এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > সরকারি পদ ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যাওয়ার জল্পনা চরমে নিয়ে গেলেন উত্তরবঙ্গের হেভিওয়েট নেতা, ‘ব্যক্তিগত স্বার্থের’ অভিযোগ তৃণমূলের

সরকারি পদ ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যাওয়ার জল্পনা চরমে নিয়ে গেলেন উত্তরবঙ্গের হেভিওয়েট নেতা, ‘ব্যক্তিগত স্বার্থের’ অভিযোগ তৃণমূলের

জল্পনা বাড়িয়ে কামতাপুরি ভাষা অ্যাকাডেমির ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপির দিকে পা বাড়ালেন কামতাপুর প্রগ্রেসিভ পার্টির নেতা অতুল রায়। ব্যক্তিগত স্বার্থেই বিজেপিমুখী হয়েছেন নেতা, এমনটাই অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের।

অন্যদিকে, অতুল বাবুর বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানোর নেপথ্যে আর্থিক সুযোগ সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দিতে রাজি নন জলপাইগুড়ির সাংসদ বিজয় চন্দ্র বর্মন। ব্যক্তিগত স্বার্থে কামতাপুরি ভাষা অ্যাকাডেমির ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে উত্তরবঙ্গের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, এমনটাই অভিযোগ অতুলবাবুর বিরুদ্ধে।

বিজয়বাবু আরও বলেন, দলের প্রতি এই বিশ্বাসঘাতকতাকে মানুষ ভালো চোখে দেখবে না, এমনটাই দাবী তৃণমূলের। তবে লোকসভা ভোটের আগে এভাবে দলত্যাগ করে অতুলবাবুর বিজেপির দিকে এগোনোর ব্যাপারটা যে শাসকদল ঠিকভাবে মেনে নিলেন না, তা তৃণমূল নেতাদের বক্তব্যেই স্পষ্ট হল এদিন।

যদিও অতুল বাবুর বক্তব্য, ২০১৪ সালে শর্তসাপেক্ষে বিজেপিকে সমর্থন করেছিলেন তিনি। এবারের শীতকালীন অধিবেশনে পার্লামেন্টে কেন্দ্র সরকার কামতাপুরি ভাষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেবে, এমনটাই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তাই ৭ ডিসেম্বর কোচবিহারে জাতীয় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি।

এর পাশাপাশি তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সমস্ত জল্পনাই মিথ্যা বলে বক্তব্যে জানালেন। আরো বললেন, ইচ্ছেবশত তাঁর নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নীতিগত কারণেই তিনি কামতাপুরি ভাষা অ্যাকাডেমির ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন এটাও স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন এদিন।

রাজনৈতিক সূত্রের খবর থেকে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই বিজেপির সঙ্গে
কামতাপুর প্রগ্রেসিভ পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অতুল রায়ের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জলঘোলা হয়েছে রাজনৈতিকমহলে। সেই অতুলবাবুকে কোচবিহারে অমিত শাহের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যাবে – এই খবর চাউর হতেই উক্ত জল্পনায় হাওয়া লাগে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

অতুলবাবুর বক্তব্য, ২০১৪ সালে কামতাপুরি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবীর শর্ত সাপেক্ষে তিনি বিজেপিকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বহুদিন পর্যন্ত সেই দাবী উপেক্ষিত থাকে। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে সমর্থন করেন, এটাও জানান তিনি। এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে কামতাপুরি ভাষা অ্যাকাডেমির ভাইস চেয়ারম্যান পদে বসান।

রাজ্যসরকার তাকে গাড়ি এবং জ্বালানি দিতে চাইলেও তা গ্রহন করেননি তিনি। এরপর কামতাপুরি ভাষা অ্যাকাডেমি সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল গত ২ ডিসেম্বর দিল্লিতে যান, তাঁদের পূর্ব পরিকল্পিত দাবীদাওয়া সম্পর্কে কেন্দ্রের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে। জাতীয় বিজেপি সুপ্রিমো সেই দাবী পূরণের আশ্বাস দেন।

৭ ডিসেম্বর রথযাত্রার সূচনা করতে অমিত শাহ কোচবিহার আসবেন। সেখানেই সংগঠনের দাবী পূরণের বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শাহ। সেজন্যেই অতুলবাবু অমিত শাহের সভায় উপস্থিত থাকবেন বলে জানালেন।

এদিকে, অতুলবাবু জলপাইগুড়ি জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিকের মাধ্যমে কামতাপুরি ভাষা অ্যাকাডেমির ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগপত্র অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন। তবে এভাবে লোকসভা ভোটের আগে অতুলবাবুর ইস্তফাপ্রদানকে ভালো চোখে দেখছে না তৃণমূল।

এর নেপথ্যে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দূরভিসন্ধি রয়েছে অতুলবাবুর, এমনটাই সন্দেহ রয়েছে তৃণমূলের। যদিও এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলার কার্যকরী সভাপতি বিজয় বর্মন বলেন, “মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন। অতুলবাবুর ওই পদত্যাগে কোনও প্রভাবই পড়বে না।” অতুলবাবুর হঠাৎ করে এই ইস্তফা দানের ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে জোড়াফুল শিবিরে, এমনটাই খবর দলীয় সূত্রের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!