এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে হেনস্তার জেরেই কি অনুদান নিয়ে তীব্র সঙ্কটে যাদবপুর? বাড়ছে জল্পনা

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে হেনস্তার জেরেই কি অনুদান নিয়ে তীব্র সঙ্কটে যাদবপুর? বাড়ছে জল্পনা



যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই শিক্ষার জন্য নিজেদের একটি আলাদা ছাপ রেখেছে গোটা ভারতবর্ষের শিক্ষা পটভূমিতে। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার পীঠস্থান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দে অর্থনৈতিক অনটনে রয়েছে বলে খবর। কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্য অনেক প্রকল্পের টাকাই নাকি ঠিকঠাক আসছে না বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। তবে তার কারণ কি! তা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে একটু অন্যরকম কথা।

সম্প্রতি কয়েক দিন আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে ছাত্র-ছাত্রীদের একাংশের বিরুদ্ধে। প্রতিরোধের চেয়ে প্রবল নিগ্রহের শিকার হতে হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে। জল এত দূর গড়ায় যে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জাগদীপ ধনকারকে ক্যাম্পাসে ছুটে আসতে হয়। এই নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে। তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর পাওয়া যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় সরকারের যে সমস্ত অনুদান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পেয়ে থাকে, তার অনেক ক্ষেত্রেই অনিয়ম দেখা যাচ্ছে।

যার জেরে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। অবশ্য সবথেকে বেশি সমস্যার মুখে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার বলে জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সংগঠন জুটা রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে এসেছে বলেও জানা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, 2017-18 থেকে 2018-19 পর্যন্ত প্রায় 25 লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে। যে টাকা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়কে।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

পরিস্থিতি এমন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ফান্ড থেকে এসসি এবং এসটি পরিষেবা দেওয়া হবে বলে ঠিক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রায় 5 লক্ষ টাকা দেনার মুখে পড়তে হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে ইউপিই খাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাপ্য সাড়ে 4 কোটি টাকা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো রকম সদ্গতি হয়নি এই প্রাপ্য টাকার। এছাড়াও পিএইচডি প্রার্থীদের যে মাসিক ভাতা দেওয়া হয়, ইতিমধ্যেই সেই ভাতাও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।

জানা যাচ্ছে, প্রকল্পে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে টাকা পায়, তা হঠাৎ করেই বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের জানিয়েছেন, কিছু কিছু বকেয়া আছে। আশা করছি, শীঘ্রই তা পেয়ে যাব। আমরা দিল্লীকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। অবশ্য ন্যানো মিশন প্রকল্পে কেন্দ্র সরকারের যে বকেয়া টাকা রয়েছে, তা 2016 থেকে 21 পর্যন্ত মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু 2019 সালে কেন্দ্রের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ওই প্রকল্পের টাকা আর দেওয়া যাবে না।

কিন্তু অর্থনৈতিক বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রবল চাপের মুখে পড়েছে বিদ্যার্থীরা। কর্তৃপক্ষের থেকে দিল্লিতে গিয়ে দরবার করা হলে তাদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, 2020 পর্যন্ত এই টাকা দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা মহলে প্রশ্ন উঠেছে, কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে যদি টাকা বরাদ্দ করা হল, তাহলে কেন মাঝপথে সেই টাকা বন্ধ করে দেওয়া হলো! গোটা ব্যাপারের মধ্যে বাবুল সুপ্রিয় কান্ডের ছাপ দেখতে পাচ্ছে বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে জুটার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ টাকা না পাওয়ার কারণে প্রবল ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এখন শেষপর্যন্ত দিল্লির কাছে দরবার করে কোনরকম ফল পায় কিনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ! সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে সকলের। তবে যাদবপুরের পড়ুয়াদের এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর প্রতি এমন আচরণ, সকল স্তরেই নিন্দনীয় হলেও, তার জন্য অনুদান আটকে যাওয়া ঠিক নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু, এই ঘটনার জন্যই অনুদান আটকে গেছে – এই ধরনের কোনো সরকারি অভিযোগ এখনও সামনে আসে নি – সবটাই গুঞ্জন চলছে!

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!