এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঠেকাতেই কি শাসকদলে ক্রমশ জায়গা করে নিচ্ছেন একাধিক নতুন মুখ?

গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঠেকাতেই কি শাসকদলে ক্রমশ জায়গা করে নিচ্ছেন একাধিক নতুন মুখ?

শিয়রে লোকসভা ভোট। কিন্তু এখনো গোষ্ঠীকোন্দল থেকে মুক্তি পেল না দল। বরং ভোট যত এগিয়ে আসছে ততোই যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দলের আভ্যন্তরীন মতভেদ। তাই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রুখে উন্নয়নের কাজ গতি আনতে নয়া পদক্ষেপ নিতে দেখা গেল হুগলি জেলা তৃণমূলকে৷ এবার জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচনে বেশ কয়েকটি নতুন মুখ আনতে দেখা গেল শাসকদলকে।

এদিন রাতে সাংসদ, বিধায়ক ও দলীয় ছাত্র, যুব ও মহিলা সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক থেকে কর্মাধ্যক্ষদের তালিকা তৈরি হল কোলকাতায় জেলার পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাসের অফিসে। বদল হলেন পূর্ত,শিক্ষা,জনস্বাস্থ্য,কারিগরি,মৎস্য, বিদ্যুৎ,নারীশিক্ষায় কর্মাধ্যক্ষরা। তবে পুরানোদের সরিয়ে দায়িত্বে নতুনদের আনার ফলে প্রাক্তণদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে,এমনটাই আঁচ পাওয়া গিয়েছে দলীয় সূত্রে।

তৃণমূল সূত্রে আরো জানা গিয়েছে,শিক্ষক নেতা মনোজ চক্রবর্তীকে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে কৃষি ও সেচ দপ্তরের দায়িত্বে আনা হয়েছে। আর পূর্তের দায়িত্ব বসানো হয়েছে দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা জেলা সম্পাদক সুবীর মুখোপাধ্যায়কে। শিক্ষা-সংস্কৃতি দপ্তরের দায়িত্বে নতুন মুখ হিসাবে জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি গোপাল রায়কে আনা হয়েছে। আগে এই দায়িত্বে কর্ম্যাধ্যক্ষ ছিলেন সাহিনা সুলতানা।

গতবারের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের কর্ম্যাধ্যক্ষ মৌসুমি ঘোষকে এবার দল টিকিট দেয়নি। ওই দপ্তরের কর্ম্যাধ্যক্ষর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলার যুব সভাপতি নতুন মুখ শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মৎস্য দপ্তরের দায়িত্বে থাকা আসফার হোসেনকে সরিয়ে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শেখ নিজামউদ্দিনকে। আসফার হোসেনকে দল এবার টিকিট দেয়নি।

অন্যদিকে,সিঙ্গুরের কৃষক নেতা মানিক দাসকে আগের মতোই বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ পদে বহাল রাখা হয়েছে সিঙ্গুরের আবেগকে প্রাধ্যন্য দিয়েই। সংরক্ষণের কোপে পড়েই তিনি এবার আরামবাগ থেকে নির্বাচিত হন। শিশু ও নারীকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্বে থাকা লীনা চট্টোপাধ্যায়ের জায়গায় নতুন দায়িত্বে আনা হয়েছে হয়েছে পার্বতী বাগকে। খাদ্য সরবরাহের দায়িত্বে আনা হয়েছে শেখ আব্দুল জব্বরকে। আগে এই দায়িত্বে ছিলেন সঞ্জয় দাস।

হারাধন বাগকে সরিয়ে বিদ্যুৎ ও ক্ষুদ্রশিল্প কর্মাধ্যক্ষ পদে আনা হয়েছে প্রতিমা মুর্মুকে। সমীরণ মিত্র অধ্যক্ষ ও নিশেষ ঘোষ উপাধ্যক্ষের দায়িত্বে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গোটা রদবদলের তালিকা লিখিত আকারে রাজ্য এবং জেলা নেতৃত্বের তরফ থেকে পাঠানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে। মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ সংকেত মিললেই জেলা পরিষদে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচন হবে।

প্রসঙ্গত, বৈঠকের প্রথম পর্বেই পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাস জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে গোটা জেলাকেই চারটি মহাকুমায় ভাগ করে নেন। চারটি মহাকুমা থেকেই কর্মাধ্যক্ষ নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু চন্দননগর মহাকুমার সিঙ্গুরের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও মানিক দাস আরামবাগ থেকে নির্বাচিত হন এটা নিয়ে বেশ জটিলতা সৃষ্টি হয়। সিঙ্গুরের কৃষক নেতা মানিক দাসকে সিঙ্গুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

বৈঠকে অরূপবাবু বলেন,দলের অন্দরেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে ইন্ধন দেওয়ার চেষ্টা করেছে অনেকেই। এই সমস্যা রোধে সকলকেই সচেতন থাকতে হবে। তবে বৈঠকে উপস্থিত বিধায়করা নিজেদের ঘনিষ্ট লোকেদের নাম কর্মধ্যক্ষের তালিকায় প্রস্তাব করায় মেজাজ বিগড়ে যায় অরূপ বাবুর। বলেন,’১২টা পদের ২০ জন দাবিদার। এভাবে চলতে পারে না। তাহলে আপনারা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সব নাম লিখে পাঠিয়ে দিন। আমি কোনও দায়িত্ব নিতে পারব না।’ এই নিয়ে বৈঠকে পরে গন্ডোগোল শুরু হলে পরিস্থিতির সামাল দিতে বিধায়ক তথা জেলার কার্যকরী সভাপতি প্রবীর ঘোষাল নিজেদের মধ্যে এই ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করে নেওয়ার কথা বলেন। যাঁদের নাম নিয়ে কোনো সমস্যা নেই তাঁদেরই বাছাই করার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এরপরেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হয় পঞ্চায়েতের অধ্যক্ষ এবং কর্মাধ্যক্ষের। তবে এবার পুরানোদের সরিয়ে নতুনদের দায়িত্বে আনায় প্রাক্তনদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এমনটাই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল। এ প্রসঙ্গে এ শীর্ষ নেতা বলেন,নতুনদের সুযোগ দেওয়ার ঘটনায় পুরানোদের রাগ করার কোনে কারণ নেই। কারণ দলে চিরকাল কেউ স্থায়ী পদে বহাল থাকতে পারে না।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!