এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > জঙ্গলমহলে ঢুকছে সিপিএম, দুর্বার গতিতে এগোচ্ছে গেরুয়া-শিবির

জঙ্গলমহলে ঢুকছে সিপিএম, দুর্বার গতিতে এগোচ্ছে গেরুয়া-শিবির

জঙ্গলমহলে ঢুকছে সিপিএম, দুর্বার গতিতে এগোচ্ছে গেরুয়া-শিবির। জঙ্গলমহলে তৃণমূলকে হারাতে জোট দুই প্রধান বিরোধী দল বেঁধেছে সিপিএম ও বিজেপি। এদিকে রানিবাঁধ ব্লকে গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ৯০টি আসনের মধ্যে ১৪টি আসনে বিনা বিরোধিতায় জয় হয়েছে তৃণমূলের। একটি পঞ্চায়েতের ক্ষমতা ঘাসফুল শিবির ইতিমধ্যেই দখল করেছে। বাকি সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে সিপিএম প্রার্থী দিয়েছে মাত্র ৩৭টি আসনে, বিজেপি প্রার্থী দিয়েছে ৫৫টি আসনে। যদিও প্রার্থী দেওয়ার প্রতিযোগিতায় বাড়বাড়ন্ত বিজেপিরই। তবে এদিন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুনীল মণ্ডল বলেন, “বারিকুল এবং রাউতোড়ায় সিপিএম এবং বিজেপি একজোট হয়েছে। এছাড়াও আরও কয়েক জায়গায় সমঝোতা করেছে। তবে, তাতে তৃণমূলের কোনও ক্ষতি হবে না।” এদিকে মনোনয়ন পর্ব চলাকালিন অজিত মুর্মুর প্রকাশ্যে খুনের ঘটনা নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির দলাদলিতে প্রভাব পড়েছে এলাকাতেও। জঙ্গলমহলের একসময়ের বামফ্রন্টের মন্ত্রী দেবলীনা হেমব্রমের নিজের বুথে প্রার্থী দিতে না পাড়ার প্রসঙ্গে তাঁরই বাড়ির প্রায় উল্টো দিকের সিপিএম পার্টি অফিস বসে কৃষ্ণচন্দ্র মাহাতো হতাশার সুরে বলেন, “রানিবাঁধে আগেও খুন হয়েছে। আগে রাতের অন্ধকারে খুন করত মাওবাদীরা। কিন্তু, এবার পুলিসের সামনে দিনের বেলায় খুন হল। চোখের সামনে খুন দেখে মানুষজন আতঙ্কিত। সত্যি কথা বলতে, এখানে আমরা লড়াই বা প্রতিরোধের জায়গায় নেই।” প্রাথী না দিতে পারার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, “তৃণমূলের সন্ত্রাসে আমাদের প্রার্থী সুষমা মাহাত আগেই প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। বিজেপির একজন ছিলেন। তিনিও প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। কী আর করা যাবে?” সমগ্র পরিস্থিতির জন্য তৃণমূলকে দায়ী করে এদিন দেবলীনা হেমব্রম বলেন, “তৃণমূল এমন সন্ত্রাস কায়েম করেছে যে আমরা প্রার্থী দিতে পারিনি। যাঁরা দিয়েছিলেন তাঁদের অনেককেই প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছে।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

অজিতবাবু যেদিন খুন হয়েছিলেন সেদিন ঘটনাস্থলে ছিলেন বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য নির্মল সরেন। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার নির্মলবাবু কর্মসূত্রে বিদেশেও ছিলেন। অবসরের পর রাজনীতিতে। ঘটনার দিন নির্মলবাবুও জখম হয়েছিলেন। মাথায় পড়া সেলাই দেখিয়ে বললেন, আমার মাথায় রড দিয়ে মারার পর আমি রক্তাক্ত হই। তারপরই অজিতবাবু খুন হয়ে যান। তবুও আমরা ময়দান ছাড়িনি। তাই তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইচ্ছুক সিপিএমের লোকজন আমাদের দিকে আসছে। রানিবাঁধে তৃণমূলের সঙ্গে লড়াইটা বিজেপিরই হবে।” পাল্টা জবাবে তৃণমূলের সুনীলবাবু জানান, রাজ্য সরকারের দু’টাকা কেজির চাল, রাস্তাঘাটের উন্নতি, পানীয় জলের সঙ্কট মোচন, সবুজসাথী, আবাস যোজনার সুফলের ধাক্কায় বিরোধীরা হালে পানি পাবে না। তবে কয়েকটি জায়গার ক্ষেত্রে বিজেপি যে একটি বোরো চ্যালেঞ্জ তাও জানিয়েছেন সুনীলবাবু। এদিন বিকেলে রানিবাঁধের আখুটা গ্রামে করালি খাঁড়ার চা, তেলেভাজার দোকানে গ্রামের দেহাতি মানুষদের আড্ডাতে ভোটার হাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তারা জানায় হাওয়া ঘসফুল শিবিরের দিকেই বইছে। কারণ জানতে চাওয়া হলে উত্তর আসে উন্নয়ন এবং ২ টাকা কেজির চাল। ২ টাকা কেজির চালের মাধ্যমে তৃণমূল যে এই দেহাতি মানুষ গুলোর রন্ধ্রে  প্রবেশ করে গেছে তা তাদের উত্তরেই পরিস্ফুট হয়েছে।

 

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!