এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য >  দলীয় নেতাদের “সৌজন্যে” হাতছাড়া জঙ্গলমহল ফিরে পেতে বড় ভরসা মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক “ম্যাজিক”

 দলীয় নেতাদের “সৌজন্যে” হাতছাড়া জঙ্গলমহল ফিরে পেতে বড় ভরসা মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক “ম্যাজিক”

ক্ষমতায় আসার পরেই রাজ্যের উন্নয়নে এতোটুকুও খামতি রাখেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ সমগ্র জেলায় জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করে সাধারণ মানুষের কাছে যাতে উন্নয়নের পরিষেবাটুকু পৌঁছনো যায় তার জন্য সবসময় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশকে কি আদৌ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন তার দলের নেতা মন্ত্রীরা?

হয়ত না। কেননা, সম্প্রতি পঞ্চায়েত নির্বাচনের জঙ্গলমহলের জেলাগুলি মূলত ঝাড়গ্রামের ফলাফলেই স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে সেই দলীয় জনপ্রতিনিধিদের ব্যর্থতাই। রাস্তাঘাট থেকে পানীয় জল, রাজ্য সরকারের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সঠিক বাস্তব রূপায়নের জায়গায় এই জেলার অনেক শাসকদলের নেতারাই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কাঠমানি খেয়ে বসে রয়েছেন।

আর নেতাদের এহেন অস্বচ্ছ ভাবমূর্তিতেই মানুষ তাদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে ভোটবাক্সে। আর যার জেরেই এ অঞ্চলে তৃণমূলের এই খারাপ ফল। তাই এবারে আসন্ন লোকসভা ভোটের ধ্বসে যাওয়া ভোটব্যাংকে নিজেদের বাগে আনতে ও এই জেলার উন্নয়নমূলক পরিষেবা মানুষের কাছে সঠিক ভাবে পৌঁছে দিতে স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যক্তিদের ওপরই ভরসা রাখতে চলেছে রাজ্য। তবে শুধু দলের নেতা নয়, অতীতে এক প্রশাসনিক কত্রীর জন্যও যে এই জেলায় শাসকদলের খারাপ ফল হয়েছে তা মানছেন তৃণমূলের অনেক নেতারাই।

একাংশের মতে, একদা এই জেলার পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের এতটাই দাপট ছিল যে, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নিয়ে গেলে সেই নেতাকে রীতিমতো দেখে নেওয়ার হুমকি দিতেন তিনি। আর সেই ভারতী ঘোষের ওপরই এই জেলায় অনেকটা ভরসা করেছিলেন শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বরা।

কিন্তু পরবর্তীতে সেই ভারতী দেবীই শাসকের ফলায় আঘাত করেছে। আর তাই এই অবস্থার আমূল পরিবর্তনে এবার দলের নেতাদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখার পাশাপাশি প্রশাসনকে দিয়ে জেলার সমস্ত মানুষের কাছে উন্নয়নমূলক পরিষেবা পৌঁছতে বদ্ধপরিকর হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন এ প্রসঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গাম জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতা অজিত মাইতি বলেন, “পুরনোদের অনেককেই বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমি ছ মাস দায়িত্ব নিয়ে পুরনোদের সক্রিয় করেছি। তবে লোকসভা ভোটে মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই ভোট দেবেন।”

অন্যদিকে ভারতী ঘোষের প্রতি শাসক দলের এত আস্থা রাখায় উল্টে যে এতে আদতে সেই শাসকেরই ক্ষতি হয়েছে এদিন সেই কথা বলে তৃণমূলকে প্রবল কটাক্ষ করেছেন ঝাড়গ্রাম জেলার কংগ্রেস সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য। এদিকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে আবাস যোজনা, সুরক্ষা যোজনা ইত্যাদির নাম করে দুর্নীতির বিষয় ওঠায় এবার সকল সাধারণ মানুষকে উন্নয়নমূলক পরিষেবা প্রদানে গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছেন ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এদিন এ প্রসঙ্গে জেলাশাসক বলেন, “সরকারি সুযোগ সুবিধা গুলো যাতে যোগ্য লোকজন পায়, তার দিকে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, আর দলীয় নেতা নয়। এবার থেকে প্রশাসনের ওপরই বেশি ভরসা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারন মানুষ সরকারের কাছ থেকে উন্নয়নমূলক পরিষেবা চায়। আর তাইতো দলীয় নেতাদের সেই উন্নয়নমূলক পরিষেবা দিয়ে কাঠমানি খাওয়া এড়াতে এবার প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছোতে চাইছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!