এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে গুলিবিদ্ধ তৃণমূল নেতার মৃত্যু,তুলকালাম উত্তর দিনাজপুর

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে গুলিবিদ্ধ তৃণমূল নেতার মৃত্যু,তুলকালাম উত্তর দিনাজপুর

পঞ্চায়েত ভোটে উত্তর দিনাজপুর জেলা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার হয়েছিলেন এক তৃণমূল নেতা মহম্মদ কালিমুদ্দিন।  গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন এসএসকেএমে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। পরশুদিনই রাতে তাঁর অবস্থার উন্নতি দেখে পরিবারের লোককে তাকে বাড়ি নিয়ে যায়। আর পরেরদিনই ভোরেই মৃত্যু হয় বছর ২৭ এর ওই যুবকের। তাঁর মৃত্যুর পরই উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। এদিন সকালেই অভিযুক্তদের সকলকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে মহুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে মতিলাল গ্রামের একাংশ তৃণমূল কর্মীরা প্রায় চার ঘন্টা ধরে বেঙ্গল টু বেঙ্গল রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। এঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন গ্রামবাসীরাও। বেশ অনেকক্ষণ ধরেই অচলাবস্থা হয়ে গিয়েছিলো বিক্ষুব্ধ এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে রাস্তায় নামতে হয়েছিল। পরে ব্লক নেতৃত্বদের সহযোগে পুলিশ প্রশাসন অবরোধকারীদের বুঝিয়ে  অবরোধ প্রত্যাহার করায়।

কিন্তু কেন হিংসার শিকার হতে হল এই যুবককে? জবাব মিলেছে মৃত যুবকের খুড়তুতো দাদা তথা নবনির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলেরই সমর্থক মহম্মদ ভুট্টু আলমের কাছ থেকে। জানান দলের টিকিট পেয়েই তিনি ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু মহম্মদ হাসিবকে দল টিকিট না দিতে সে নির্দল হয়ে ভোটে দাঁড়ান।  ফলে ভেতরে ভেতরেই রাগে ফুঁসছিলেন তিনি। বিকেলে কালিমুদ্দিনকে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হাসিবের অনুগামীরাই তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এমনটাই অভিযোগ জানিয়ে হাসিব সহ মোট ১১ জনের নামে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে গোয়ালপোখর থানায়। কিন্তু পুলিশ এ ব্যাপারে কোনো সক্রিয়তাই দেখায়নি। তাই প্রতিবাদ জানাতে এবং অভি্যুক্তদের সত্ত্বর গ্রেফতারের দাবীতে সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে নামনে তাঁরা এদিন। এমনটাই জানালেন, মৃতের দাদা।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে।

উল্লেখ্য,গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কলিমুদ্দিনকে প্রথমে ইসলামপুর মহাকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল হসপিটালে স্থানান্তরিত করতে বলা হয়।  দিন কয়েক মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন থাকার পর এসএসকেএমে পাঠানো হয় তাকে। দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরে তাঁর মৃত্যু হলে পরস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে,তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভি্যোগ মানতে নারাজ পরাজিত নির্দল প্রার্থী মহম্মদ হাসিব। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারোপ করা হচ্ছে বলেই দাবীতে জানালেন। যুক্তিতে তিনি জানান, তিনি আগেও তৃণমূলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন,এখনও আছেন।

ভোটের দিন গুলি চালানোর ঘটনায় তিনি বা তাঁর অনুগামীরা কেউই যুক্ত ছিলেন না। ভুট্টো আলমের অনুগামীরাই তাঁদের উপর আক্রমণ চালিয়েছিল।  যার জেরে ধস্তাধস্তিতে কালিমুদ্দিন গুরুতর আহত হন। অন্যদিকে,গোয়ালপোখর ব্লক সভাপতি গোলাম রসুল বলেন,ভোটের দিন কে বা কারা গুলি চালিয়েছেন এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। পুলিশিতদন্তের উপরই ভরসা রেখেছেন তিনি। অন্যদিকে গোয়ালপোখরের সিআই সাধন ভৌমিক বলেন, এই ঘটনার অভিযুক্ত হিসাবে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।  তদন্ত চলছে। দোষীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য আইনি ব্যবস্থা নিশ্চয়ই নেওয়া হবে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!