এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > এনকাউন্টার কান্ডে মৃতদেহ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত পরিবারগুলির! বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল পুলিশ!

এনকাউন্টার কান্ডে মৃতদেহ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত পরিবারগুলির! বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল পুলিশ!



ইতিমধ্যেই গোটা দেশজুড়ে আলোচনার শিরোনামে উঠে এসেছে তেলেঙ্গানা পুলিশ। বস্তুত, কয়েকদিন আগে 27 শে নভেম্বর হায়দ্রাবাদের সামসাবাদ এলাকায় তরুণী পশু চিকিৎসকের ওপর পাশবিক অত্যাচার চালিয়ে ধর্ষণ করে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে চারজন যুবকের বিরুদ্ধে। যার জেরে গোটা ভারতবর্ষে নিন্দার ঝড় ওঠে থেকে শুরু করে সংসদ, সর্বত্র দোষীদের কঠোর শাস্তি এবং দ্রুত শাস্তিদানের স্বপক্ষে জোরদার আন্দোলন চলে।

এরই মধ্যে শুক্রবার সকালবেলা খবর আসে, তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণে অভিযুক্ত চার অভিযুক্তের পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে। স্টুডেন্ট কমিউনিটি থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য, বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ অধিকাংশ লোকের তরফ থেকেই তেলেঙ্গানা পুলিশের এনকাউন্টারকে সঠিক এবং প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করা হয়। কিন্তু শুধুমাত্র সাধারণের পক্ষে ঘটনাকে সমর্থন করা হয়নি। ইতিপূর্বেই অভিযুক্তদের পরিবারের তরফ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়, দোষী প্রমাণিত হলে তার ছেলেকেও জ্বালিয়ে দেওয়া হোক।

একই মত প্রকাশ করেছিলেন, আরেক জন অভিযুক্তের বাবা। তাদের ছেলের যেন উপযুক্ত শাস্তি হয়। সেই দাবি করা হয়েছিল অভিযুক্ত বাবার তরফ থেকে। কিন্তু আদালত নিজের কাজ করার আগেই এদিন খবর আসে পুলিশের এনকাউন্টারে মারা গিয়েছেন 4 জন অভিযুক্ত। কিন্তু ইতিমধ্যেই খবর এসেছে অভিযুক্তদের দেহ নিতে চায় না পরিবারের লোকেরা। সমাজের মধ্যে এই ধর্ষণকাণ্ড যে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে পরিবারের সিদ্ধান্ত থেকেই।

হায়দ্রাবাদ পুলিশের তরফ থেকে খবর, পরিবারের থেকে মৃতদেহ গ্রহণ না করায় এনকাউন্টারে মৃতদের শেষকৃত্য করবে পুলিশ। পুলিশের তরফ থেকে জানা গেছে, গতকাল সামসাবাদের 44 নম্বর জাতীয় সড়কের কাছে তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পূর্ণ নির্মান করার জন্য অভিযুক্তদেরকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেই সময়ই পুলিশের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনতাই করে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করে। শুধু তাই নয়, পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইটের টুকরো ছুঁড়ে হামলা চালায় অভিযুক্ত চারজন।

অবশেষে একমত বাধ্য হয়েই পুলিশকে গুলি চালাতে হয়। আর এর ফলেই মৃত্যু হয় চারজনের। কিন্তু পুলিশের এনকাউন্টারে চারজনের মৃত্যু হলেও তাদের মৃতদেহ নিতে অস্বীকার করেছে তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং পরিবারের লোকেরা। যার ফলে পুলিশের তরফ থেকে শেষকৃত্য করা হবে বলে জানা গিয়েছে। গতকাল এনকাউন্টার সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য দেওয়ার জন্য পুলিশের তরফ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

সাংবাদিক সম্মেলনে সাইবারাবাদ পুলিশ কমিশনার ভিসি সাজ্জানর বলেন, “আসলে এনকাউন্টারে নয়। দু’পক্ষের গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে চার জন অভিযুক্তের।” শুধু তাই নয়, পুলিশের দুইজন গুরুতর ভাবে আহত হয়েছেন অভিযুক্তদের আক্রমণে বলেও জানানো হয় ওই সাংবাদিক বৈঠক থেকে। চিকিৎসকদের তরফ থেকে মেডিকেল বুলেটিনে করে জানানো হয়েছে, ওই ঘটনায় আহত অরবিন্দ গৌরু এবং পুলিশের স্টেশন ইনচার্জ ভেঙ্কটেশ্বরের অবস্থা বর্তমান স্থিতিশীল। হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে।

কমিশনের তরফ থেকে সাংবাদিকদেরকে জানানো হয়েছে, এনকাউন্টারে মৃত চারজন অভিযুক্তর মধ্যে দুজনের কাছ থেকে পরবর্তীতে বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিতে গিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, “চারজন অভিযুক্তকে নিয়ে তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার জন্য 10 জন পুলিশ কর্মী গিয়েছিলেন।” ইতিমধ্যেই নিজেদের স্বীকারোক্তিতে পুলিশের কাছে অভিযুক্তরা জানিয়েছিলেন, নির্যাতিতা পশু চিকিৎসক তরুণীকে যেখানে তারা অগ্নিদগ্ধ করেছিল, সেই দেহের কাছে তার ফোনের পাওয়ার ব্যাংক, ঘড়ি, মোবাইল ইত্যাদি তারা ফেলে দিয়েছিল।

পুলিশের তরফ থেকে সেই স্থানে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হলে এই দুইজন অভিযুক্ত আগ্নেয় অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় পুলিশের কাছ থেকে। যার পরে তাদেরকে পুলিশ আত্মসমর্পণ করতে বলে। কিন্তু তারা ধরা না দিয়ে উল্টে পুলিশের উপরে গুলি চালাতে থাকে। যেহেতু ঘটনার পুনরনির্মাণের জন্য তাদেরকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই কারণে তাদের হাতের হ্যান্ডকাপ খোলা ছিল। সেই কারণেই তারা পুলিশের দিকে একের পর এক গুলি চালায়। জবাবে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনায় চারজন অভিযুক্ত মারা যায়।

তবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য পুলিশের বিবরণের উপর সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের তরফ থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে, তদন্তের জন্য অভিযুক্তদেরকে নিয়ে যাওয়া হলে তাদের হাতে কেন হাতকরা ছিল না! মানবাধিকার কমিশন একটি টিম পাঠিয়ে গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখতে চায় বলেও জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘৃণ্য ঘটনার ফলে সমাজের মধ্যে যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল, পুলিশের পদক্ষেপে সমাজের অধিকাংশ মানুষের মধ্যেই ন্যায় বিচারের মতো অনুভূতি হচ্ছে। এছাড়াও অভিযুক্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের দেহ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তও প্রমাণ করে, সাধারন জনগনের নজরে ঘটনাটা কতটা ন্যক্কারজনক ছিল। তাই পুলিশ যে কাজ করেছে, তাতে আগামী দিনে সমাজের মধ্যে ঠিক কি বার্তা যায়! সেদিকেই চোখ থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!