এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > দিনের আলোয় জনবহুল এলাকায় নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন তৃণমূল নেতা? পিছনে সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

দিনের আলোয় জনবহুল এলাকায় নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন তৃণমূল নেতা? পিছনে সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

ফের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন হলেন এক তৃণমূল নেতা। রাতের অন্ধকারে নয়,প্রকাশ্যে দিনের আলোয় প্রায় এক কিলোমিটার তাড়া করে এলোপাথাড়িভাবে কুপিয়ে খুন করা হল তারক মন্ডল নামের ওই তৃণমূল নেতাকে। এ যেন বলিউডের অ্যাকসান ফিল্মের কোনো এক দৃশ্য! তারক মন্ডল খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হিসাবে চারজন যুবকের নাম জড়িয়েছে। এফআইআর দায়ের করার পর থেকেই অভিযুক্তদের তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। তবে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, হাটগাছিয়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা তারক রবিবার তার ঘনিষ্টদের সঙ্গে বকখালিতে পিকনিক করতে যান। তারপর ক্লাব থেকে যে সমস্ত জিনিস পিকনিকের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন সেগুলি ফেরত দিয়ে সকাল ১১ টা নাগাদ সেখানেই থেকে যান। এরপর হঠাৎ করেই অনি এবং ভজাইয়ের নেতৃত্বে পাঁচ-ছজন যুবক বঁটি ও ভোজালি নিয়ে ক্লাবে ঢুকে পড়েন। প্রথমে ক্লাবের সদস্যদের উপর হামলা চালানোর পর ভোজালি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারকের উপর।

কোনোক্রমে তারকবাবু সেখান থেকে বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করে পাশের মাঠ ধরে দৌড়াতে শুরু করেন। সেসময় তাঁর পেছনে ধাওয়া করে আরো দুজন। অন্যদিকে,তারককে বাধা দেওয়ার জন্যো রাস্তায় বাইক নিয়ে দাঁড়িয়েছিল আরো জনা চারেক যুবক। বেগতিক দেখে তারক মাঠের পাঁচিল টপকে পাগলাডাঙার দিকে দৌড়াতে শুরু করেন। কিন্তু দুষ্কৃতিরা পিছন ছাড়ে না তাঁর। পাগলাডাঙার এক স্থানীয় ক্লাবের সামনে আসতেই তারকের পথ আটকায় আততায়ীরা।

প্রকাশ্যেই তাকে মাটিতে ফেলে বঁটি এবং ভোজাতি সহযোগে এলোপাথাড়িভাবে কোপাতে শুরু করে। এই নৃশংস হত্যার দৃশ্য দেখে অনেকোই ভয়ে ঘরে ঢুকে পড়েন। তারকবাবুকে কোপানোর পর বাইকে করে চম্পট দেয় দুষ্কৃতিরা। এরপর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে ট্যাংরা থানার পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তারক মন্ডলকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও লাভ হয়নি কিছু। চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

 

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

কেন এভাবে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হল তারক মন্ডলকে? তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে,তারক মন্ডল হত্যাকান্ডের অভিযুক্তরা তাঁর দলেরই লোকজন ছিল। সকলেই তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। কিন্তু এলাকা দখল নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দলীয় অন্দরেই গন্ডোগোল চলছিল। তার জেরে তারক মন্ডলকে ছেড়ে আলাদা করে গ্রুপ তৈরি করে অনি এবং ভজা। তবে বাসিন্দাদের বক্তব্য অনি এবং ভজার সঙ্গে তারকবাবুর পুরানো গন্ডোগোল ছিল। বছরখানেক আগে তারকের বিরুদ্ধে ভজাকে মারধোরেরও অভিযোগ ওঠে। তারপর ভজার দলবল তাঁর উপর চড়াও হয়। তখন থেকে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গন্ডগোলের সূত্রপাত।

সম্প্রতি দিনকতক আগে বস্তি দেখাশোনার দায়িত্ব আসে তারকের কাঁধে। যেটা সহ্য হয়নি ভজা গোষ্ঠীর। স্থানীয়রা আরো জানান,বস্তির উন্নয়নের জন্যে বেশ কিছু কাজকর্মও করছিলেন তারক। এছাড়া সমানতালে চলছিল বিভিন্ন অসামাজিক কাজের প্রতিবাদ করা। এগুলোই পছন্দ হচ্ছিল না অপর গোষ্ঠীর। তারপর থেকেই এলাকা দখল নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে তারা। তখন থেকেই তারক মন্ডল খুনের ষড়যন্ত্র করছিল অভিযুক্তরা।

এর পাশাপাশি পুলিশ তদন্তে নেমে আরো জানতে পেরেছে,বস্তি লাগোয়া সরকারি জমি অবৈধভাবে বিক্রিতে মদত দিচ্ছিলেন তারক। অন্যদিকে,অনি ও ভজারা এলাকায় ঢুকতে না পারায় অবৈধভাবে জমি বিক্রি করতে পারছিল না। ফলত ভজা গোষ্ঠীর চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিলেন তারক।

এছাড়া তারক মন্ডলের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে,বস্তিবাসীদের কলের লাইন বা অন্য কোনো সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা সংগ্রহের। এতে কোনোরকম ভাগ বসাতে পারছিল অভিযুক্তরা। তার জেরেই এই খুনের ঘটনা হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা সুভাষ চক্রবর্তী মেনে নিয়েছেন,তারক তাঁদের দলেরই কর্মী। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা,এমনটাই দাবীতে জানালেন সুভাষ চক্রবর্তী।

Top
error: Content is protected !!