এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > পঞ্চায়েতেই প্রকট দিলীপ-মুকুলের মতপার্থক্য? ‘গোঁজ-কাঁটায়’ এবার জর্জরিত গেরুয়া-শিবির

পঞ্চায়েতেই প্রকট দিলীপ-মুকুলের মতপার্থক্য? ‘গোঁজ-কাঁটায়’ এবার জর্জরিত গেরুয়া-শিবির

মুখে একে অপরকে যতই সম্মান দেখান বা বলুন কোনো বিভেদ বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই – কিন্তু আসলে কি দিলীপ ঘোষ ও মুকুল রায়ের তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত বঙ্গের গেরুয়া শিবির। প্রশ্নটি উঠছে কেননা সামনে আসছে বিভিন্ন অস্বস্তিকর ঘটনা, যার জবাব এড়িয়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই করছেন না বিজেপি নেতারা। এমনিতেই রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সব আসনে প্রার্থী দিতে পৰ যায়নি, তার উপরে নতুন করে এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ দিনদিন প্রকট করছে গেরুয়া শিবিরের অস্বস্তি। এতদিন যা ছিল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরের চেনা ছবি, সেই নির্দল-কাঁটা এবার বিদ্ধ করল বঙ্গ-বিজেপিকেও। মালদহের আড়িয়াডাঙায় বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে মুখ পুড়তে চলছে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের। এখানে বিজপি দলীয় নেতা তথা মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ শুভঙ্কর মন্ডল আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে নিজের স্ত্রী মামনি মন্ডলকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিজেপি নেতা শুভঙ্করবাবু নির্দ্বিধায় প্রচার করে যাচ্ছেন – মুকুল রায়ই তাঁর নেতা। তিনি নিজেই প্রকাশ্যে বলছেন তাঁর স্ত্রী যে নির্দল প্রার্থী হয়েছেন, তা দাদা (মুকুল রায়) জানেন।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এই ঘটনায় স্বভাবতই বিপাকে পড়ছেন খোদ বিজেপি নেতা মুকুল রায়। দলের অন্দরে মুকুল রায় ও দিলীপ ঘোষের গোষ্ঠীর মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছবি এই ঘটনাতেই প্রকট হচ্ছে। প্রসঙ্গত, মুকুল রায় বিজেপির তরফে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দায়িত্বে থাকলেও, বহু ক্ষেত্রেই রাজ্য-সভাপতি হস্তক্ষেপ করছেন বলে দলের একাংশের অভিযোগ। মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ নেতারা কোনো সুবিধে করতে পারেননি দিলীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ নেতাদের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বলেও ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে দলের অন্দরে। আর তার ফলেই, মালদহের শুভঙ্কর মণ্ডলরের মত দলীয় কর্মীরা নির্দল হয়ে মুকুল রায়ের ‘আশীর্বাদ নিয়ে’ নির্বাচনে নেমে পড়ছেন! স্থানীয় সূত্রের খবর, শুধু শুভঙ্করবাবুই নয় তাঁর স্ত্রী মামনি মন্ডলও প্রকাশ্যে নিজের বিবৃতি দিচ্ছেন। যেখানে তিনি বলছেন, এই কেন্দ্রে (বিজেপির তরফে) অযোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেওয়া হয়েছে। মানুষ আমার সঙ্গেই আছেন। তা প্রমাণ হয়ে যাবে ভোট হলেই। এভাবে চললে বিজেপি রাজ্যে কোনওদিনও ক্ষমতায় আসবে না। এমনকি তিনি জানালেন নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এই মন্ডল দম্পতির দলত্যাগের সম্ভবনার কথা। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কোনও একটা কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হল, সেটা বড় কথা নয়। এই ঘটনা প্রকট করে দিল মুকুল রায় ও দিলীপ ঘোষের দুই গোষ্ঠীর বিবদমান পরিস্থিতি। বিজেপি যে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়েও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে না, তা প্রমাণ হয়ে গেল এই ঘটনায়, যা পরবর্তী ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে যথেষ্টই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!