এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > রাজ্যে “পরিবর্তনের পরিবর্তন” করার স্বপ্ন দেখানো গেরুয়া শিবির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে নাজেহাল ও দিশাহীন অনুব্রত-গড়ে

রাজ্যে “পরিবর্তনের পরিবর্তন” করার স্বপ্ন দেখানো গেরুয়া শিবির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে নাজেহাল ও দিশাহীন অনুব্রত-গড়ে

রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে দমাতে মাঠে ময়দানে দলীয় কর্মীদের রাজনৈতিক লড়াইয়ে যখন শামিল হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন বিজেপির কেন্দ্র এবং রাজ্যের নেতৃত্বরা, ঠিক তখনই জেলায় জেলায় সেই বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলেই তীব্র অস্বস্তি বাড়ছে গেরুয়া শিবিরে।

এবার সেই বিজেপির গোষ্ঠী সংঘর্ষে প্রবল উত্তেজনা ছড়াল তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি তথা অনুব্রত মন্ডলের গড় বলে পরিচিত বীরভূমে। প্রসঙ্গত, বীরভূমের তৃনমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে চাপে রাখতে বারে বারেই বীরভূমকে টার্গেট করেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

সম্প্রতি তাদের রথযাত্রা এই বীরভূমের তারাপীঠ দিয়েই শুরু হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল বিজেপি। কিন্তু বিজেপির সেই স্বপ্ন যে স্বপ্নই থেকে যাবে তা বোঝা গেল এই বীরভূম জেলায় বিজেপি সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়ের প্রতি দলীয় কর্মীদের বিদ্রোহেই।

সূত্রের খবর, গত শনিবার বীরভূমের সিউড়িতে জেলা বিজেপির কার্যালয়ের সামনে জেলা বিজেপির বীরভূম জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ দেখায় কিষান মোর্চার পদাধিকারী ও সদস্যরা। পরে নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দেন সেই জেলা বিজেপির কিষান মোর্চার 60 জন পদাধিকারী। আর এতেই চরম চাপে পড়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।

তবে শুধু শনিবার নয়, রবিবার সকালেও বীরভূমের নলহাটির জাতীয় সড়ক লাগোয়া শিশু মন্দিরের সামনে কালো পতাকা হাতে সেই জেলা বিজেপি সভাপতির বিরুদ্ধে গো ব্যাক স্লোগান তুলে কালো পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখান শতাধিক বিজেপি কর্মী।

জানা যায়, এদিন এই শিশু মন্দির এলাকায় বিজেপির বীরভূমের রথযাত্রার নিয়ে একটি বৈঠক করার কথা ছিল। যেখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল জেলা বিজেপির সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়ের। কিন্তু সেইদিন রামকৃষ্ণবাবু আসার আগেই তার বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ বিদ্রোহ ঘোষণা করায় তিনি আর সেখানে আসেননি। মাঝ রাস্তা থেকেই এদিন ফিরে যেতে বাধ্য হন তিনি। কিন্তু হঠাৎ জেলা বিজেপির সভাপতির বিরুদ্ধে তাদের এই অসন্তোষ কেন?

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এদিন এই প্রসঙ্গে বিক্ষোভকারী বিজেপি নেতা গৌতম ভট্টাচার্য বলেন, “রামকৃষ্ণ রায় জেলা বিজেপি সভাপতি হলেও তিনি তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের কথায় ওঠাবসা করছেন। আর তাই সেই রামকৃষ্ণবাবুর নেতৃত্বে জেলায় বিজেপি ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। তাই আমরা এই সভাপতি মানি না। দলকে বাঁচাতে আমরা জেলা সভাপতির অপসারণের দাবিতেই এই আন্দোলন করছি।”

অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে জেলা বিজেপির সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় বলেন, “যারা এই ধরনের আন্দোলন করছেন তারা তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বীরভূমে বিজেপির সর্বনাশ ডেকে আনছেন।” কিন্তু যখন রাজ্য এবং কেন্দ্রের তরফে বারবার দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত হয়ে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে এইভাবে দলের অভ্যন্তরে দলের নেতাকর্মীরা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জড়িয়ে পড়ায় দলের অস্বস্তি কি বাড়ছে না?

এদিন এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “বীরভূমের কিষান মোর্চা সভাপতিকে প্রদেশে নিয়ে এসে ওখানে অন্য লোককে সভাপতি করা হয়েছে। আর তাই নিয়ে কিছু লোক গণ্ডগোল শুরু করেছে। একটু টেনশনে আছি। কিন্তু সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।”

অন্য দিকে এই কিষান মোর্চার সভাপতিকে সরিয়ে দেওয়ায় জেলায় সেই কিষান মোর্চার 60 পদাধিকারী ইস্তফা দিয়েছে। এতে কি দলের উপর কোন এফেক্ট পড়বে না? এদিন এই প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, “যেখানে কিষান মোর্চার কমিটিই ভেঙে দেওয়া হয়েছে, সেখানে পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার আবার কি আছে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি যতটা সহজভাবে ব্যাপারটাকে বললেন, কাজের মধ্যে দিয়ে সেই ব্যাপারটাকে মেটানো ততটা সহজ নয়। ফলে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির এই বীরভূম জেলার গোষ্ঠী কোন্দল মেটাতে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঠিক কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!