এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > ঝাড়গ্রাম গেরুয়া-ময় হতেই আদিবাসী আন্দোলনের নেতার স্ত্রীকে প্রার্থী করে মরিয়া চেষ্টা তৃণমূলের

ঝাড়গ্রাম গেরুয়া-ময় হতেই আদিবাসী আন্দোলনের নেতার স্ত্রীকে প্রার্থী করে মরিয়া চেষ্টা তৃণমূলের

ঝাড়গ্রামে যে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে তার প্রমাণ গত পঞ্চায়েত নির্বাচন। তৃণমূলের দীর্ঘদিনের শক্তিঘাঁটিতেই তৃণমূলকে ছাপিয়ে উপরে উঠেছিল পদ্মশিবির। তাই ঝাড়গ্রামকে গেরুয়া-প্রভাব থেকে মুক্ত করার পরিকল্পনা পঞ্চায়েত ভোটের পর থেকে শুরু করে দিয়েছিল শাসকদল। এরমধ্যে রবিবার লোকসভা ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশিত হতেই গতকাল তড়িঘড়ি করে ভোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেয় তৃণমূল।

আদিবাসী আন্দোলনের নেতার স্ত্রী বীরবাহা সরেন টুডুকে ঝাড়গ্রামের তৃণমূল প্রার্থী করা হয়েছে। তবে তাঁর স্বামী রবিন টুডুর বক্তব্য,তাকে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সংগঠনে থাকতে রাজি হননি তাই প্রস্তাবটা তাঁর স্ত্রীর কাছে গিয়েছে। তবে লোকসভা ভোটে তাঁর স্ত্রীর প্রার্থী হওয়া নিয়ে কোনোরকম মাথা ঘামাতে চান না তিনি। এটা সম্পূর্ণই বীরবাহা দেবীর ব্যক্তিগত ব্যাপার বলেই মন্তব্য করলেন তিনি।

তবে বললেন,তৃণমূল সরকার সাঁওতালি ভাষার শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক দাবী পূরণ করেছে। আগামীদিনে বাকি দাবীদাওয়া পূরণ না হলে স্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার কথাও বলেন তিনি।

জেলা সূত্রের খবর থেকে জানা গিয়েছে,ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল থানার রোহিনী গ্রামের বছর ৪৮ এর বাসিন্দা বীরবাহা সরেন পেশায় একজন শিক্ষিকা। জামবনী থানার পড়িহাটির অঞ্চলে ছোটবনসরো গ্রামে তাঁর বাপের বাড়ি। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি বেব্রোন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার পর কাপগাড়ি সেবাভারতী মহাবিদ্যালয় থেকে বিপিএড পাশ করেন। এরপর ভিনরাজ্য থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করার পর ২০০৪ সালের ১৫ মার্চ চাকরিতে যোগ দেন।

হাতের মুঠোয় আরও সহজে প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে যোগ দিন –

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

বর্তমানে রোহিনী বালিকা বিদ্যালয়ের টিচার-ইন-চার্জ তিনি। এরপর তিনি বিয়ে করেন রবিন টুডুকে। রবিনবাবু পেশায় শিক্ষক না হলেও আদিবাসী সংগঠনের প্রধান। ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের ঝাড়গ্রাম,মেদিনীপুর ও পূর্ব মেদিনীপুর এই তিন জেলার জেলা পরগনা।

উল্লেখ্য,গত পঞ্চায়েত ভোটে আদিবাসী ভোট সেভাবে দখলে রাখতে পারেনি শাসকদল। আদিবাসীরা সমন্বয় মঞ্চ গড়ে লড়াই করেছিল। এর পুরো ফায়দা তুলেছিল বিজেপি। তাছাড়া প্রাক্তন সাংসদ উমা সরেনের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ক্ষোভ ছিল সাধারণ মানুষ এবং দলীয় নেতৃত্বদের।

অন্যদিকে,আদিবাসী সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল সাঁওতালি ভাষায় শিক্ষার দাবীতে একাধিকবার অবরোধ ঘেরাও কর্মসূচি করে সরকারকে চাপে ফেলেছিল। এই প্রেক্ষিতে আদিবাসী আন্দোলনের নেতার স্ত্রীকে ঝাড়গ্রামের প্রার্থী করে তৃণমূলনেত্রী মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন। প্রার্থী হওয়ার পর বীরবাহাদেবী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি আদিবাসী মানুষ সহ সমস্ত মানুষের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন।

জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হয়ে বলেছেন,’জয়ের ব্যাপারে আমি ১০০শতাংশ নিশ্চিত।’ জয়ের পর কী কাজ করবেন সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছেন,আগে শিক্ষার দিক গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সাঁওতালি ভাষার শিক্ষা ব্যবস্থা ও ঝাড়গ্রামের জলের সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করবেন বলেছেন। যেহেতু তিনি গ্রামের মেয়ে তাই মানুষ অসুবিধায় পড়লে তাকেই জানাবে। তিনি সবসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন বলেই জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত,জানা গিয়েছে,তৃণমূল নেত্রী প্রার্থী ঘোষণা করার সময় বীরবাহাদেবী তাঁর স্বামীকে চিকিৎসার জন্য ঝাড়গ্রাম শহরে এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে এসেছিলেন।সংবাদমাধ্যমের কাছেই প্রথম নিজের প্রার্থী হওয়ার খবর পান তিনি। এবং প্রার্থী হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি তিনি।

তবে আদিবাসী সমন্বয় মঞ্চ এই মুহূর্তে বীরবাহা সরেন টুডুকে সমর্থন করছে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। মঞ্চের সভাপতি বাবলু মুর্মু বলেন,’পঞ্চায়েতে পারাগানা মহল আমাদের সমর্থন করেছিল। আমরা বিজেপির সঙ্গে জোটে যাব না। আমরা এখনই বীরবাহাদেবীকে সমর্থন করছি না। তবে এই মুহূর্তে সমর্থন না করলেও আলোচনার রাস্তা খোলা রয়েছে।’

Top
error: Content is protected !!