এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > খাওয়া দেখেই বুঝে গেলেন অনুপ্রবেশকারী! আবারও বিতর্ক উসকে দিলেন হেভিওয়েট বিজেপি নেতা

খাওয়া দেখেই বুঝে গেলেন অনুপ্রবেশকারী! আবারও বিতর্ক উসকে দিলেন হেভিওয়েট বিজেপি নেতা

স্রেফ চিঁড়ে খাওয়ার জন্য যে এতোখানি বিতর্ক তৈরি হবে, তা বোধহয় ভাবেননি কৈলাস বিজয়বর্গীয়। সম্প্রতি বিজেপি শিবির থেকে তাঁদের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় বিতর্কিত মন্তব্য করে আসছেন। বিতর্কের মাত্রা এতটাই বেড়ে যাচ্ছে যে, রাজনৈতিক মহল থেকে নাগরিক সমাজ প্রত্যেকেই হতচকিত হয়ে পড়ছেন। এদিনও আবার বিতর্ক সৃষ্টি করলেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তাঁর বাড়িতে কর্মরত শ্রমিকদের চিঁড়ে খাওয়া দেখে নাকি তিনি বুঝে গেছেন তাঁরা বাংলাদেশি। এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে।

এবার নতুন করে আবার বিতর্ক তৈরি করলেন বিজেপি সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। সম্প্রতি তিনি বাড়িতে নির্মাণ কাজ করিয়েছেন এবং সেখানেই শ্রমিকরা খাবার খাওয়ার সময় চিঁড়ে খাচ্ছিল। আর তাই দেখেই কৈলাস বিজয়বর্গীয় ধারণা হয়েছে, যে তাঁরা বাংলাদেশী। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘খাওয়ার অভ্যেস অদ্ভুত’। তিনি আরো বলেছেন, ‘কয়েকজন শুধু পোহা (চিঁড়ে)-ই খেয়ে যাচ্ছিল।’ যা দেখে তাঁর ওই শ্রমিকদের বাংলাদেশী বলে সন্দেহ হয়েছিল। এবং তিনি তা নিয়ে ওই নির্মাণকার্যের সুপারভাইজার এবং কন্ট্রাকটারের সাথেও কথা বলেন। বৃহস্পতিবার কৈলাস বিজয়বর্গীয় স্বয়ং এই ঘটনার কথা জানান।

এই ঘটনা নিয়ে পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরো বলেন, “আমার সন্দেহ হয় যে ওই মজুররা বাংলাদেশের নাগরিক। এবং এই সন্দেহ হওয়ার দুদিনের মধ্যে তারা আমার বাড়িতে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। আমি এখনও পুলিশে খবর দিইনি, আমি শুধু জনসাধারণকে সচেতন করতে কথাটা বললাম।” কৈলাস বিজয়বর্গীয়র এহেন মন্তব্য ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য দেখা গেছে সমাজের সব স্তরে। এমনকি এই মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের একাংশও চূড়ান্ত সমালোচনা করছেন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

আলোচনা প্রসঙ্গে নেটিজেনরা মন্তব্য করেছেন, ভারতবর্ষে চিঁড়ে অনেক সহজলভ্য এবং এতে খিদে মেটে সহজে। সেই কারণেই দিনমজুররা চিঁড়েকেই তাদের খাদ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে। তার মানে এই নয় যে, তাঁরা বাংলাদেশী বলেই খাচ্ছে। আবার অনেকেই বলছেন, ভারতবর্ষের অনেক বাড়িতেই সকালের জলখাবারে পোহা বা চিঁড়ে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রদেশের এক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৈলাস বিজয়বর্গীয় দাবি করেন যে তাঁর ওপর কয়েকবছর ধরে নজর রাখছে এক সশস্ত্র বাংলাদেশী জঙ্গী।

বাংলাদেশের জঙ্গিদের নজর রাখার ব্যাপারে তিনি বলেছেন,“যখনই আমি বাইরে যাই, ছজন সশস্ত্র দেহরক্ষী থাকে আমার সঙ্গে। কী হচ্ছে কী এই দেশে? বাইরের লোক ঢুকে এভাবে এতটা আতঙ্ক ছড়াবে?” তিনি এরপর সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সারাদেশে যে তুমুল আন্দোলন চলছে, তার বিপক্ষে বলেন ‘গুজবে কান দেবেন না। দেশের স্বার্থেই সিএএ হচ্ছে। প্রকৃত শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবে এই আইন। এই আইনের দ্বারাই দেশের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অনুপ্রবেশকারীদের ধরা সম্ভব হবে।’

দিনের পর দিন বিজেপি নেতারা যেভাবে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে চলেছেন, তা নিয়ে এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় বিজেপি দল রীতিমতো অস্বস্তিতে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সারা দেশ জুড়ে নাগরিকত্ব আইনকে ঘিরে যেভাবে ক্ষোভের উৎপত্তি হচ্ছে, বারংবার বিজেপি নেতাদের বিতর্কিত মন্তব্য সেই ক্ষোভের আগুনকে আরো উসকে দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপি নেতারা যেভাবে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে চলেছেন, তাতে রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁরা কিছুটা একপেশে হয়ে পড়তে পারেন। আপাতত সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নজরে রেখে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন সে দিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকগণ।

আপনার মতামত জানান -
ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!