এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > জঙ্গলমহলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া তৃণমূল, গেরুয়া শিবিরে ভাঙন ধরিয়েই চলেছে

জঙ্গলমহলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া তৃণমূল, গেরুয়া শিবিরে ভাঙন ধরিয়েই চলেছে

তৃণমূলের শক্তিশিবির জঙ্গলমহলে পদ্মের উত্থান ঘটলেও ফের লাগাম তৃণমূলের হাতে আসার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একের পর এক বিজেপির নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সারি বেঁধে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। বিজেপির জেলা পরিষদের সদস্যের পদাঙ্ক অনুসরণ করে গতকাল সকালেই পুরুলিয়ার ঝালদা-১ ব্লকের দুই পঞ্চায়েত সদস্য সহ একাধিক বিজেপি নেতা দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন। পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনের আগেই পরপর দুদিন ধরে দলীয় সহযোদ্ধাদের এভাবে সঙ্গ ত্যাগ করার ছবি দেখে ব্যাপক উদ্বিগ্ন জেলা বিজেপি নেতৃত্বরা। রীতিমতো অস্বস্তিতে তাঁরা।  ওদিকে,এতো সবে শুরু,আরো বিজেপি নেতৃত্বদের তৃণমূলে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলেই জানাচ্ছেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেস।

জানা গিয়েছে,গতকাল সকালেই ঝালদা-১ ব্লকের ঝালদা-দড়দা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য  বিজয় লায়া এবং বিলাসীবালা রুহিদাস তৃনমূলের টিকিট কাটেন। এদিন তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলা কার্যালয় সীতারাম মাহাত ভবনে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য শান্তনু সেন এবং পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি শান্তিরাম মাহাতোর হাত থেকে তৃণমূলের দলীয় পতাকা তুলে নেন তাঁরা। এঁদের হাত ধরেই এদিন ঝালদা শহরের যুব মোর্চার প্রাক্তন সভাপতি রাজেশ রায়,বিজেপি নেতা তরণী রুহিদাস, পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপির প্রার্থী লক্ষ্মীকান্ত গড়াই এদিন তৃণমূলে যোগ দেন। যোগদান কর্মসূচিতে এদিন হাজির ছিলেন তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলার যুব সভাপতি সুশান্ত মাহাত, ঝালদা-১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য শেখ সুলেমান, ঝালদা-১ পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী সভাপতি বুলু মুড়াও প্রমুখরা।

রাজনৈতিক সূত্রের খবর থেকে জানা গিয়েছে,ঝালদা-দড়দা গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ১৩ টি আসনের মধ্যে ৯ টি আসন এসেছিল তৃণমূলের ঝুলিতে। এছাড়া বিজেপি এবং কংগ্রেস যথাক্রমে ৩ টি এবং ১ আসনে জয়ী হয়। এককভাবে তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সংক্ষরিত আসনগুলোতে  তারা হেরেছে। 13 টি আসনের মধ্যে 9 টি আসনে জয়লাভ করলেও তপসীলি সদস্য না থাকায় ওই পঞ্চায়েত গঠন করতে অসমর্থ ছিলো তৃণমূল । কারণ ওই পঞ্চায়েত প্রধানের আসন তপসীলি উপজাতির জন্য সংরক্ষিত হওয়ায় প্রধান গঠন সম্ভব হচ্ছিলো না l এদিকে বেশ কিছু ব্লকে ভালো ফল করেছিল বিজেপি। তা দেখে গেরুয়াশিবির ভেবেছিল আগামী লোকসভা ভোটে তৃণমূলের প্রাণকেন্দ্র থেকে ঘাসফুলকে উপড়ে ফেলবে তাঁরা। কিন্তু তাঁদের সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে হয়তো। পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরবর্তী পর্বে ছবিটাই পাল্টে গেল পুরো। দল বেঁধে সংরক্ষিত আসনের বিজেপি সদস্যরা তৃণমূলে যোগ দিলেন।ফলে ওই পঞ্চায়েতে বিজেপি জয়ী তপশীল সদস্য সহ দুই আরেক বিজেপি জয়ী সদস্য তৃনমূলে যোগদান করায় পঞ্চায়েত গঠন করবে আর কোনো সমস্যা থাকলো না তৃণমূলের l কার্যত মাথায় হাত পড়েছে জেলা বিজেপি নেতৃত্বদের। 

শান্তিরাম বাবু জানান,অনেকেই বিভ্রান্তির শিকার হয়ে বিজেপিতে ছিলেন এতোদিন। এখন তাঁরা ভুল বুঝতে পেরে তৃণমূলে ভীড়ছেন। রাজ্যসভার সদস্য শান্তনু সেনের দাবী,” পুরুলিয়ায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদানের তালিকা আরো লম্বা হবে।” কিন্তু কেন ঝাঁক বেঁধে বিজেপি নেতারা তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন? জবাবে তিনি ;জানালেন, তিনি পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই দেড় মাসের বেশি সময় ধরে পুরুলিয়ায় সময় কাটিয়েছেন। দেখেছেন,যেসব আসনে তৃণমূল প্রার্থীরা হেরেছেন সেখানে সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষোভই নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি। স্থানীয় কিছু নেতার প্রতি ক্ষোভে এবং বিজেপি নেতাদের অপপ্রচারের জেরই বেশ কিছু প্রার্থীরা বিজেপি করেছিলেন। কিন্তু এখন তাঁরা বুঝতে পেরেছেন উন্নয়নে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই আসবে। তাই তাঁরা এখন তাঁদের ভুল বুঝতে পেরে তৃণমূলে নাম লেখালেন।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

একই সুরে কথা বললেন সদ্য দলত্যাগ করা প্রাক্তন বিজেপি যুব নেতা রাজেশ রায় এবং বিজয় লামা। “উন্নয়নের কাজে শামিল হতে স্বেচ্ছায় তৃণমূলে যোগ দিয়েছি।”এমনটাই যোগ দান বিষয়ে বক্তব্য তাঁদের। অন্যদিকে ঝালদা-১ ব্লকের বিজেপি নেতা শঙ্কর মাহাতো এ প্রসঙ্গে সমস্ত দোষটাই ছুঁড়ে দিলেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্বদের দিকে। জানালেন, প্রশাসনের মদতে ভয় এবং প্রলোভন দেখিয়েই বিজেপি সদস্যদের দলছাড়া করছে তৃণমূল। সঙ্গে আরো বললেন,সদ্য  তৃণমূলে নাম লেখানো রাজেশ রায়কে আগেই দল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। বিজেপির জয়ী সদস্যদের জোর করে তৃণমূলে টানতে সক্ষম হলেও সাধারণ মানুষ এখনো বিজেপির সঙ্গেই আছেন,এমনটাই দাবী তাঁর। এদিকে, ‘প্রশাসনের মদতে ভয় দেখিয়ে বা প্রলোভন দেখিয়ে’ তৃণমূলে টানা অভিযোগ একেবারের ভিত্তিহীন বলে দাবী করলেন রাজসভার সদস্য। পাল্টা যুক্তিতে তিনি বললেন,’মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেই বাংলার সর্বশ্রেষ্ট গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

 

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!