এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > যাদবপুরে হেরে যাচ্ছে তৃণমূল, বুঝেই আগে থেকে সাফাই গাইছেন মুখ্যমন্ত্রী দাবি বাম – বিজেপির

যাদবপুরে হেরে যাচ্ছে তৃণমূল, বুঝেই আগে থেকে সাফাই গাইছেন মুখ্যমন্ত্রী দাবি বাম – বিজেপির

সারা রাজ্যে বামেদের সংগঠন তলানিতে ঠেকলেও লোকসভা নির্বাচনে শহর কলকাতার প্রাণকেন্দ্র যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে জোর লড়াই দেওয়ার জন্য একদা কলকাতা পৌরসভার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে সেখানে প্রার্থী করেছে বামফ্রন্ট। অন্যদিকে রাজ্যের বহু রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সাক্ষী যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে গত 2014 সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল জয় পাওয়ার পর এবার সেই কেন্দ্র নিজেদের দখলে রাখতে সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে বিশিষ্ট অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে।

পাশাপাশি বিজেপির তরফে প্রার্থী করা হয়েছে সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া অনুপম হাজরাকে। আর প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পরই এই যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে কে জয় পাবে, আর কে শেষ হাসি হাসবে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছিল চুলচেরা বিশ্লেষণ।

একাংশের দাবি ছিল, এই যাদবপুরে মূল লড়াই হবে এবং বামেদের বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যর সঙ্গে তৃণমূলের মিমি চক্রবর্তীর। কেননা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অধিকারী বলে পরিচিত বামপ্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যর দক্ষ সংগঠক হিসেবেও সুনাম রয়েছে। তাই তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রকৃত লড়াই দিয়ে তিনিই এবারে জয় নিয়ে আসবেন বলে দাবি করেছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। আর রাজনৈতিক মহলে যখন এই যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই সেই যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মিমি চক্রবর্তীর সমর্থনে প্রচারে এসে বাম, বিজেপি এবং কংগ্রেসকে একযোগে বিঁধতে দেখা গেল তৃনমূল প্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

সূত্রের খবর, বারুইপুরে জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সিপিএমকে ভোট দিয়ে লাভ নেই। ওরা একটা আসনও পাবে না। সিপিএমকে ভোট দেওয়া মানে বিজেপিকেই ভোট দেওয়া। এখানে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে বিজেপি সমর্থন করছে।” আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন দাবির পরেই এবার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

একাংশ বলছেন, গত 2011 সালে রাজ্যে পালাবদলের পর ধীরে ধীরে বামেদের সংগঠনে ধ্বস নামার পর সেই ভাবে কোনো নির্বাচনী প্রচারে বামেদের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ করতে দেখা যায়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ফলে সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাদবপুরে বাম প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে তা নিজেদের লাভ বলেই দাবি করছে কাস্তে হাতুড়ি শিবির। বামেদের দাবি, আসলে তৃণমূল নেত্রী অনুধাবন করতে শুরু করেছেন যে যাদবপুরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে এবার জয় পেতে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন বাম প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। আর তাই তো সেই নির্বাচনী প্রচারে এসে বাম- বিজেপি-কংগ্রেস সবাই এক হয়েছে বলে বিকাশবাবুকেই সব থেকে বেশি কটাক্ষ করতে দেখা গেল তাকে।

এদিকে এদিন বারুইপুরের নির্বাচনী সভা জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “বিজেপি সকলের উপর অত্যাচার করলেও সবাই চুপ করে থাকলেও একমাত্র প্রথমে প্রতিবাদ করেছে বাংলা। সবাইকে ধমক চমক দেখিয়ে চুপ করাতে পারে, কিন্তু আমাকে ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। বিড়ালের গলায় আমরাই প্রথম ঘন্টাটা বেঁধেছি।”

এদিকে এই নিয়ে বাম বিজেপির দাবি  যাদবপুর লোকসভা আসনে বিশিষ্ট অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে দিয়ে জয় আনার ব্যাপারে আত্মপ্রত্যয়ী তৃণমূল নেত্রী প্রকাশ্যে যতই নিজের আত্মবিশ্বাস দেখান না কেন, বাস্তবে যে এবার যাদবপুরের বামেদের বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এবং বিজেপির অনুপম হাজরার বিরুদ্ধে লড়াই করে জয় আনা মিমির পক্ষে অনেকটাই কঠিন তা বুঝতে পেরে এদিন বাম, বিজেপি এবং কংগ্রেস একসাথে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ছে বলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে কোণঠাসা করার মরিয়া চেষ্টা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে দাবি বিরোধীদের। আর এই নিয়েই সরব হয়েছেন বামেরা। তাদের দাবি মিমিকে এনেও যাদবপুরে খাতা খুলতে পারবে না তৃণমূল। আর তাই আগে থেকেই সাফাই গেয়ে রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী ,জয়ী হবেন বিকাশরঞ্জন।এদিকে বিজেপির দাবি এবার যাদবপুরে তাদের প্রার্থী অনুপম জিতবেন।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দাবির পর শেষ পর্যন্ত এই যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে কি হয় তা দেখবার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে আগামী 23 মে পর্যন্ত।

Top
error: Content is protected !!