এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > দাড়িভিট নিয়ে নতুন করে ঘনাচ্ছে রহস্য, ছাড়া দিচ্ছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তত্ত্ব! সিবিআই-ই কি শেষ পথ?

দাড়িভিট নিয়ে নতুন করে ঘনাচ্ছে রহস্য, ছাড়া দিচ্ছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তত্ত্ব! সিবিআই-ই কি শেষ পথ?

ইসলামপুর কান্ড নিয়ে বর্তমানে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। গুলি, দুই ছাত্রের মৃত্যু- আর এইসব গন্ডগোলের মূলে যে শিক্ষক নিয়ৌগ রয়েছে এবার তা নিয়ে রহস্য উন্মোচন করতে চলেছি আমরা। সূত্রের খবর, ঘটনা ঘটার ২৪ ঘণ্টা আগে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিলেও পরে সেখান থেকে কেন 180 ডিগ্রি ঘুরে গেল স্কুল কতৃপক্ষ এখন সেই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে এই  দাড়িভিট গ্রামে।

জানা গেছে, গতকাল এই দাড়িভিট স্কুলের পরিচালন সমিতির তপনকুমার মজুমদার নামে এক সদস্য ইসলামপুর থানায় গিয়েছিলেন। কিন্তু কেন! তপনকুমার মজুমদারের দাবি অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর স্কুলের পরিচালন সমিতির সভায় এই উর্দু ও সংস্কৃতের শিক্ষককে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এক দিন যেতে না যেতেই সেই পরিচালন সমিতির সদস্যদের অন্ধকারে রেখে ওই উর্দু এবং সংস্কৃত শিক্ষককে স্কুলে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর এই ঘটনা নিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষক এবং জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে চাইলেও তপবাবুর অভিযোগ যে, তাঁর কোনো কথাতেই কর্নপাত করেনি পুলিশ। এমনকী  ইসলামপুর থানার বিরুদ্ধে এইব্যাপারে অসহযোগীতারও অভিযোগ এনেছেন তিনি। কিন্তু কেন একজন ব্যাক্তির অভিযোগ শুনবে না পুলিশ? এদিন এই প্রশ্নের উত্তরে উত্তর দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, ‘‘এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না।’ এদিকে ইসলামপুরের এই ঘটনায় যত দিন যাচ্ছে ততই যেন প্রকট হচ্ছে গোষ্টীদ্বন্দ্ব।

জানা যায়, তপনকুমার মজুমদারের সাথে সেই ইসলামপুর থানায় গিয়েছিলেন স্থানীয় পণ্ডিতপোতা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সুবোধ মজুমদার। স্থানীয়দের দাবি,  ইসলামপুরের তৃণমূল বিধায়ক কানাইয়ালাল অগ্রবালের ঘনিষ্ঠ এই সুবোধ মজুমদার। অন্যদিকে সেই দাড়িভিট স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদা গোয়ালপোখরের তৃণমূল বিধায়ক তথা মন্ত্রী গোলাম রব্বানির ঘনিষ্ঠ। জানা গেছে, তৃনমূলের এই দুই নেতার বিবাদ দীর্ঘদিনের। এদিন সেই গোলাম রব্বানি এবং  কানাইয়ালাল আগরওয়াল মৃত ছাত্রদের বাড়িতে এলে বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তাঁরা।

এদিকে শাসকদলের দুই নেতার গোষ্টীর মতপার্থক্যেই এই গন্ডগোল বলে দাবে করে এদিন উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্তের দাবি , ‘লোকসভা ভোটের টিকিট নিয়ে কানাইয়ালাল ও রব্বানির গোষ্ঠী-দ্বন্দ্বেই দাড়িভিটে গন্ডগোল লেগেছে।’ একাংশের মতে,  ওই উর্দু এবং শিক্ষক যাতে সেই স্কুলে যোগ দেন তা চেয়েছিলেন গোলাম রব্বানি। অন্যদিকে তার বিপক্ষে ছিলেন ইলামপুরের বিধায়ক কানাইয়ালাল আগরওয়াল। আর শাসকদলের দুই গোষ্টীর নেতার এই দড়িটানাটানিই দুই ছাত্রকে হারাল বলে মত অনেকের। এদিন এই ঘটনায় চাকুলিয়ার ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক আলি ইমরান রাম্‌জেরও (ভিক্টর) বলেন, “গোলাম ব্বানির নির্দেশের জেরেই এমন ঘটনা ঘটেছে।” তবে বিরোধীদের এই অভিযোগকে সম্পূর্ন ভিত্তিহীন বলে দাবি করে এদিন জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক তথা মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘কানাইয়ালাল আগরওয়াল ইসলামপুরের দায়িত্বে। এবং গোলাম রব্বানি গোয়ালপোখর এবং চাকুলিয়ার দ্বায়িত্বে। কেউ কারও কাজে হস্তক্ষেপ করেন না। এ সব কথার কোনও মানেই হয় না।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

একই কথা বলে নিজের ঘাড় থেকে সমস্তা দায় ঝেড়ে ফেলে মন্ত্রী গোলাম রব্বানি বলেন ‘‘স্কুলে নিয়োগ নিয়ে পরিচালন সমিতির কয়েক জন সদস্য ও শিক্ষক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আমি কোনও মত জানাইনি। স্কুল কর্তৃপক্ষ কেন এক রকম সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বদলে ফেললেন, তা তাঁদেরই বলতে হবে।’’ অন্যদিকে এই ব্যাপারে ইসলামপুরের বিধায়ক কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, ‘‘দলে কোনও গোষ্ঠী-দ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু কেন স্কুল কর্তৃপক্ষ মাত্র এক দিনে সিদ্ধান্ত পুরো বদলে ফেললেন, তার তদন্ত আমি দাবি করেছি।’’  এদিকে নেতা থেকে মন্ত্রী, সরকার থেকে পুলিশ প্রত্যেকে দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইলেও মৃত দুই ছাত্রের পরিবার চাইছেন সিবিআই তদন্ত। এখন সেই প্রক্রিয়া ঠিকমত হয় কি না সেই দিকেই তাকিয়ে গোটা দাড়িভিট গ্রাম।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!