এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > ঝাড়গ্রামের ভবিষ্যৎও কি পাহাড়ের মতো হবে? আশা- আশঙ্কার দোলাচলে জঙ্গলমহলবাসী

ঝাড়গ্রামের ভবিষ্যৎও কি পাহাড়ের মতো হবে? আশা- আশঙ্কার দোলাচলে জঙ্গলমহলবাসী

সম্প্রতি পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল এরপরই রাজ্যের জঙ্গলমহলের জেলাগুলির রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। যা দেখে অনেকেই অতীতের অশান্ত পাহাড়ের স্মৃতিচারণ করতে শুরু করেছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এবারে এই জঙ্গলমহল অধ্যুষিত বেলপাহাড়ি ব্লকের অন্তর্গত 10 টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে বিরোধী দলের সদস্যরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। যার মধ্যে এড়গোদা পঞ্চায়েত বিজেপি-আদিবাসী মঞ্চ, বাঁশবেরিয়া, শিমুলপাল, ভুলাভেদার মত পঞ্চায়েতগুলিও গেছে সেই আদিবাসী মঞ্চের দখলে। আর এখানেই অনেকের মনে তৈরি হয়েছে প্রবল আশঙ্কা।

কেননা যে জঙ্গলমহলকে শান্ত করে সেখানে উন্নয়নের বীজ বপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্যের বর্তমান শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস, সেইখানে হঠাৎই এই আদিবাসী মনোভাবাপন্ন শক্তি মাথাচাড়া দিচ্ছে কি করে?

একাংশের মতে, এর পেছনে রয়েছে কোনো অদৃশ্য শক্তির হাত। আর যার ফল মারাত্মক হতে পারে। কেননা এক সময় দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে সুবাস ঘিসিং ঠিক এভাবেই গোর্খা জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয়ের বিষয়টিকে উস্কে দিয়ে রক্তাক্ত আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। জানা গেছে, বিগত পঞ্চায়েত ভোটের সময় হঠাৎই মুন্ডা, ভুমি, শবর ও আদিবাসীরা এক ছাতার আওতায় এসে গড়ে তুলল আদিম আদিবাসী মঞ্চ।

যাদের মূল অভিযোগই ছিল যে, প্রশাসন নাকি আদিবাসীদের গুরুত্ব দিচ্ছে না। কিন্তু যেখানে দুই টাকা কেজি দরে চাল থেকে শুরু করে রেশনিং ব্যবস্থা দিচ্ছে রাজ্যের বর্তমান তৃণমূল সরকার, সেখানে কেন হঠাৎ পঞ্চায়েত ভোটের মুখে অভিযোগ করল সেই আদিবাসীরা?

এদিন এই প্রসঙ্গে বালিচুয়া গ্রামের তড়িৎ সিং, তরনী সিং, কাঁকড়া ঝোড়ের রাখাল সিং বলেন, “জেলেও তো দুবেলা খাবার দেওয়া হয়। সপ্তাহে দুদিন ডিম, মাসে একদিন মাংস খাওয়ানো হয়। তাহলে তো জেলে থাকাই ভালো। নিজেদের স্বাধীনতা, নিজেদের সমাজ শাসনের অধিকারের কি কোনো দাম নেই?” একই সুর আদিবাসী মঞ্চের নেতা ধর্মাল মাঝির গলাতেও।

নিজেদের অধিকার এবার তাঁরা নিজেরা বুঝে নেবেন বলেও এদিন মন্তব্য করেন তিনি। আর হঠাৎই জঙ্গলমহলে এই আদিবাসীদের বাড়বাড়ন্তে এক আশঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

এদিন এই প্রসঙ্গে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা সমাজ বিজ্ঞানী অঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, “আত্মপরিচয় কেন্দ্রিক আন্দোলনের মধ্যে একটা তীব্র ভাবাবেগ কাজ করে। এই ধরনের আন্দোলন খুব অল্প সময়েই সমস্ত মানুষকে একত্রিত করে ফেলতে সক্ষম হয়। যেমনটা সুবাস ঘিসিং পাহাড়ে করেছিলেন।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

আর এখানেই তৈরি হয়েছে তীব্র জল্পনা। বিগত 2011 সালের পর রাজ্যে পালাবদলের পর যে জঙ্গলমহলে এসেছে শুধুই উন্নয়নের জোয়ার, সেই জঙ্গলমহলে ফের যদি আদিবাসী সমাজের ভেতর দিয়ে কোন সুপ্ত আবেগ প্রকাশিত হয় তাহলে তা নিঃসন্দেহে চিন্তার কারণ রাজ্য প্রশাসনের কাছেও।

 

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!