এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > ভারতে করোনা বিপর্যয় আরও প্রকট হচ্ছে সাধারণের সচেতনতার অভাবে? চিন্তায় সবমহল

ভারতে করোনা বিপর্যয় আরও প্রকট হচ্ছে সাধারণের সচেতনতার অভাবে? চিন্তায় সবমহল


এই মুহূর্তে আতঙ্কের অপর নাম করোনা বলেই বিবেচিত হচ্ছে। চীনের ইউহান প্রদেশ থেকে যে ভাইরাস উৎপত্তি হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার ক্ষমতা দেখাচ্ছে। তাতে মানুষের ভয় আরও বেড়ে চলেছে বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের। অন্যদিকে, পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে আমাদের দেশে সামান্য হাঁচি বা কাশি আসলেও মানুষ পাশের মানুষটিকে সন্দেহের চোখে দেখছে। কিন্তু চিকিৎসকরা বারবার বলে এসেছেন, শুধুমাত্র হাঁচলে বা কাশলে করোনা আক্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

অন্যদিকে এই পরিস্থিতিতে ভারতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে প্রায় প্রতিদিনই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে 4000। সম্প্রতি দিল্লির নিজামুদ্দিনে প্রায় দুই হাজার মানুষের ধর্মীয় সমাবেশ ঘটেছিল। যার ফলে নতুন করে 24 ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন 326 জন। সরকারিভাবে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা এখনো পর্যন্ত 56। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে সব রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি।

অন্যদিকে দিল্লি নিজামউদ্দিন এর ঘটনা সামনে আসার সাথে সাথেই বিশেষজ্ঞদের দাবি, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ আরো ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়বে। সূত্রের খবর, আগামী দিনে দেশের 10 হাজার মানুষের করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সেক্ষেত্রে মনে করা হচ্ছে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হবার প্রবণতা আরো বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, করোনার উপসর্গ থাকলেই কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়ে দিচ্ছেন এই মুহূর্তে চিকিৎসকরা।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

তবে এক্ষেত্রেও সমস্যা এসেছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ কোয়ারেন্টাইনে গেলেই অন্যান্য মানুষ রোগীকে এবং তার পরিবারকে তাচ্ছিল্য করতে শুরু করছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে এই বিদ্রুপ তাচ্ছিল্য সহ্য করতে না পেরে বেশ কিছু করোনা আক্রান্ত আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনা রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা ভারতীয় কোয়ারান্টাইন ব্যবস্থার প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে মানবাধিকার কমিশনের প্রধান মিশেল ব্যাচলেট জানিয়েছেন, ‘ভারতের কোয়ারান্টাইন ব্যবস্থা রোগীদের কলঙ্কিত করছে সমাজের কাছে। রোগীদের গোপনীয়তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। যার জেরে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে রোগীদের।’

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী লকডাউন চালু হয় গত 24 মার্চ থেকে। লকডাউন এর সাহায্যে করোনা সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও করোনা সংক্রমণ আটকানো যায়নি। লকডাউন এর মধ্যেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে দেশে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে পরিস্থিতি রীতিমতো অস্বস্তিজনক ভারত সরকারের কাছে।

প্রথম থেকেই বিশেষজ্ঞরা জানিয়ে আসছেন, ভারত বর্ষ 130 কোটির জনবহুল দেশ। সেই দেশে শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশনামার ওপর ভিত্তি করে করোনা সংক্রমণ আটকানো যাবেনা। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন সর্তকতা এবং সচেতনতা। সরকারের দাবি, সচেতনতার অভাবেই রোগাক্রান্তকে দোষী সাব্যস্ত করছে তাঁর পার্শ্ববর্তী পরিবেশ। তাই সতর্কতার সঙ্গে সঙ্গে করোনা সংক্রমণকে রুখতে দেশের জনগণকে সচেতনতার পাঠ পড়িয়ে চলেছেন দেশের সরকার। আপাতত পরিস্থিতি কোন দিকে বাঁক নেয়, সে দিকে লক্ষ্য রাখবে ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!