এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > একের পর এক জেলায় স্পোর্টসের চাঁদা বয়কট প্রাথমিক শিক্ষকদের, ঘুম উড়ছে রাজ্য সরকারের

একের পর এক জেলায় স্পোর্টসের চাঁদা বয়কট প্রাথমিক শিক্ষকদের, ঘুম উড়ছে রাজ্য সরকারের

জেলায় প্রাথমিক স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বানচাল হতে চলেছে প্রাথমিক শিক্ষকদের স্পোর্টসের চাঁদা বয়কট করার কারণে। এবং তাঁরা যে টাকা দিতে পারবেন না সেটা এসআইদের মুখের উপর জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। কোথায় মৌখিকভাবে,কোথাও আবার লিখিতভাবে এসআইদের টাকা না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

ফলত এবার জেলার সমস্ত চক্রে খেলা হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে বিভিন্ন মহলে। তবে প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্ষোভের কথা একরকম অস্বীকার করলেন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান মানস দাস। জানালেন,প্রতিবারের মতো এবারও পরম্পরা মেনেই সকলে টাকা দিতে এগিয়ে আসছেন। তাঁদের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই ৫০০০ টাকা জমা করা হয়ে গিয়েছে। তিনি এই প্রসঙ্গে, গ্রাম পঞ্চায়েত অঞ্চল এবং চক্রস্তরের খেলায় সহযোগীতা করার অনুরোধও জানান।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, জেলায় গ্রাম পঞ্চায়েত বা অঞ্চল স্তরের সমস্ত প্রাথমিক এবং এসএসকের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে এই প্রতিযোগিতা মোট ৫ টি স্তরে হয়। অঞ্চল স্তরের সফল ছাত্রছাত্রীরা চক্র,মহাকুমা এবং জেলাস্তরে খেলার সুযোগ পায়। জেলাস্তরের সফলরা এরপর রাজ্যস্তরে খেলে। মহাকুমা,জেলা ও রাজ্যস্তরের খেলায় রাজ্যসরকার টাকা দিলে অঞ্চল এবং চক্রস্তরের খেলার যাবতীয় খরচা শিক্ষকদের চাঁদা থেকেই আসে। কিন্তু এই চাঁদা দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের আপত্তি বহুদিনের। তবে এবার বিতর্ক এতো পরিমান মাথাচাড়া দিয়ে উঠল যে উক্ত ইস্যুতে শিক্ষকরা প্রতিবাদের ঝড় তুলে দিলেন।

শিক্ষকদের সূত্র থেকে জানা গিয়েছে,অঞ্চল এবং চক্রস্তরের খেলাতেই সবথেকে বেশি ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ১২-২১ টি প্রাথমিক স্কুলের প্রত্যেকটি থেকে মোট ২৮ টি ইভেন্টে ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করে। এবার এই ছাত্রছাত্রীদের খেলতে নিয়ে যাওয়া,নিয়ে আসা থেকে শুরু করে সকালের টিফিন,দুপুরের খাবার,পুরস্কার, ডেকোরেটর্স ও মাইক বাবদ গড়ে প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়।

দুটি স্তরে খেলা পরিচালনার জন্যে বিভিন্ন চক্রের শিক্ষকদের থেকে মাথাপিছু ৬০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হয়। খেলা শুরুর আগেই চাঁদার বিষয়টি নির্ধারণ এবং খেলা পরিচালনা নিয়ে বৈঠক করে নেন এসআইরা। এবং এটাকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের একাংশ চাঁদা দিতে আপত্তি করায় বিতর্ক শুরু হয়। মহিষাদল পশ্চিম চক্র, ময়না পশ্চিম চক্রের মতো জেলার বিভিন্ন চক্রের শিক্ষকরা এবার চাঁদার টাকা দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে সরাসরি। এই ইস্যুটি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেই জানান নন্দকুমার ব্লকের এসআই বিকাশ পাত্র।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

রাজ্যসরকার ক্লাব,পুজো,উৎসব, মেলায় টাকা দিতে পারলে অঞ্চল ও চক্রের খেলায় কেন দিতে পারবে না? এমনটাই প্রশ্ন ছিল পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক অরূপকুমার ভৌমিকের। রাজ্যসরকারের এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এবার তাঁরা টাকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

একই বক্তব্য বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক সতীশ সাউ-রও। নৈতিক কারণেই তাঁরা প্রাথমিক স্তরের খেলায় টাকা দেওয়া বিরোধী,এমনটাই স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি। এই প্রেক্ষিতে
ওয়েস্ট বেঙ্গল তৃণমূল প্রাইমারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি নীলকান্ত অধিকারী জানান,এই নিয়ম বহুকাল ধরেই চলে আসছে। প্রাথমিক স্তরের খেলার খরচ শিক্ষকদের টাকাতেই মেটে। কিন্তু এবছর কিছু কিছু শিক্ষক সংগঠন ইচ্ছে করে সমস্যা তৈরি করতে চাইছে,যার জেরে খেলার খরচ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!