এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > সবং উপনির্বাচনে জয়ের পর মুকুল রায়কে কি ‘উপহার’ দিল শাসকদল?

সবং উপনির্বাচনে জয়ের পর মুকুল রায়কে কি ‘উপহার’ দিল শাসকদল?

কিছুদিন দলের উপর একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন একদা শাসকদলের অঘোষিত দুনম্বর মুকুল রায়। প্রবল উৎসাহ-উদ্দীপনায় তাঁকে বিজেপিতে বরণ করে নেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। আর তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েই নিজের পুরোনো দলের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আনার পাশাপাশি দল ভাঙ্গানোর কাজও শুরু করেন, যা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি রীতিমত সরগরম হয়ে ওঠে। এর মাঝেই সবং উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়, যেখানে মুকুলবাবু ঘোষণা করেন বিজেপি এই নির্বাচনে জয়ের জন্যই লড়তে নামছে। ফলে নতুন মাত্রা পায় এই উপনির্বাচন।
সবং উপনির্বাচনের দিন বিরোধীরা শাসকদলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ নিয়ে এলেও পরে নির্বাচন কমিশন সেইসব অভিযোগ স্ক্রুটিনি করে জানিয়ে দেয়, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। অন্যদিকে আজ সকাল থেকেই ইভিএম খুলতেই দেখা যায় তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যবধান লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি রাউন্ডের শেষেই দেখা যায় বিজেপি দ্বিতীয় নয় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। আর তাই এই জোড়া খুশির খবরে ক্রমশ মুখের হাসি চওড়া হতে থাকে শাসকদলের নেতাদের। মুকুল রায় যে কোনো ‘ফ্যাক্টর’ নয় এটাই ছিল তাঁদের শারীরি ভাষা।
আর সবং নির্বাচনে জয়ী প্রার্থী হিসাবে গীতারানি ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা হতেই রাজ্যজুড়ে আনন্দে মেতে ওঠেন শাসকদলের সমর্থকেরা। উচ্ছ্বসিত কাঁচরাপাড়া-বীজপুরের তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরাও, উচ্ছ্বাসের বশে মুকুল রায়ের বাড়ির সামনে দিয়ে রীতিমতো ব্যান্ড বাজিয়ে বিজয় মিছিল করলেন তাঁরা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে। স্থানীয় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের দাবি আসলে সবং কেন্দ্রে বিজেপির পরাজয় মানে মুকুল রায়ের পরাজয়। তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে যাওয়ার পর এটাই তাঁদের তরফ থেকে মুকুলবাবুকে ‘উপহার’ বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ। তবে বিজয় মিছিলে শুধু উচ্ছ্বাস প্রকাশই নয়, বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার মুকুল রায়ের নামে ‘গদ্দার’ স্লোগানও দিতে থাকেন কাঁচরাপাড়ার তৃণমূল সমর্থকরা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে। এমনকি ‘গলি গলি মে শোর হ্যায়, মুকুল রায় চোর হ্যায়’ ই স্লোগানও শোনা যায় তাঁদের গলায় বলে জানা যাচ্ছে। তবে এই ব্যাপারে মুকুল রায়ের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায় নি।

আপনার মতামত জানান -
Top