এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > হেভিওয়েট পুরসভায় চরমে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব – চূড়ান্ত অস্বস্তিতে তৃণমূল

হেভিওয়েট পুরসভায় চরমে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব – চূড়ান্ত অস্বস্তিতে তৃণমূল

Priyo Bandhu Media

যত সময় যাচ্ছে, ততই যেন জটিল পরিস্থিতি হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত মালদহের ইংরেজবাজার পৌরসভার। লোকসভা নির্বাচনের খারাপ ফলাফলের পর দলীয় স্তরে দ্বন্দ্ব কমানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও এই পৌরসভায় শাসকদলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব যেন কমছে না কিছুতেই।

জানা গেছে, বর্তমানে এই পৌরসভার চেয়ারম্যান নীহার রঞ্জন ঘোষের সঙ্গে একাধিক কাউন্সিলরের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আর এর ফলেই তৈরি হয়েছে সমস্যা। যার জেরে সেই নীহার রঞ্জন ঘোষের বদলে নতুন চেয়ারম্যান ইংরেজবাজার পৌরসভায় হতে পারে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। বস্তুত, গত 2005 সাল থেকেই বাম ও কংগ্রেসের সমর্থনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর পদে জিতে আসছিলেন নীহার রঞ্জন ঘোষ।

আর এরপরই প্রথমে এক বছরের জন্য ইংরেজবাজার পৌরসভার তিনি চেয়ারম্যান হন। পরবর্তীতে 2016 সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন তিনি। তবে 2016 নভেম্বর মাসে সিপিএমের একদল কাউন্সিলরকে সাথে নিয়ে তৃণমূলে যোগ দেন নীহার রঞ্জন ঘোষ।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

আর নীহার রঞ্জন ঘোষকে স্বাগত জানাতে তার পুরস্কার স্বরূপ কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীকে ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে সেখানে নীহার ঘোষকে বসিয়ে দেয় তৃণমূল। আর এরপর থেকেই কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী এবং নীহার রঞ্জন ঘোষের মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছিল।

কিছুদিন আগেই পৌরসভায় এই দুই নেতা বাদানুবাদ এবং ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বলেও জানা যায়। আর এবার এই ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে নীহার রঞ্জন ঘোষকে সরাতে কাউন্সিলরদের একাংশ তৎপর হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেল। ইতিমধ্যেই নীহার ঘোষের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে দেখা গেছে সেই ইংরেজবাজার পৌরসভার একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলরকে।

এদিন এই প্রসঙ্গে এই পৌরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলের সদস্য আশিস কুন্ডু বলেন, “পৌরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জমি যে পদ্ধতিতে চেয়ারম্যান কার্যত একার সিদ্ধান্তে কিনেছেন, তা সরকারের পুরো আইন বিরোধী। বোর্ড অফ কাউন্সিলের বৈঠক তো দূর অস্ত, চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলের বৈঠকেও এই ব্যাপারে আলোচনা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।”

অন্যদিকে চেয়ারম্যানের কর্মপদ্ধতি নিয়ে সকলেই অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন এই পৌরসভার আরেক কাউন্সিলর সুব্রত সরদার। তবে নীহাররঞ্জন ঘোষের বিরুদ্ধে ইংরেজবাজার পৌরসভার কাউন্সিলররা সরব হলেও তারা এখন এই পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। যদিও বা এই ব্যাপারটি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন সেই দুলাল বাবু।

এদিন তিনি বলেন, “সংবাদমাধ্যম বিষয়টাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি দেখাচ্ছে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী নাগরিকদের পরিষেবা দেওয়া। পুর প্রশাসন চালাতে গিয়ে কিছু বিষয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে দু-একজন কাউন্সিলারের মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু এটা এমন কোনো বিষয় নয়। আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ।”

তাহলে কি এবার নীহাররঞ্জন ঘোষকে ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে! এদিন এই ব্যাপারে নীহারবাবুর অনুগামী এক কাউন্সিলর বলেন, দেখুন না শেষ পর্যন্ত কি হয়। যারা পৌরসভায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন, আমাদের নজর তাদের উপর রয়েছে।

তবে যে যাই বলুন না কেন, এই ব্যাপারে নিহার ঘোষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কিন্তু যেভাবে ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কাউন্সিলরদের ক্ষোভ জমা হতে শুরু করেছে, তাতে এই পৌরসভায় কার্যত সিঁদুরে মেঘ দেখছে রাজ্যের শাসকদল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!