এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ২৬ শের বিজেপির ডাকা বাংলা-বনধ সাংগঠনিক ‘মাস্টারস্ট্রোক’? জল্পনা বাড়ালেন রাজ্যনেতা

২৬ শের বিজেপির ডাকা বাংলা-বনধ সাংগঠনিক ‘মাস্টারস্ট্রোক’? জল্পনা বাড়ালেন রাজ্যনেতা

ইসলামপুরের ছাত্রমৃত্যু নিয়ে আপাতত উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। একদিকে যখন রাজ্যের শাসকদল জানিয়ে দিয়েছে এই পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির ডাকা আগামী ২৬ শে সেপ্টেম্বরের বাংলা-বনধ কিছুতেই হতে দেওয়া যাবে না, তখন সেই বাংলা বনধ ঘিরেই নতুন অঙ্ক কষতে ব্যস্ত রাজ্য বিজেপি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক রাজ্য নেতার কথায় – এই বনধ একদিকে যেমন বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন, অন্যদিকে তেমনই ইটা সাংগঠনিক ‘মাস্টারস্ট্রোক’। রীতিমত উদাহরণ দিয়ে তিনি স্পষ্ট করলেন নিজের মত।

ওই রাজ্যনেতার কথা অনুযায়ী – বনধ যেমন একদিকে কর্মনাশা, তেমনই এই বনধ কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকার। অত্যাচারিত ও নিপীড়িত হতে হতে মানুষের পিঠ যখন দেওয়ালে থেকে যায়, তখন শাসককে বার্তা দিতে এই বনধ ছাড়া আর অন্য পথ খোলা থাকে না। বিশেষ করে শাসক যখন রাজ্যজুড়ে ‘স্বৈরাচার’ কায়েম করে, তখন জনগণ যে বিরূপ তা প্রমান হয় এই বনধ-হরতালের মাধ্যমেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিরোধী নেত্রী ছিলেন – এই বনধের রাজনীতিকে তিনিই তো তখন উত্তুঙ্গু পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন! তৎকালীন বাম-সরকার যখন একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছিল, তখন শাসককে বার্তা দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বনধের রাজনীতিই করেছিলেন।

বর্তমানে, ইসলামপুরে ছাত্র আন্দোলনে তিন-তিনটি তরতাজা প্রাণ চলে গেল, সেখানে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বদলে বর্তমান সরকার সেই দায় বিরোধীদের ঘাড়ে চাপাতে তৎপর। অর্থাৎ শাসক ভালো করেই বুঝে গেছে, দিন ঘনিয়ে এসেছে – তাই আলাপ আলোচনায় গেলে সরকারের উপর চাপ আরও বেড়ে যাবে। আর তাই, এই অন্যায়ের দায় বিরোধীদের ঘাড়ে চাপিয়ে সাধু সাজতে চাইছে! তাই এই পরিস্থিতিতে জনগনের যে স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ তা প্রকাশ করার একমাত্র উপায় তো এই বনধ। সরকার যদি নিজের জায়গায় ঠিক থাকে – তাহলে জোড় করে এই বনধ আটকানোর তো কোনো দরকারি নেই! নিজেদের ‘উন্নয়ন-বাহিনী’ রাস্তায় নামিয়ে এই বনধ ব্যর্থ করতে হবে কেন? এর দরকার পড়ছে কারণ সরকারের অন্যায়টা মানুষের সামনে প্রতিফলিত হয়ে পড়েছে, তাই জোর করে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে – কিন্তু এইভাবে কি গণতন্ত্রকে হত্যা করতে পারা যাবে?

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এর সাথেই ওই নেতার আরো বক্তব্য, তবে, এই বনধ একদিক থেকে আমাদের সাংগঠনিক শক্তি পরীক্ষার ‘মাস্টারস্ট্রোকও’ বটে। সত্যি কথা বলতে, রাজ্যজুড়ে বিজেপির প্রতি একটা হাওয়া আছে সেটা বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনেই প্রমাণিত। কিন্তু সেই হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে ভোট-যুদ্ধে জিততে কতখানি প্রস্তুত বিজেপি, তার একটা তুলনামূলক পরীক্ষা হয়ে যাবে ২৬ শেই। দেখুন, সত্যি কথা বলতে – ভাবের ঘরে চুরি করে লাভ নেই। বিজেপির সাংগঠনিক খামতি আছে এই রাজ্যে সেই নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে গেছেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। আর তাই খাতায়-কলমে নয়, বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি কতটা বৃদ্ধি হয়েছে তা বাস্তবে বোঝাটা খুব জরুরি।

ওই রাজ্য নেতা আরো বলেন, আগামী বনধের দিনে যেহেতু শাসকদল বনধ আটকানোর জন্য রাস্তায় নিজেদের বাহিনী নামবে বলে জানিয়ে দিয়েছে, তাই সেদিন রাজ্যজুড়ে তিনধরনের ঘটনা ঘটবে। প্রথমত – প্রতিরোধ, দ্বিতীয়ত – প্রতিবাদ আর তৃতীয়ত – কোন ঘটনা না ঘটা। যেসব অঞ্চল বা জেলাতে আমাদের নেতা-কর্মীরা রাস্তায় নেমে শাসকদলের গুন্ডামি রুখে প্রতিরোধের পাল্টা পরিস্থিতি তৈরী করতে পারবে, সেখানে বুঝতে হবে আমাদের সংগঠন কিন্তু রীতিমত তৈরী। আর যেসব জায়গায় – প্রতিবাদ হবে, কিন্তু শাসকদল সেই প্রতিবাদের কন্ঠ জোর করে বন্ধ করতে চাইবে, সেখানে বুঝতে হবে আমাদের সংগঠন তৈরী হচ্ছে, কিন্তু তা আরো শক্তিশালী করতে হবে। আর যেখানে, প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ কিছুই হবে না – সেখানে তো স্পষ্ট যে আমাদের সংগঠন তৈরিই হয় নি, তাই সেখানে রাস্তায় কর্মীরা নামতে পারেননি।

ওই নেতার কথায়, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে এই সাংগঠনিক শক্তির বিন্যাস বোঝাটা রাজ্য নেতৃত্ত্বের কাছে অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন। নিজেদের শক্তি বা দুর্বলতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না থাকলে ভোট-যুদ্ধ জেতা যায় না। আর আপনারা জানেন, এবারের নির্বাচনে বাংলা থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত্ব কি আশা করছেন। সুতরাং, সেই যুদ্ধে জিততে হলে খাতায়-কলমে শক্তি কেন্দ্রের ওজন না মেপে, বাস্তবটা বোঝা অত্যন্ত জরুরি। আর তাই রাজ্য নেতৃত্ত্ব থেকে শুরু করে বুথস্তরের নেতা সবার কাছেই কিন্তু অগ্নিপরীক্ষা হতে চলেছে এই বাংলা-বনধ। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বন্ধ সফল করতে মানসিকভাবে প্রস্তুত – কিন্তু কতটা প্রস্তুত গেরুয়া শিবিরের নেতারা তার ফয়সালা হয়ে যাবে সেদিনই।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!