এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > হেভিওয়েট নেতার ‘দুর্নীতি’ প্রমানে নথি সংগ্রহ শুরু দলের অন্দরেই! বাড়ছে শাসকদলের অস্বস্তি

হেভিওয়েট নেতার ‘দুর্নীতি’ প্রমানে নথি সংগ্রহ শুরু দলের অন্দরেই! বাড়ছে শাসকদলের অস্বস্তি

প্রায় বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান নীহাররঞ্জন ঘোষের বিরুদ্ধে অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে অনাস্থা আনতে উদ্যোগী হয় সেই পৌরসভারই তৃণমূল কাউন্সিলররা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার উপক্রম দেখা দিতে শুরু করে।

কিন্তু তা সত্ত্বেও কোনোমতে দলীয় কাউন্সিলরদের ক্ষোভকে উপশম করতে মাঠে নামতে দেখা যায় তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বকে। যার ফলে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও নিজেদের বাগে আসে। তবে পরিস্থিতি আবার বিপথে পরিচালিত হতে পারে জেনে কাউন্সিলরদের ক্ষোভকে প্রশমিত করতে সম্প্রতি এক বৈঠকে সেই পৌরসভা নিয়ে তদন্ত কমিটির কথা ঘোষণা করে জেলা নেতৃত্ব।

অনেকেই বলছেন, ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান নীহার রঞ্জন ঘোষের বিরুদ্ধে তদন্ত করতেই এই তদন্ত কমিটি। আর এবার সেই চেয়ারম্যানকে বেকায়দায় ফেলতে দলের পাঠানো তদন্ত কমিটিকেই হাতিয়ার করছেন ইংলিশবাজার পুরসভার বিদ্রোহী কাউন্সিলাররা।

সূত্রের খবর, চেয়ারম্যান নীহাররঞ্জন ঘোষকে নাস্তানাবুদ করতে বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলররা তলে তলে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছেন। জানা গেছে, তদন্ত কমিটি জেলায় পা রাখলেই এই ব্যাপারে তাঁরা পদক্ষেপ নেবেন। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঠিক কী কী নথি তুলে ধরা হবে তদন্তকারীদের সামনে, আপাতত তার চূড়ান্ত হিসাবনিকাশ চলছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

এদিন এই প্রসঙ্গে ইংরেজবাজার পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল সরকার বলেন, “বোর্ড মিটিং না করে কীভাবে অর্থ খরচ হয়েছে তা নিয়ে যাতে কমিটির সদস্যরা তদন্ত করে তা আমরা দেখব।” অন্যদিকে এই ব্যাপারে পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে অভিযোগপত্র জেলা সভানেত্রী ও জেলার দলীয় পর্যবেক্ষকের কাছে জমা দিয়েছি। তদন্ত কমিটি ডাকলে আমি তাদের সামনে হাজির হব।এব্যাপারে কমিটিকে সহযোগিতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্যও দেব।”

 

তবে দলের একাংশ বিদ্রোহী কাউন্সিলার তার বিরুদ্ধে ঘুটি সাজালেও তাতে পাত্তা দিতে নারাজ ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান নীহার রঞ্জন ঘোষ। এদিন এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সাত মাস আগে পুরসভার শেষ বোর্ড মিটিং হয়। বোর্ড মিটিং ডাকলেই কয়েকজন কাউন্সিলর পরিকল্পনামাফিক তা পণ্ড করে দেন। বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য আমি বোর্ড মিটিং ডাকিনি। তবে যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ‘চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল’ বা সিআইসি-র সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হয়। এবছর বাজেট পেশের তিন দিনের মধ্যে লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যায়। ফলে বোর্ড মিটিং ডাকার সময় পাইনি। এদিকে, বাজেট পেশ না হলে সরকারি টাকা খরচের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা খরচের জন্য চাপ দিচ্ছিল। বাধ্য হয়ে আমরা বাজেট প্রস্তাব পুরদপ্তরে পাঠিয়ে দিই। সেখান থেকে কোনও আপত্তি করা হয়নি। ফলে আমি কাজ করে চলেছি।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই এই ইংলিশবাজার পুরসভায় ‘সাপ-লুডো’ খেলা চলছে। চেয়ারম্যানের সঙ্গে অন্যান্য কাউন্সিলারদের টানাপোড়েন যেন এই পুরসভার ভবিতব্য হয়ে উঠেছে। নীহার ঘোষের পূর্বসূরীদের সঙ্গে কাউন্সিলারদের বনিবনা না হওয়ার বিষয়টি এখনও আলোচিত হয়। পুরসভার মধুর ভাণ্ডার কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের তীব্র দড়ি টানাটানি হয়। চেয়ারম্যানরা কাউন্সিলারদের এড়িয়ে কর্তৃত্ব নিজের দখলে রাখতে শুরু করেন।

অন্যদিকে কাউন্সিলাররাও সুযোগ বুঝে চেয়ারম্যানকে পদ থেকে সরাতে উঠেপড়ে লাগেন। ফলে উপরে উপরে হেসে কথাবার্তা বললেও ভিতরে দুই পক্ষের সম্পর্ক আদায়-কাঁচকলায় হয়ে যায়। গত আগস্ট মাসেই এই পৌরসভার চেয়ারম্যান নীহার রঞ্জন ঘোষের বিরুদ্ধে এই পুরসভার সিংহভাগ তৃণমূল কাউন্সিলার বিদ্রোহ ঘোষণা করে জোটবদ্ধ হয়ে অনাস্থা আনেন। অনাস্থাপত্রে সই করা কাউন্সিলারদের মধ্যে কয়েকজনের আবার একে অপরের সঙ্গে ‘সাপে-নেউলে’ সম্পর্ক ছিল।

কিন্তু ‘শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু’ এই আপ্তবাক্য মেনে তাঁরা নীহারবাবুর বিরুদ্ধে একজোট হয়েছিলেন। বর্তমানে দলের নির্দেশে বাকিরা নরম হলেও এক কাউন্সিলর নীহারবাবুকে পদ থেকে সরাতে উঠেপড়ে লেগেছেন। তাঁর সঙ্গে নীহারবাবুর বৈরিতা সম্প্রতি শহরে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। অথচ ওই কাউন্সিলরের সঙ্গে বর্তমান চেয়ারম্যানের একসময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। দুই নেতা একজোট হয়ে রাজনীতির ময়দান কাঁপিয়েছিলেন।

এদিকে বর্তমানে তৃণমূলের এই অন্তর্কলহের সুযোগে বিরোধীরা ইংলিশবাজার পুরসভা দখলের ছক কষছে বলেও জানা গিয়েছে। আর ইংরেজবাজার পৌরসভার তৃণমূলের কাউন্সিলররা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কার্যত একজোট হয়ে যাওয়ায় এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ বলছেন যে, যদি এই ইংরেজবাজার পৌরসভা তৃণমূল নিজেদের দখলে রাখতে চায়, তাহলে অবিলম্বে শাসক দলের নেতারা কঠোর না হলে তৃণমূলকে যে আগামী পুর নির্বাচনে বেগ পেতে হবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!