এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > আজ ঘরে ঘরে জামাইষষ্ঠী – জানেন কি কিভাবে ও কেন প্রচলিত হল এই অনুষ্ঠান?

আজ ঘরে ঘরে জামাইষষ্ঠী – জানেন কি কিভাবে ও কেন প্রচলিত হল এই অনুষ্ঠান?

আজ জামাই ষষ্ঠী – স্বাভাবিক ভাবে মনের মধ্যে জিজ্ঞাসার জন্ম হয় কিভাবে এই অনুষ্ঠানের প্রচলন হয়েছে অর্থাৎ এর ইতিহাস কি? ভারতবর্ষ তথা দক্ষিণ এশিয়ায় পুরাকালের রীতি ছিল- কন্যার বিয়ে দেওয়ার পর পিতৃঋণ মোচন স্বরূপ পুত্র সন্তান জন্ম না দেওয়া পর্যন্ত পিতা-মাতা তাঁদের বিবাহিত কন্যার মুখ দর্শন করবেন না। কিন্তু এই রীতির সমাজে একটা ভয়ঙ্কর রকম সমস্যা দেখা যেতে শুরু করলো, সেটা হলো অনেক বিবাহিত মহিলা সন্তান জন্ম দেওয়ায় অসমর্থ অর্থাৎ বন্ধ্যা হওয়ার কারণে বিয়ের পর নিজ পিতামাতার বাড়ি যাওয়া তো দুরস্থান তাঁর পিতামাতার মুখও দেখতে পেত না। আবার বিভিন্ন রোগ প্রকোপের কারণে শিশু জন্মানোর কিছু দিন পর মৃত্যুবরণ করলে সেই বিবাহিত কন্যা তাঁর পিতামাতার বা পিতামাতা তার কন্যার মুখ দেখার সুযোগও পেতো না। আবার কোনো মহিলার একাধিক সন্তানের মৃত্যু ঘটলে শশুর বাড়ী থেকে বৌমাকে অলক্ষী, অপয়া, ডাইনি ইত্যাদি অপবাদ দিয়ে বের করে দিত। ফলে সেই মহিলা রীতি বা সংস্কারের কারণে তাঁর পিতৃ-আলয়ে না পৌঁছাতে পেরে বেঘোরে প্রাণপাত করতো। এই সব সমস্যা দূর করার জন্য সমাজপতিরা একটি নতুন রীতির প্রচলন করলেন- বিদ্ধ্যবাসিনী মা ষষ্ঠীর পূজা অর্চনা করলে সন্তান কামণা যেমন পূরণ হবে ঠিক তেমনি শিশু সন্তানের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এই বিশ্বাসে মা ষষ্ঠীর পূজার প্রচলন করলেন। এই ভাবে জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্ল তিথিতে মেয়ে-জামাইকে নিমন্ত্রণ করেন এবং শাশুড়িরা মা ষষ্ঠীর নিকট পূজা-প্রার্থনা সেরে জামাইয়ের কপালে দই এর ফোঁটা দিয়ে গ্রীষ্মকালের বিভিন্ন সুমধুর ফল ও মিষ্টি ইত্যাদি খাবার পরিবেশন করেন।

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

অবশ্য জামাই ষষ্ঠীতে দুপুরের খাবারই বেশি আকর্ষণীয় হয়। পঞ্চব্যঞ্জনের সঙ্গে ঘি থেকে শুরু করে পানমশলা – সমস্ত কিছুই জামাইয়ের জন্য ব্যবস্থার ত্রুটি রাখেন না। এই ষষ্ঠীতে জামাইরাও শশুর-শাশুড়ির আশীর্বাদ নেন – সঙ্গে নতুন কাপড় দেওয়া-নেওয়া করে থাকেন। যাইহোক এই ভাবে সমাজপতিদের মাধ্যমে মেয়ে-জামাইয়ের সাক্ষাৎ পাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল এই সামাজিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। আর একটি কাহিনী থেকে জানা যায়, একটি গৃহে দুইজন বৌমা ছিল। তাঁদের মধ্যে ছোট বৌমা সমস্ত সুস্বাদু খাবার-দাবার লুকিয়ে খেয়ে নিতেন এবং শাশুড়িকে জানাতেন যে সমস্ত খাবার বিড়ালে খেয়ে নিয়েছে। ফলে বিড়াল ক্ষুণ্ন হন – শাস্ত্রমতে বিড়াল হলো মা ষষ্ঠীর বাহন। তাই বিড়াল মিথ্যে অপবাদের জন্য মা ষষ্ঠীর কাছে দোষী ছোট বৌমার শাস্তি কামণা করলেন। ফলস্বরূপ মা ষষ্ঠী মিথ্যেভাষিনী বৌমার সাতটি পুত্র সন্তান সহ একটি কন্যা প্রাণ নিয়ে ছিলেন। আটটি মৃত সন্তান জন্ম দেওয়ায় শাশুড়ি তাঁর বৌমাকে তাড়িয়ে দিলেন। এরপর বৌমা বনবাসে একাকী দুঃখ-কষ্টে দিন যাপন করলে মা ষষ্ঠী এক বৃদ্ধার রূপ ধারণ করে বৌমার দুঃখের কারণ কারণ জানলেন এবং বৌমার কৃতকর্মের ভুল মনে করে দিয়ে পূজার মধ্য দিয়ে মা ষষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে বলেন। এরপর ঐ বৌমা মা ষষ্ঠীকে সন্তুষ্ঠ করলে মৃত আট সন্তানের প্রাণও ফিরে পান। এই ভাবেই ষষ্ঠী মাতার পূজার প্রচলন হয়। অবশ্য মা ষষ্ঠী থেকে কীভাবে জামাই ষষ্ঠী নামকরণ হলো সে নিয়ে বিস্তর বিতর্ক আছে। উল্লেখ্য মা ষষ্ঠীকে অনেকে বনদেবী বা অরণ্য ষষ্ঠী হিসেবে পূজাও করে থাকেন।

– আব্দুল আলীম সেখ
সমাজসেবক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!