এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > আমেঠি কি আর নিরাপদ নয়? রাহুল গান্ধীর জন্য বিকল্প আসনের ভাবনা শুরু? জল্পনা চরমে

আমেঠি কি আর নিরাপদ নয়? রাহুল গান্ধীর জন্য বিকল্প আসনের ভাবনা শুরু? জল্পনা চরমে

Priyo Bandhu Media

উত্তরপ্রদেশের আমেঠি কেন্দ্রটি বরাবরই কংগ্রেসের গড়, বিশেষ করে গান্ধী পরিবারের ভদ্রাসন ধরা হয়। ১৯৮০ সালে সঞ্জয় গান্ধী এখন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন, তারপর তাঁর মৃত্যুতে উপনির্বাচনে জিতে এখন থেকে সাংসদ হন রাজীব গান্ধী। আমৃত্যু তিনি এখানকারই সাংসদ ছিলেন – এমনকি বোমা বিস্ফোরণে তাঁর মৃত্যু হয়ে গেলেও, এই কেন্দ্র তাঁকেই জিতিয়েছিল ১৯৯১ সালেও। এরপরে, সোনিয়া গান্ধী যখন সিদ্ধান্ত নেন তিনি নিজে বা তাঁর সন্তানেরা রাজনীতিতে আসবেন না তখন এই আসনে প্রার্থী হন কংগ্রেসেরই সতীশ শর্মা। মাঝে ১৯৯৮ সালে বিজেপির সঞ্জয় সিং এই আসনে জিতলেও, আবার সোনিয়া গান্ধীর হাত ধরে ১৯৯৯ সালে সেই আসন কংগ্রেসের হাতে ফেরত যায়।

এরপর ২০০৪ সালে কংগ্রেস যখন ঠিক করে রাহুল গান্ধীর রাজনীতিতে ‘রাজ্যাভিষেক’ হবে, তখন সোনিয়া গান্ধী আমেঠি রাহুল গান্ধীর জন্য ছেড়ে নিজে চলে যান গান্ধী পরিবারের আরেক ভদ্রাসন রায়বেরিলিতে। ২০০৪, ২০০৯, ২০১৪ – পরপর তিনবার আমেঠি কিন্তু হতাশ করেনি রাহুল গান্ধী বা কংগ্রেসকে। ২০১৪-এর প্রবল মোদী হওয়াতেও আমেঠির দখল ছিল রাহুল গান্ধীর হাতেই – কিন্তু বিজেপির স্মৃতি ইরানি ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিলেন বেশ কিছু রাউন্ডে। সব থেকে বড় কথা সেই নির্বাচনের সময় আমেঠি লোকসভার অন্তর্গত একটি বিধানসভাও বিজেপির দখলে ছিল না, তাতেও কিন্তু প্রতিটা রাউন্ডের শেষে কি হয় কি হয় অবস্থা!

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

আর এরপর উত্তরপ্রদেশে পালাবদলের পর, বর্তমানে আমেঠির অন্তর্গত একটি বিধানসভাও আর কংগ্রেসের দখলে নেই – হয় তা বিজেপির, নয় তা সমাজবাদী পার্টির। ফলে আমেঠি নিয়ে বোধহয় খুব বেশি নিশ্চিন্তে থাকতে পারছে না হাত শিবির। যদিও উত্তরপ্রদেশের বুয়া-ভাতিজার মহাজোটের বাইরে রাখা হয়েছে আমেঠি ও রায়বেরিলিকে, এখানে কোনো প্রার্থী দিচ্ছে না সপা বা বসপা। এমনকি, ইতিমধ্যেই শেষ ‘তুরুপের তাস’ হিসাবে ময়দানে নামানো হয়েছে রাজীব গান্ধী তনয়া প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। কিন্তু, এতসব করেও বোধহয় আর আমেঠিতে জয় নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন রাহুল গান্ধী স্বয়ং। আর তাই একের পর এক বিকল্প আসনের সন্ধান করে যাচ্ছেন হাত শিবিরের শীর্ষ নেতারা।

প্রাথমিক ভাবে শোনা যাচ্ছিল সাম্প্রতিককালে ভালো ফল করা মধ্যপ্রদেশের কোনো আসন থেকে লড়বেন রাহুল গান্ধী, কিন্তু লোকসভার সমীক্ষা বলছে মধ্যপ্রদেশে এবারেও ভালো ফল করবে বিজেপি। বিকল্প হিসাবে শোনা গিয়েছিল মহারাষ্ট্রের কোনো নিরাপদ আসনের নাম – কিন্তু, সেখানে বিজেপি-শিবসেনা দ্বন্দ্ব মিটিয়ে জোট করে নেওয়ায়, আপাতত মহারাষ্ট্র পর্বেও ইতি পরে গেছে। আপাতত শোনা যাচ্ছে, দক্ষিণ ভারতের কোনো নিরাপদ কেন্দ্র থেকে রাহুল গান্ধী লড়তে পারেন। এর আগে তাঁর ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধী দক্ষিণ ভারতের চিকমাগালুর ও মা সোনিয়া গান্ধী দক্ষিণ ভারতের বেলারি থেকে লড়েছিলেন।

আর তাই, রাহুল গান্ধীর জন্য আপাতত দক্ষিণ ভারতে কংগ্রেসের সবথেকে নিরাপদ কেরলের ওয়ানাড় আসনটির কথা ভাবা হচ্ছে। এমনকি, এই প্রসঙ্গে খোলাখুলি মুখ খুলেছেন রাহুল গান্ধীও। তাঁর বক্তব্য, ‘অমেঠি আমার কর্মভূমি, তাই থাকবে। তবে কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, কেরলে দলীয় কর্মীরা দক্ষিণের কোনও কেন্দ্র থেকে দাঁড়াতে বলছেন। তাঁদের ভালবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তাছাড়া, এর আগে কংগ্রেস এবং অন্য দলের নেতারা, নরেন্দ্র মোদি-‌সহ অনেকেই একাধিক আসনে দাঁড়িয়েছেন। তাই অমেঠি ছাড়া আর কোথাও লড়ব না, এমন কোনও কথা নেই। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দল আর খুব শিগগিরই আপনারা তা জানতে পারবেন।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!