এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > ঝাড়গ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব প্রশান্ত কিশোরের, জেনে নিন

ঝাড়গ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব প্রশান্ত কিশোরের, জেনে নিন

2019 সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের অনেক জায়গাতেই অভূতপূর্ব উত্থান ঘটেছে ভারতীয় জনতা পার্টির। আর তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, আদিবাসী অধ্যুষিত লোকসভা কেন্দ্র ঝাড়গ্রাম। এই লোকসভা কেন্দ্রে এবার ব্যাপক পরিমাণে জনসমর্থন লাভ করতে সক্ষম হয়েছে রাজ্যের গেরুয়া শিবির।

শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে যা রীতিমতো রক্তচাপ বাড়ানোর সংকেত দিয়েছে। শুধু তাই নয়, লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি ওই এলাকায় যেরকম ভোটে এগিয়ে গেছে, তাতে করে আগামী দিনে পৌরসভা নির্বাচনে লোকসভা ভোটের সংখ্যার নিরিখে তারা অনেকটাই এগিয়ে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। আর সেই কারণেই ঝাড়গ্রামে তৃণমূল পার্টিকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্রিয় হতে দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেস দ্বারা নিযুক্ত প্রখ্যাত নির্বাচনী রণনীতিকার প্রশান্ত কিশোরের টিমকে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে যখন পশ্চিমবঙ্গের 42 টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে 18 টি আসন দখল করে ফেলে ভারতীয় জনতা পার্টি, তখন রাজনৈতিক মহলের মধ্যে রীতিমতো আলোচনা হতে শুরু হয় যে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ক্ষমতা দখল করতে পারে ভারতীয় জনতা পার্টি।

চতুর্দিকের পরিস্থিতি বুঝে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের রাজনৈতিক বৈতরণী পার করার জন্য 2014 সালে নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী রণনীতিকার প্রশান্ত কিশোরকে নিযুক্ত করেন। আর তার পরেই পশ্চিমবঙ্গের তিন তিনটি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনে যে দুইটিতে লোকসভা ভোটের নিরিখে অনেকটাই এগিয়ে ছিল ভারতীয় জনতা পার্টি, সেখানে পদ্মফুলকে ব্যাকফুটে ফেলে দিয়ে হ্যাটট্রিক করতে দেখা যায় তৃণমূল কংগ্রেসকে।

যাকে কেন্দ্র করে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে যায়, এই জয় আসলে প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক রণনীতির জোড়েই পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর এবার ঝাড়গ্রাম পৌরসভা ভোটকে টার্গেট করে তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রস্তুত করতে রীতিমত ফিল্ড ওয়ার্ক করতে দেখা যাচ্ছে টিম পিকেকে।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এক্ষেত্রে এলাকায় গিয়ে ভূতপূর্ব কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলোচনা করা, লোকসভা নির্বাচনে যে যে বুথে তৃণমূল কংগ্রেস ভারতীয় জনতা পার্টির কাছে পিছিয়ে রয়েছে, সেই বুথে পিছানোর আসল কারণ কি! দলের অন্তর্ঘাত কতটা দায়ী এবং অন্যান্য বিষয়ে কতটা কার্যকর হয়েছে! সেই সমস্ত তথ্য গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে প্রশান্ত কিশোরের টিমকে বলে খবর।

বস্তুত, 2018 সালে মেয়াদ শেষ হয়েছে ঝাড়গ্রাম পৌরসভার। বর্তমানে সেখানে ঝাড়গ্রাম সদরের মহকুমা শাসক সুবর্ণ রায় প্রশাসকের ভূমিকা পালন করছেন। 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনে যখন তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় ঘটে ঝাড়গ্রাম লোকসভা আসনে, তখন তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী তথা হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ঝাড়গ্রাম জেলার পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেন।

পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস মহাসচিব তথা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করেন দলনেত্রী। তবে অংক গণিতের হিসাবে 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে ঝাড়গ্রাম শহরের মোট 18 টি ওয়ার্ডের মধ্যে দশটি ওয়ার্ডে এগিয়েছিল বিজেপি। পাশাপাশি আটটি ওয়ার্ডে এগিয়েছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাই আগামী পৌরসভা নির্বাচনে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী কিন্তু কিছুটা এগিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি।

তবে পৌরসভা অঞ্চলে তৃণমূলের পিছিয়ে থাকার পিছনে ইতিমধ্যেই অনেক ঘটনা নজরে এসেছে টিম পিকের। যার মধ্যে অন্যতম তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পৌরসভার অনুন্নয়ন। জানা গেছে, এই বোর্ডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকা থেকে পৌর পরিষেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ তৃণমূলের এক নেতার সঙ্গে অন্য নেতার গোষ্ঠী কোন্দল। যা নিয়ে রীতিমত বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্বকে।

এবার তাই প্রশান্ত কিশোরের টিমকে মাঠে নামিয়ে এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান অবস্থান এবং পরাজয়ের পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণ খতিয়ে দেখে নিতে চায় রাজ্যের শাসক দল। এক্ষেত্রে ভূতপূর্ব কাউন্সিলরদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং দলের নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গেও আলোচনা করতে দেখা যাচ্ছে পিকের টিমকে।

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের ঝাড়গ্রামের একজন প্রাক্তন কাউন্সিলর দাবি করেছেন, “লোকসভা ভোটে আমার ওয়ার্ডে দলে কারা অন্তর্ঘাত করেছে, বিরোধী দল থেকে কাকে দলে নিলে তৃণমূল কংগ্রেসের ফল ভালো হতে পারে, ইত্যাদি খুঁটিনাটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছে প্রশান্ত কিশোরের টিমের পক্ষ থেকে।”

সব কিছু মিলিয়ে ঝাড়গ্রাম লোকসভা নির্বাচনের ফলের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সেই নিয়ে রীতিমতো কোমর বাঁধতে দেখা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। অবশ্যই এর পেছনে মূল প্রস্তুতি শক্তি হিসেবে কাজ করছে প্রশান্ত কিশোরের টিম বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!