এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > যাদবপুরের হেনস্থা কাণ্ডের পর এসএফআইয়ের নতুন পদক্ষেপে বাড়ল বিতর্ক! আরো চাপে বামফ্রন্ট?

যাদবপুরের হেনস্থা কাণ্ডের পর এসএফআইয়ের নতুন পদক্ষেপে বাড়ল বিতর্ক! আরো চাপে বামফ্রন্ট?

গতরাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ছিল রাজনৈতিক যুগের একটি কালো দিন‌। ন্যাক্কারজনক ভাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হেনস্থা করায় রাজ্যের সমস্ত দলগুলি থেকে উঠেছে নিন্দার ঝড়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এদিন বাবুল সুপ্রিয়র অনুষ্ঠান ঘিরে এক নজিরবিহীন নৈরাজ্যের কালো দিন দেখল পশ্চিমবঙ্গ। সেদিন বেশ কয়েকটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সমর্থকদের হাতে বেনজির ভাবে হেনস্থা হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।

এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরাও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে তাঁকে বার করে নিয়ে যেতে পারলেন না। সন্ধ্যা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়েও উদ্ধার করা গেল না। অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করে তাঁর সাথে করে নিয়ে যান। এই ঘটনায় রাজ্যপাল তাঁর ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি। অত্যন্ত কড়া ভাষায় তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দা করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় যোগ দিতে এসেছিলেন। এবং সেখানেই তিনি এসএফআই সমর্থকদের হাতে হেনস্থা হন। তাঁকে বহুক্ষণ ঘেরাও করে রাখা হয় গেটের বাইরে। এমনকি অশালীন ভাষায় তাকে গালিগালাজও করা হয়। যা দেখা যাচ্ছে বহু ভিডিও ক্লিপিংসে। (প্রিয় বন্ধু মিডিয়া অবশ্য ভিডিও যাচাই করে দেখেনি) অবশ্য এখানেই হেনস্তা থেমে থাকেনি। এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর গায়ে হাত তোলা হয়। যা অত‍্যন্ত নিন্দনীয় বলে দাবি করেছে প্রত‍্যেকটি রাজনৈতিক দল।

অন্যদিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রমাগত অভিযোগ জানানো হয়েছে এবং হচ্ছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাবুল সুপ্রিয় এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বাবুল সুপ্রিয় ইচ্ছাকৃতভাবেই গন্ডগোল পাকান। আজ এই ইস্যুতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গোলপার্ক পর্যন্ত এক মহা মিছিলের আয়োজন করা হয়। এসএফআইয়ের তরফ থেকে গতকালের পর আবার আজকেও যাতে কোনো রকম অশান্তি না ছড়ায় তার জন্য মিছিলের জন্য বরাদ্দ গোটা রাস্তাজুড়ে ছিল পুলিশি টহল।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

মিছিল থেকে আরএসএস এবং বিজেপির বিরুদ্ধে জোরদার স্লোগান ওঠে। তবে অবাক কান্ড এটাই, এসএফআইয়ের মিছিল থেকে উঠল এদিন ‘আজাদী’ স্লোগান এবং বেশ কিছু স্লোগান হিন্দিতেও ভেসে এলো। প্রশ্ন উঠেছে, এসএফআই অর্থাৎ বাম দল গুলি যারা তীব্র হিন্দি বিরোধী, তাঁদের মিছিল থেকে কি করে হিন্দি ভাষায় ‘আজাদী’ স্লোগান উঠল তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চরমে।

মিছিলের মধ্যে শুধু আরএসএস বা বিজেপি বিরোধী প্রচার চালানো হয়েছে তা নয়। সেখানে দলিতদের অত্যাচারের নমুনা হিসেবে রোহিত ভেমুলার নাম নিয়ে স্লোগান ওঠে, গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত জুনেইদের নাম নিয়ে স্লোগান ওঠে। কিন্তু যেটা সন্দেহজনক স্লোগান তা হলো ‘আজাদী’। অনেকেই অবশ্য মনে করছেন, মিছিলের মধ্যে থেকে ‘আজাদী’ স্লোগান আসলে বিচ্ছিন্নতাবাদকে স্পষ্টভাবে মদত দিচ্ছে।

অন্যদিকে বামপন্থীরা অবশ্য অন্য কথা বলছেন। তাঁদের মতে, ‘আজাদী’ কথার অর্থ, বিজেপি সরকারের হাতে জনগণ যেভাবে বন্দি হয়ে উঠেছে, যেভাবে তাদের স্বাধীনতা হরণ হচ্ছে, স্লোগান থেকে সেই ‘আজাদী’র কথাই বলা হচ্ছে। হিন্দি ভাষায় স্লোগান দেওয়া নিয়ে অবশ্য বামদলগুলো কিছু বলেনি। তাহলে কি ধরে নেওয়া যেতে পারে, বাম আন্দোলনের চিত্রপট কিছুটা হলেও বদলাচ্ছে ? হিন্দি রাষ্ট্রভাষা না হয়েও যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে সহজতর ভাষা হয়ে উঠছে ?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবারের এসএফআইয়ের তাণ্ডবের জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বিজেপি শিবির। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হেনস্থার প্রতিবাদে রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এবং এই নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শাসক সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে। তবে শিক্ষাঙ্গনে এরকম নজিরবিহীন ঘটনা রাজ্য রাজনীতির সাম্প্রতিক অতীতে নেই বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!