মিডিয়া কর্মীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, এবার থেকে অর্থমন্ত্রক কর্তৃক অনুমোদিত মিডিয়া পার্সনরাই নর্থ ব্লকে প্রবেশ করতে পারবেন, তাও আবার আগে থেকে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা থাকলে তবেই – বলে জানানো হয়েছে। আর তারই প্রতিবাদে সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে এবার অর্থমন্ত্রীকে ‘শিক্ষা’ দিতে তাঁর ডিনার বয়কট করলেন। রাজধানীর রাজনীতি কভার করা সাংবাদিকদের মতে, কেন্দ্র সরকারের এই ধরনের পদক্ষেপ সাংবাদিকতা পেশার জন্য চূড়ান্ত অপমানকর।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

দিল্লির এক সিনিয়র সাংবাদিকের কথায়, এই বয়কট বর্তমান সাংবাদিকদের স্বার্থরক্ষার পাশাপাশি, আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্যও প্রয়োজনীয় ছিল। আর তাই, এএনআই এর মতো কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া, এই বয়কট বাকি সমস্ত নিউজ চ্যানেল ও সংবাদপত্রের সাংবাদিকদের দ্বারা সমর্থিত ছিল। তবে সাংবাদিক মহল এও জানাচ্ছে, নিজের সংস্থার প্রবল চাপের ফলেই এএনআই-এর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ওই নৈশভোজে যোগ দিতে একপ্রকার বাধ্য হন। কিন্তু, তিনিও মানসিকভাবে ব্যক্তকারীদের সঙ্গেই ছিলেন ও আছেন।

সূত্রের খবর, হোটেল কর্মীদের ছাড়াও অর্থ মন্ত্রকেরই ৩৪ জন বিশিষ্ট আধিকারিকদের হোটেল তাজমহলে সাংবাদিকদের স্বাগত জানানোর জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল। কেননা প্রায় ১৮০ জন সাংবাদিককে এদিনের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে যোগ দেন মাত্র ৪-৫ জন। ফলে, সাংবাদিকরা মজা করে বলছেন – এতো গেস্টের থেকে হোস্টের সংখ্যা বেশি! কিন্তু, মজা নয় – সাংবাদিকদের এই পদক্ষেপেই স্পষ্ট – কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের দূরত্ত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

কেন্দ্রীয় সরকার এখনই যদি দ্রুত কোনো বলিষ্ঠ পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে কিন্তু আগামী দিনে সেই ফাটল আরও চওড়া হবে। কেননা, দেশে ‘এমার্জেন্সি’ চালু করেও সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে রাখা যায় নি – অনেক শাসকের আমলেই তাঁদের বিরুদ্ধে কলম ধরলেই জেলে যেতে হয়েছে। কিন্তু, তা সত্ত্বেও সময় ও সুযোগ পেতেই কিন্তু সেই সরকারের পরিবর্তন করতে সংবাদমাধ্যম বড় ভূমিকা নিয়েছে। আর তাই, মোদীর দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই কিন্তু কড়া বার্তা দিয়ে আগাম সাবধানবাণী দিয়ে রাখল সংবাদমাধ্যম।

Top
error: Content is protected !!